📌 রামগড়ের শত শত কৃষকের ধানখেত বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাচ্ছে। তৈছালা খালের অবহেলা ও অবরোধের কারণে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। ৫০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত, ঋণে ডুবে যাচ্ছে তাদের চাষাবাদ। প্রশাসনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি
রামগড় পৌরসভার শত শত কৃষকের স্বপ্ন ধ্বংসের পথে। তৈছালা খালের অবহেলা ও অবরোধের কারণে বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাচ্ছে তাদের ধানখেত। প্রতি কানিতে ২০ হাজার টাকার খরচে চাষ করা ধান ফসল নষ্ট হচ্ছে, ঋণে ডুবে যাচ্ছে কৃষকদের জীবন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রামগড় পৌরসভার ৫০০ কৃষকের ধানখেত বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাচ্ছে, প্রতি কানিতে ২০ হাজার টাকার ফসল নষ্ট হচ্ছে
- 📌 তৈছালা খালের অবরোধ ও অবহেলা: পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের ৪৫ বছর পর সংস্কার হয়নি, বাঁশঝাড় ও আবর্জনা জমে পানি নিষ্কাশন বন্ধ
- 📌 ১৯৮১ সালে সংস্কার করা খালের পাশে বসতি ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে, বর্ষায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে
- 📌 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ২০২৫ সালে খাল খননের আবেদন করলেও প্রশাসন বাস্তবায়ন করেনি
- 📌 কৃষক মোহাম্মদ সোলেমান: “কিস্তিতে টাকা নিয়ে ধান চাষ করেছি, ফসল না পেলে কিস্তি কীভাবে দেব?”
- 📌 ইউএনও কাজী শামীমের সাথে যোগাযোগে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি
📰 বিস্তারিত
রামগড় পৌরসভার চৌধুরীপাড়া, পাইন্দাপাড়া, শম্প্রুপাড়া, মহামুনি, দারোগাপাড়া ও সোনাইপুলের শত শত কানি ধানখেত বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাচ্ছে। প্রতি কানিতে ২০ হাজার টাকার খরচে চাষ করা ধান ফসল নষ্ট হচ্ছে। কৃষক আফসার উদ্দীন বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই জমি তলিয়ে যায়। এবারও পানি জমে আছে। ধান চাষে যে খরচ করি, সেটাই উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে চাষ বন্ধ করে দিতে হবে।’
তৈছালা খাল, যা ধানখেতের পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের বিভিন্ন অংশ সরু ও ভরাট হয়ে গেছে। বাঁশঝাড়, মাটি-আবর্জনা জমে গেছে, স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক রাপ্রু মারমা বলেন, ‘একটু খালই আমাদের ভরসা। সেই খালটাও যদি বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে পানি যাবে কোথায়?’
১৯৮১ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান কাজী রুহুল আমিনের তত্ত্বাবধানে খাল সংস্কার করা হয়েছিল। এরপর ৪৫ বছর ধরে খালের বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। সময়ের সঙ্গে খালের দুই পাশে বসতি ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বর্ষায় এর প্রভাব পড়ছে আশপাশের ধানখেতে। গত বছর একই সমস্যার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে জমি ও খাল পরিদর্শন করেন। পরে খাল খননের আবেদন করেন ইউএনও বরাবর। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই আবেদন বাস্তবায়িত হয়নি।
কৃষক মোহাম্মদ সোলেমান বলেন, ‘কিস্তিতে টাকা নিয়ে ধান চাষ করেছি। ফসল যদি ঘরে তুলতে না পারি, তাহলে কিস্তি দেব কীভাবে? সংসার চালাব কীভাবে?’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর এভাবে ফসল নষ্ট হতে থাকলে অনেকেই ধান চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুমন মিয়া বলেন, ‘তৈছালা খাল খননের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ইউএনও বরাবর আবেদন করা হয়েছে। আমি সরেজমিনে কৃষকদের সমস্যাটি দেখেছি। খাল সংস্কার করা গেলে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।’
"বৃষ্টি হলেই জমি তলিয়ে যায়। এবারও পানি জমে আছে। ধান চাষে যে খরচ করি, সেটাই উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে চাষ বন্ধ করে দিতে হবে।"
"একটা খালই আমাদের ভরসা। সেই খালটাও যদি বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে পানি যাবে কোথায়?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রামগড় পৌরসভা (চৌধুরীপাড়া, পাইন্দাপাড়া, শম্প্রুপাড়া, মহামুনি, দারোগাপাড়া, সোনাইপুল)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আফসার উদ্দীন, রাপ্রু মারমা, মোহাম্মদ সোলেমান, মোহাম্মদ সুমন মিয়া, কাজী রুহুল আমিন, কাজী শামীম (ইউএনও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত, প্রতি কানি ২০ হাজার টাকা খরচ, খালের দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!