📌 যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের হাজার হাজার কর্মকর্তা ও আবেদনকারীর সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি করেছে হ্যাকার দল শাইনিহান্টার্স। তারা দাবি করেছে, তাদের কাছে ১০ হাজারাধিক ব্যক্তির তথ্য রয়েছে এবং এফবিআইকে সপ্তাহের মধ্যে তথ্য ফাঁস না করলে আরও হুমকি দিচ্ছে। এফবিআই তদন্ত করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) হাজার হাজার কর্মকর্তা ও আবেদনকারীর সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য চুরির দাবি করেছে হ্যাকার দল ‘শাইনিহান্টার্স’। গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তারা এ দাবি জানিয়েছে এবং এফবিআইকে সপ্তাহের মধ্যে তথ্য ফাঁস না করলে আরও হুমকি দিচ্ছে। এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল এবং সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ব্রেট লেদারম্যানকে লক্ষ্য করে তারা অনলাইনে বার্তা পোস্ট করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘আমরা এফবিআইয়ের নিরাপত্তাবলয় ভেদ করেছি’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হ্যাকার দল শাইনিহান্টার্স দাবি করেছে, তাদের কাছে এফবিআইয়ের ১০ হাজারাধিক কর্মকর্তা ও আবেদনকারীর সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নাম, স্থায়ী ঠিকানা, ফোন নম্বর, স্বামী-স্ত্রীর নাম, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত ডেটা।
- 📌 হ্যাকাররা দাবি করেছে, এফবিআই তাদের কৌশল সম্পর্কে সতর্ক করে জারি করা মার্চ-মে মাসের বিজ্ঞপ্তি ‘সংশোধন বা সম্পূর্ণরূপে অপসারণ’ করতে হবে, অন্যথায় তারা আরও গুরুতর পদক্ষেপ নেবে।
- 📌 এফবিআইয়ের চাকরির ওয়েবসাইট এফবিআইজবস ডট জিওভি বুধবার সকালে অ্যাক্সেসযোগ্য ছিল না। আগের দিন সাইটের হোমপেজে একটি ব্যানার ছিল, যেখানে লেখা ছিল ‘এই সাইটটি শাইনিহান্টার্স দখল করেছে’।
- 📌 এফবিআই মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংস্থাটি এই দাবির বিষয়ে অবগত এবং তদন্ত চালাচ্ছে। তবে তথ্য ফাঁসের মূল উৎস কোথায় তা এখনো স্পষ্ট নয়—কোনো থার্ড পার্টি নাকি এফবিআইয়ের নিজস্ব সংস্থা।
- 📌 সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই তথ্য চুরি এফবিআইয়ের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং চীন, রাশিয়া বা ইরানের মতো দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই তথ্য ব্যবহার করে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাতে পারে।
📰 বিস্তারিত
শাইনিহান্টার্সের দাবি অনুযায়ী, তাদের কাছে এফবিআইয়ের বর্তমান ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি চাকরির আবেদনকারীদের সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে। এতে রয়েছে কর্মকর্তাদের নাম, স্থায়ী ঠিকানা, ফোন নম্বর, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, নির্দিষ্ট চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত ডেটা। তবে হ্যাকার দলটি এখনো এসব তথ্য প্রকাশ্যে ফাঁস করেছে বলে মনে হয় না।
এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল এবং সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ব্রেট লেদারম্যানকে উদ্দেশ্য করে অনলাইনে পোস্ট করা বার্তায় শাইনিহান্টার্স বলেছে, ‘আমরা এফবিআইয়ের নিরাপত্তাবলয় ভেদ করেছি। আমাদের কাছে প্রায় সব এফবিআই এজেন্ট এবং এফবিআইয়ে চাকরির আবেদনকারী ব্যক্তির অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে’। তারা আরও দাবি করেছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসের দিকে এফবিআই তাদের কৌশল সম্পর্কে সতর্ক করে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা এফবিআইকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এফবিআইয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংস্থাটি এই দাবির বিষয়ে অবগত এবং তদন্ত চালাচ্ছে। তারা বলেছেন, তথ্য ফাঁসের মূল উৎস কোথায়—কোনো থার্ড পার্টি নাকি এফবিআইয়ের নিজস্ব সংস্থা, তা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। তবে তারা সক্রিয় ও কঠোরভাবে বিষয়টি তদন্ত করছেন এবং এফবিআইজবস ডট জিওভিকে সহায়তা করা থার্ড পার্টি সেবাদাতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই তথ্য চুরি এফবিআইয়ের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। যদি এই তথ্য ডার্ক ওয়েবে পোস্ট করা হয়, তবে চীন, রাশিয়া বা ইরানের মতো দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তা হাতিয়ে নিতে পারে এবং তা দিয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাতে পারে। এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা সুমন দান্তিকি বলেছেন, ‘এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সাইবার হুমকি থেকে কেউ মুক্ত নয়। এটি গুরুতর জননিরাপত্তা ও পাল্টা গোয়েন্দা ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে’।
“আমরা এফবিআইয়ের নিরাপত্তাবলয় ভেদ করেছি। আমাদের কাছে প্রায় সব এফবিআই এজেন্ট এবং এফবিআইয়ে চাকরির আবেদনকারী ব্যক্তির অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক), চীন (বেইজিং), রাশিয়া, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্যাশ প্যাটেল (এফবিআই পরিচালক), ব্রেট লেদারম্যান (সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান), সুমন দান্তিকি (সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ), সিনথিয়া কাইজার (এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজারাধিক ব্যক্তির তথ্য, ৪০৪ মিডিয়া (সাইবার নিরাপত্তা সংবাদমাধ্যম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!