📌 রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের কারণে পশুপালকদের পশুর চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। কর্মচারীরাই চিকিৎসা দিচ্ছেন, যা পশুপালকদের আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের কারণে গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ১১টি পদে মাত্র ছয়জন কর্মরত থাকায় কর্মচারীরাই পশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন। পশুপালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা জাগিয়েছে এই সংকট।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পীরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ১১টি পদে মাত্র ছয়জন কর্মরত, একজন প্রশিক্ষণে থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত
- 📌 উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (কৃত্রিম প্রজনন) ও (প্রাণী স্বাস্থ্য) পদ দুটি শূন্য, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) পদে চারজনের বিপরীতে কর্মরত আছেন তিনজন (এদের একজন প্রশিক্ষণে)
- 📌 অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদ শূন্য, অফিস সহায়ক ও ড্রেসার পদে একজন করে কর্মরত
- 📌 পশুপালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও কর্মচারীদের চিকিৎসা দিতে বাধ্য হওয়ায় পশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা
- 📌 মাদারগঞ্জের রুহুল আমিন বলেছেন, “প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করছি, কিন্তু চিকিৎসক পাচ্ছি না। কর্মচারীরাই চিকিৎসা দিচ্ছেন। আমরা ২৫ কিলোমিটার দূর থেকে পশু নিয়ে এসেছি ভালো চিকিৎসার আশায়”
- 📌 রামনাথপুরের মোকছেদ আলী দাবি করেছেন, “চিকিৎসক না থাকায় কর্মচারীদের দিয়ে চিকিৎসা করাতে আমাদের ভরসা হয় না। সাধারণ মানুষ চিকিৎসক ও কর্মচারীদের পার্থক্য বুঝতে পারেন না”
- 📌 হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন হুমায়ূন কবীর বলেছেন, “চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। আমি একাই দায়িত্ব পালন করতে চাপের মধ্যে পড়ছি”
📰 বিস্তারিত
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ১১টি পদে মাত্র ছয়জন কর্মরত থাকায় কর্মচারীরাই পশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন। এতে পশুপালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা জাগিয়েছে।
হাসপাতালে একজন ভেটেরিনারি সার্জন কর্মরত থাকলেও উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (কৃত্রিম প্রজনন) ও (প্রাণী স্বাস্থ্য) পদ দুটি শূন্য। উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) পদে চারজনের বিপরীতে কর্মরত আছেন তিনজন, যার একজন প্রশিক্ষণে রয়েছেন। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদটিও শূন্য। অফিস সহায়ক ও ড্রেসার পদে একজন করে কর্মরত রয়েছেন।
পশুপালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও কর্মচারীদের চিকিৎসা দিতে বাধ্য হওয়ায় পশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা জাগিয়েছে। মাদারগঞ্জের রুহুল আমিন বলেছেন, “প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি, কিন্তু চিকিৎসক পাচ্ছি না। পরে দেখি হাসপাতালের কর্মচারীরাই চিকিৎসা দিচ্ছেন। আমরা প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূর থেকে পশু নিয়ে এখানে আসি ভালো চিকিৎসার আশায়। এত দূর থেকে এসে যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসকই না পাই, তাহলে এখানে আসার সার্থকতা কোথায়?”
একবারপুর মধ্যপাড়ার মেরিনা বেগম বলেছেন, “আমার বাছুর অসুস্থ হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু একজন চিকিৎসকের পক্ষে এতগুলো পশু দেখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কর্মচারীরাও চিকিৎসার কাজে যুক্ত হচ্ছেন। আমরা চাই, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হোক।” রামনাথপুর এলাকার মোকছেদ আলী বলেছেন, “চিকিৎসক না থাকায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কর্মচারীদের দিয়ে চিকিৎসা করাতে আমাদের অনেকেরই ভরসা হয় না। সাধারণ মানুষ সব সময় বুঝতেও পারেন না কে চিকিৎসক আর কে কর্মচারী। আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানাই।”
"আমাদের এখানে চিকিৎসক ও জনবল সংকট রয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। আমি একাই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক চাপের মধ্যে পড়ছি। তারপরও যতটুকু সম্ভব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।"
হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি সার্জন হুমায়ূন কবীর বলেছেন, “আমাদের এখানে চিকিৎসক ও জনবল সংকট রয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। আমি একাই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক চাপের মধ্যে পড়ছি। তারপরও যতটুকু সম্ভব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।” উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফজলুল কবির বলেছেন, “জনবল সংকটের বিষয়টি একাধিকবার জেলা কার্যালয়কে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও কর্মচারী না থাকায় সীমিত জনবল দিয়েই কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পীরগঞ্জ উপজেলা, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুহুল আমিন (মাদারগঞ্জ), মেরিনা বেগম (একবারপুর), মোকছেদ আলী (রামনাথপুর), হুমায়ূন কবীর (ভেটেরিনারি সার্জন), ফজলুল কবির (উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১টি পদে ৬জন কর্মরত, ২৫ কিলোমিটার দূর থেকে পশু নিয়ে আসা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!