📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার গত দুই বছরে শিক্ষার্থীদের মারধর, লাইব্রেরি হামলা, মব সৃষ্টি, ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের অভিযোগে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার গত দুই বছরে শিক্ষাঙ্গনে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত হয়ে উঠেছেন। শিক্ষার্থীদের মারধর, লাইব্রেরিতে হামলা, শিক্ষক-প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাত, মব সৃষ্টি করে ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের অভিযোগে তিনি নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। সর্বশেষ রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে তিনি আলটিমেটাম দেন এবং পুলিশ সদস্যকে বহিষ্কার করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর ওপর হামলার অভিযোগে রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে আম্মার ১ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ৪ জন পুলিশ সদস্যকে বহিষ্কার করে।
- 📌 ২৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের হামলা নেতৃত্ব দেন আম্মার। সে সময় ২ জন শিক্ষার্থীকে বাঁশ দিয়ে পেটানো হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স থেকে বের করে আবার মারধর করা হয়।
- 📌 ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদ হত্যাকাণ্ডে আম্মারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান।
- 📌 ৭০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৭৬ লাখ টাকা চেয়ে ‘জুলাই ৩৬, মুক্তির উৎসব’ কনসার্ট আয়োজনের চিঠি পাঠান আম্মার।
- 📌 ২১ ডিসেম্বর ছয়টি অনুষদের আওয়ামী লীগপন্থী ডিনদের মব সৃষ্টি করে পদত্যাগে বাধ্য করেন। পদত্যাগপত্র হাতে নিয়ে তাঁদের অফিসে তালা দেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার গত দুই বছরে শিক্ষাঙ্গনে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত হয়ে উঠেছেন। গত রোববার রাতে রাজশাহী স্টেশনে রাবি শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর ওপর হামলার অভিযোগে রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তিনি। পরে রেলওয়ের চার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে বহিষ্কার করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরপরও তিনি ‘মার্চ টু রাজশাহী স্টেশন’ ঘোষণা দিয়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে স্টেশনে ভাঙচুড় চালান।
২০২৬ সালের ২৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের হামলা নেতৃত্ব দেন আম্মার। সে সময় তিনি একটি বেলচা হাতে একটি শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোরে মাইরা ফেলমু, পুইতা ফেলমু। পুইতা ফেলমু একেবারে’। পরে প্রক্টর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করলে অ্যাম্বুলেন্স থেকে বের করে আবারও বাঁশ দিয়ে সংস্কৃতি বিভাগের মাহমুদুল হাসানকে পেটানো হয়।
আম্মারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদ হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। বিনোদপুর বাজারে দুধ ও ওষুধ কিনতে গিয়ে মাসুদকে অপহরণ করে বোয়ালিয়া থানার সামনে মুমূর্ষু অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানে আম্মারের উপস্থিতি ছিল বলে ভিডিওতে দেখা যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া মাসুদকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান।
গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই ৩৬, মুক্তির উৎসব’ কনসার্ট আয়োজনের জন্য আম্মার ৭০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৭৬ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এছাড়াও গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পোষ্য কোটা’ সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। আন্দোলনের সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি, উপ-উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও এবং গাড়িতে টাকা ছোড়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
একই দাবিতে ভিসি, প্রো-ভিসিসহ দেড় শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে অবরুদ্ধ রাখার ঘটনাতেও তিনি নেতৃত্ব দেন। একই বছরের ২১ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদের আওয়ামী লীগপন্থী ডিনদের বিরুদ্ধে ‘মব সৃষ্টি করে’ জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করেন। পদত্যাগপত্র হাতে নিয়ে তাঁদের অফিসে তালা দিতেও দেখা যায় আম্মারকে।
"ছাত্রলীগ এবং তাদের মাদার সংগঠন আমার বিরুদ্ধে সব সময় তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এগুলো ছড়িয়েছে। আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ থাকলে তারা যেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন, বিনোদপুর বাজার, বোয়ালিয়া থানা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালাহউদ্দিন আম্মার, আবদুল্লাহ আল মাসুদ, মাহমুদুল হাসান, ফুয়াদ রাতুল, আমিরুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ জুলাই, ৭ সেপ্টেম্বর, ৭৬ লাখ টাকা, ৭০টি প্রতিষ্ঠান, ২১ ডিসেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!