📌 জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান দুর্নীতির পেছনে রয়েছে রাষ্ট্র ও প্রভাবশালী ধনিক গোষ্ঠীর জোট। তিনি বলেছেন, এই জোট ভাঙা ছাড়া ব্যাংকিং নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানও এই সমস্যার সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান দুর্নীতির মূল কারণ হিসেবে রাষ্ট্র ও প্রভাবশালী ধনিক গোষ্ঠীর জোটকে চিহ্নিত করেছেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেছেন, এই জোট ছিন্ন না করা পর্যন্ত ব্যাংকিং নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিআইবিএম আয়োজিত ‘ব্যাংকিংয়ে নৈতিকতা’ শীর্ষক ২৩তম নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতায় তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩২% ঋণখেলাপি** কারণে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ঘূর্ণায়মান তহবিলের ৭০% বাজারে আটকে গেছে
- 📌 **৮টি ব্যাংক** (এক্সিম, ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ন্যাশনাল, আইএফআইসি, ফার্স্ট সিকিউর, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী) নিয়ন্ত্রকদের চোখের সামনে নিয়মকানুন ভাঙছে
- 📌 **রাষ্ট্র ও ধনিক গোষ্ঠীর জোট** ছিন্ন না করা পর্যন্ত ব্যাংকিং নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে সম্ভব নয়: মাহবুব উল্লাহ
- 📌 **ব্যাংক কোম্পানি আইন** পরিবর্তন করে খেলাপিদের ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা আইনের পরিবর্তে শাসকদের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে
- 📌 **বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান** বলেছেন, একক পরিবার বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ সীমিত করে ব্যাংককে সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা দরকার
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘ব্যাংকিংয়ে নৈতিকতা’ শীর্ষক ২৩তম নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতায় জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান দুর্নীতির মূল কারণ হলো রাষ্ট্র ও প্রভাবশালী ধনিক গোষ্ঠীর জোট। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই জোট ছিন্ন না করা পর্যন্ত ব্যাংকিং নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে সম্ভব নয়।
মাহবুব উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে ৩২ শতাংশের বেশি ঋণখেলাপি হওয়ায় ব্যাংক খাতের ঘূর্ণায়মান তহবিলের ৭০% বাজারে আটকে গেছে। সহজ কথায়, আমানতকারীদের রাখা প্রতি ৩ টাকার ১ টাকাই বাজারে ফিরে আসছে না। তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত থেকে যে বিশাল অঙ্কের অর্থ বেহাত হয়েছে, তার ফলে অনেকগুলো ব্যাংক শূন্য হয়ে পড়েছে। ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক দুর্দশায় পড়েছে এবং আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না।
মাহবুব উল্লাহ উল্লেখ করেছেন, ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ লোপাট করার জন্য আঁতাত বা নেক্সাস গড়ে উঠেছিল। এই নেক্সাসে ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তাব্যক্তি, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও লুটেরা ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, এই আঁতাত না থাকলে ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা সম্ভব হতো না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, মাহবুব উল্লাহের প্রশ্নটি গভীর। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীস্বার্থের সেই বন্ধন ভাঙার প্রথম পদক্ষেপ হলো একক পরিবার বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ সীমিত করা, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পর্ষদ থেকে সরিয়ে দেওয়া ও অর্জিত সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আইনিভাবে প্রমাণ করা। এসব কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।’
"ব্যাংক কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়; বরং তা সমাজ ও রাষ্ট্রের অগণিত আমানতকারীর সম্পদ। এ দর্শন বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"
বক্তারা বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নিয়মকানুন নয়, রাষ্ট্র ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর যোগসূত্র ভাঙতে হবে। মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে স্বজন তোষণের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি সর্বব্যাপক এবং এমন অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিপক্ব পুঁজিবাদের উপযোগী ব্যাংকিং নৈতিকতা কার্যকর হবে না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিআইবিএম মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩তম নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতা, ৩২ শতাংশ ঋণখেলাপি, ৩ টাকার মধ্যে ১ টাকা বাজারে ফিরে আসছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!