📌 বিয়ের পাঁচ বছরেও সন্তান না হওয়ায় মানত পূরণে পীরের মাজারে যাত্রায় সিএনজি অটোরিকশা পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায় তিনজন। নিহতদের মধ্যে ছিল আঁখি আক্তার (৩০), তার ১২ বছর বয়সী ভাগনে জাকারিয়া এবং অটোরিকশা চালক জুয়েল (৪০)। টাঙ্গাইলের বাসিন্দারা এ দুর্ঘটনায় আহত হন
বিয়ের পাঁচ বছরেও সন্তান না হওয়ায় মানত পূরণে পীরের মাজারে যাত্রায় সিএনজি অটোরিকশা পিকআপ ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায় তিনজন। ধামরাই উপজেলার পশ্চিম নান্দেশ্বরী এলাকায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঘটে এই দুর্ঘটনা। নিহতদের মধ্যে ছিল আঁখি আক্তার (৩০), তার ১২ বছর বয়সী ভাগনে জাকারিয়া এবং অটোরিকশা চালক জুয়েল (৪০)। টাঙ্গাইলের বাসিন্দা এই তিনজনকে হারিয়ে পরিবার দুঃখে ডুবে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ জনের মৃত্যু: মানত পূরণে পীরের মাজারে যাত্রায় সিএনজি অটোরিকশা পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায় আঁখি আক্তার (৩০), তার ভাগনে জাকারিয়া (১২) ও অটোরিকশা চালক জুয়েল (৪০)।
- 📌 টাঙ্গাইলের পরিবার: নিহতদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইলে। আঁখির স্বামী সেলিম আহমেদ (৩৫) ও তার বাবা আবুল হোসেন (৬৫) সহ আরও চারজন আহত হন।
- 📌 মানত পূরণের যাত্রা: বিয়ের পাঁচ বছরেও সন্তান না হওয়ায় আঁখি তার স্বামী, বাবা, বোন ও ভাগনিকে নিয়ে পীরের মাজারে যাচ্ছিলেন।
- 📌 সঙ্গঘর্ষের বিস্তারিত: বিকাল ৪:৩০টার দিকে ধামরাই উপজেলার আমতা ইউনিয়নের পশ্চিম নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকায় আরবিসি ব্রিকসের পাশে পাকা সড়কে সংঘর্ষ ঘটে।
- 📌 হাসপাতালে মৃত্যু: আহতদের মধ্যে জুয়েল ও জাকারিয়া সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আঁখিকে ঢাকায় রেফার করার পথে তার মৃত্যু হয়।
📰 বিস্তারিত
বিয়ের পাঁচ বছরেও সন্তান না হওয়ায় আঁখি আক্তার (৩০) তার স্বামী সেলিম আহমেদ (৩৫), বাবা আবুল হোসেন (৬৫), বোন লাকী আক্তার (৩২) ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সাদিয়া এবং ভাগনে জাকারিয়া (১২) নিয়ে মৈনট পীরের মাজারে যাচ্ছিলেন। পথে ধামরাইয়ের নান্দেশ্বরী এলাকায় তাদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশা বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে জুয়েল (৪০), আঁখি ও জাকারিয়া গুরুতর আহত হন।
আহতদের মধ্যে জুয়েল ও জাকারিয়া সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আঁখিকে ঢাকায় রেফার করার পথে তার মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে আবুল হোসেন একসঙ্গে মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে হাসপাতালে আহাজারি করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যামু মৈনট, আমার জামাই-মেয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম পীর বাড়ির মাজারে। হঠাৎ এভাবে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। আমার ছোট মেয়ের সন্তান হচ্ছিল না। বড় মেয়ে মানত করার পর মেয়ে হয়েছিল। সেই নাতনির মানত পূরণ করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন আমার সব শেষ।’
সেলিম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বিয়ের পাঁচ বছর হয়েছে। তবে আমরা নিঃসন্তান। আমরা মৈনট পীরের বাড়ি যাচ্ছিলাম। গাড়িতে ছয় জন ছিলাম। আমি, আমার স্ত্রী, জেঠাস ও তার দুই ছেলে যাচ্ছিলাম। আমার স্ত্রী ও তার বড় ভাগনে মারা গেছে।’
"আমরা যামু মৈনট, আমার জামাই-মেয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম পীর বাড়ির মাজারে। হঠাৎ এভাবে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। আমার ছোট মেয়ের সন্তান হচ্ছিল না। বড় মেয়ে মানত করার পর মেয়ে হয়েছিল। সেই নাতনির মানত পূরণ করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন আমার সব শেষ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ধামরাই উপজেলা, পশ্চিম নান্দেশ্বরী বটতলা (আরবিসি ব্রিকসের পাশে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আঁখি আক্তার (৩০), জাকারিয়া (১২), জুয়েল (৪০), সেলিম আহমেদ (৩৫), আবুল হোসেন (৬৫)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন মৃত্যু, ৪ জন আহত, ৬ জন যাত্রী, ১২ বছর বয়সী জাকারিয়া
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!