📌 ইসরায়েলের গোপন নথি ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, গাজায় কাতার থেকে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পেছনে ইসরায়েলের সরাসরি ভূমিকা ছিল। হামাসকে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা কাতারের অর্থসহায়তা চালিয়ে যেতে গোপনে সহযোগিতা করছিলেন
গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পেছনে ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতা প্রকাশ পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’-এর তদন্তে উন্মোচিত হয়েছে, কাতার থেকে গাজায় পাঠানো অর্থসহায়তা ব্যবস্থায় ইসরায়েলের সরাসরি হাত ছিল। হামাসকে অর্থসহায়তা দিচ্ছে কাতার, কিন্তু ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতা ছাড়া এই ব্যবস্থা চালানো সম্ভব হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলের গোপন নথি ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, গাজায় কাতার থেকে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পেছনে ইসরায়েলের সরাসরি ভূমিকা ছিল।
- 📌 ২০২০ সালের একটি চিঠিতে তৎকালীন মোসাদ প্রধান ইয়োসি কোহেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছিলেন, এই সহায়তা গাজার মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
- 📌 ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা (আর. এল. মাওজ) কাতারকে অনুরোধ করেছিলেন, অনুদান সরাসরি কাতার কমিটির চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-এমাদীর মাধ্যমে পাঠানো হয়।
- 📌 ২০১৮ সালে কাতার লিখিত প্রমাণ দাবি করেছিল যে, ইসরায়েলের সম্মতি ছাড়া এই সহযোগিতা সম্ভব নয়।
- 📌 ২০২১ সালের আগস্টে কাতার ৪০ মিলিয়ন ডলার (৪ কোটি ডলার) অনুদান দিয়েছিল, যার মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ফিলিস্তিনি পরিবারকে প্রতি মাসে ১০০ ডলার সাহায্য দেওয়া হত।
- 📌 ইসরায়েল নিজে বাছাই করে ২০ হাজার পরিবারের জন্য ৬০ লাখ ডলার (প্রতি পরিবার ৩০০ ডলার) সহায়তা পাঠিয়েছিল।
- 📌 কাতার জানিয়েছে, যদি কোনোভাবে এই টাকা হামাসের হাতে যায়, তাহলে দায় ইসরায়েলের।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের ‘টাইম’ সাময়িকী একটি বিশদ তদন্তে প্রকাশ করেছে যে, গাজায় কাতার থেকে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পেছনে ইসরায়েলের সরাসরি সহযোগিতা ছিল। হামাসকে অর্থসহায়তা দিচ্ছে কাতার, কিন্তু ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতা ছাড়া এই ব্যবস্থা চালানো সম্ভব হয়নি। তদন্তে উন্মোচিত হয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা কাতারের অর্থসহায়তা চালিয়ে যেতে গোপনে সহযোগিতা করছিলেন।
২০২০ সালের একটি চিঠিতে তৎকালীন মোসাদ প্রধান ইয়োসি কোহেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছিলেন, “গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর এই ব্যবস্থাটি গাজার মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
২০১৮ সালের ২ অক্টোবর গাজায় জ্বালানি কেনার টাকা দেওয়ার জন্য ইসরায়েল, কাতার ও জাতিসংঘের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২১ সালের আগস্টে কাতার একটি নতুন প্রকল্পে ৪০ মিলিয়ন ডলার (৪ কোটি ডলার) অনুদান দিয়েছিল। এই অনুদানের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ফিলিস্তিনি পরিবারকে প্রতি মাসে ১০০ ডলার সাহায্য দেওয়া হত।
তদন্তে দেখা যায়, ইসরায়েল নিজে বাছাই করে ২০ হাজার পরিবারের জন্য ৬০ লাখ ডলার (প্রতি পরিবার ৩০০ ডলার) সহায়তা পাঠিয়েছিল। এই সহায়তা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত পরিবারগুলোর কাছে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হত। কাতার জানিয়েছে, যদি কোনোভাবে এই টাকা হামাসের হাতে যায়, তাহলে দায় ইসরায়েলের।
“গাজার সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জন্যই কাতারের সব অনুদান পাঠানো হয়েছিল। পুরো কাজটি পরিচালিত হয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা উপত্যকা, কাতার, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়োসি কোহেন (মোসাদ প্রধান), শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি (কাতার আমির), মোহাম্মদ আল-এমাদী (রাষ্ট্রদূত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ মিলিয়ন ডলার (৪ কোটি), ১ লাখ পরিবার, ১০০ ডলার, ২০ হাজার পরিবার, ৬০ লাখ ডলার, ৩০০ ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!