📌 কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্র সিটিজেন ল্যাব ইসরায়েলের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিজ্ঞাপনকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী জিরো-ক্লিক স্পাইওয়্যার ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। বিজ্ঞাপন দেখার সময়ই ব্যবহারকারীদের যন্ত্রে গোপনে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করতে পারে, যা ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও আক্রান্ত করেছে
বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের যন্ত্রে গোপনে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করানো হচ্ছে, এমন একটি জিরো-ক্লিক হামলার প্রমাণ পেয়েছে কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্র সিটিজেন ল্যাব। এই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীরা কোনো লিংক ক্লিক না করলেও তাদের যন্ত্রে স্পাইওয়্যার ইনস্টল হতে পারে, যা ব্যক্তিগত তথ্য চুরির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জিরো-ক্লিক স্পাইওয়্যার**: বিজ্ঞাপন দেখার সময়ই ব্যবহারকারীদের যন্ত্রে গোপনে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করতে পারে, কোনো ক্লিক বা পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না
- 📌 **ইসরায়েলের বিজ্ঞাপনী সংস্থা**: ডিসকভার-টেক নামের সংস্থার বিজ্ঞাপনকে কাজে লাগিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে
- 📌 **আক্রান্ত প্রতিষ্ঠান**: ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নেটওয়ার্ক, জাতিসংঘ, ন্যাটো, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা
- 📌 **কাতারে আক্রান্ত যন্ত্র**: আল-জাজিরার কয়েক ডজন যন্ত্র এ ধরনের স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে
- 📌 **হামলার সময়কাল**: মাত্র কয়েক সেকেন্ডে সম্পন্ন হয় পুরো প্রক্রিয়া
📰 বিস্তারিত
স্পাইওয়্যার মূলত একধরনের ম্যালওয়্যার, যা স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে প্রবেশ করে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে সাইবার অপরাধীদের কাছে পাঠাতে পারে। এবার কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন ল্যাবের গবেষকরা ইসরায়েলের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিজ্ঞাপনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এই হামলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন। গবেষকদের তথ্যমতে, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের যন্ত্রে গোপনে স্পাইওয়্যার ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীরা কোনো লিংকে ক্লিক না করলেও তাদের যন্ত্রে স্পাইওয়্যার ইনস্টল করা সম্ভব।
সিটিজেন ল্যাবের গবেষক বিল মারচাক বলেছেন, অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর যন্ত্রে সাইবার হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে এবারই প্রথম এই প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের কাছে এসব বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হয়েছে। একইভাবে জাতিসংঘ, ন্যাটো, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের কাছেও বিজ্ঞাপনগুলো পৌঁছেছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কনফিয়েন্টের গবেষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের বিজ্ঞাপনগুলো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্কে আক্রমণাত্মক স্পাইওয়্যার ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার কয়েক ডজন যন্ত্র এ ধরনের স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে।
"অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর যন্ত্রে সাইবার হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে এবারই প্রথম এই প্রমাণ পাওয়া গেছে।"
— বিল মারচাক, সিটিজেন ল্যাবের গবেষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কানাডা (টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়), ইসরায়েল (বিজ্ঞাপনী সংস্থা), ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার (আল-জাজিরা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিল মারচাক (সিটিজেন ল্যাবের গবেষক), সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কনফিয়েন্টের গবেষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: কয়েক ডজন (আল-জাজিরার আক্রান্ত যন্ত্র), মাত্র কয়েক সেকেন্ড (হামলার সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!