📌 ২২ বছর বয়সী নিপা ত্রিপুরা খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকায় সৌর প্যানেল স্থাপন ও বৈদ্যুতিক কাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নারী হিসেবে পেশায় প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি কাজের প্রতি আগ্রহের কারণে এগিয়ে যাচ্ছেন
খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বৈদ্যুতিক সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদান করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ২২ বছর বয়সী নিপা ত্রিপুরা। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে তিনি এলাকাবাসীদের ভরসা হয়ে উঠেছেন। সৌর প্যানেল স্থাপন থেকে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মেরামত পর্যন্ত তাঁর কাজের পরিসর বিস্তৃত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২২ বছর বয়সী নিপা ত্রিপুরা** খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গাছবান অমৃতপাড়ার বাসিন্দা। তিনি পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান এবং এলাকাবাসীদের বৈদ্যুতিক সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদান করেন।
- 📌 **১০০টিরও বেশি বাড়িতে সৌর প্যানেল স্থাপন** করেছেন নিপা। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ও যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজেও তিনি দক্ষ।
- 📌 **প্রশিক্ষণ ও কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত** করেছেন নিপা। ২০২৪ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আনন্দ’ থেকে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রশিক্ষণ নেন। পরে ‘সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান’ হিসেবে চাকরি পান।
- 📌 **নারী হিসেবে পেশায় প্রতিবন্ধকতা** সত্ত্বেও তিনি কাজের প্রতি আগ্রহের কারণে এগিয়ে যাচ্ছেন। পরিবার ও আশপাশের মানুষের সন্দেহের মুখেও তিনি দমে না গেছেন।
- 📌 **বাবা খুপেন্দ্র ত্রিপুরা** বলেছেন, ‘মেয়ের কাজে আমরা খুব খুশি। তাঁকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছি।’
📰 বিস্তারিত
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গাছবান অমৃতপাড়ায় বসবাসকারী নিপা ত্রিপুরা জুমচাষি বাবা খুপেন্দ্র ত্রিপুরার চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। শৈশব থেকেই বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল। নষ্ট ইলেকট্রনিক সামগ্রী খুলে ভেতরে কী আছে দেখার চেষ্টা করতেন তিনি। এসব বিষয়ে পড়াশোনার ইচ্ছে থাকায় বাড়ির কাছের বিদ্যালয় ছেড়ে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হন।
২০২০ সালে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পাস করার পর পাড়ার আশপাশের এলাকায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করেন নিপা। প্রথম দিকে ছোটখাটো কাজে তাঁর ডাক পড়ত, পরে এলাকায় প্রায় সব ধরনের বৈদ্যুতিক সমস্যা সমাধানে তাঁর ডাক পড়তে শুরু করে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আনন্দ’ থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। সেখানে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক কাজের বিষয়ে আরও তিন মাসের প্রশিক্ষণ নেন। মূল্যায়নে ভালো ফল করার পর ‘সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান’ পদে নিয়োগ পান।
বর্তমানে চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ে এলাকায় বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধানে কাজ করেন নিপা। খাগড়াছড়ি সদর ছাড়াও জেলার দীঘিনালা, পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গায় গিয়েও তাঁকে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, ‘বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মেরামতের ছোটখাটো কাজ প্রায়ই করি। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও টুকটাক কাজ থাকে।’
"‘প্রথমে যখন হাতে-কলমে কাজ শেখা শুরু করি, অনেকেই নানা কথা বলত। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, মেয়ে হয়ে এত কঠিন কাজ করতে পারব কি না। পরিবার ও আশপাশের মানুষের মধ্যেও এমন ধারণা ছিল। আমি বাধার কথা না ভেবে শুধু কাজ শেখার চেষ্টা করেছি। একসময় এতে সফলও হয়েছি।’"
নারী হিসেবে পেশায় প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নিপা দমে না গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে কাজ দিতে চান না এমন প্রবণতা কিছুটা হলেও কমছে। যাঁরা আমাকে দিয়ে একবার কাজ করান, তাঁরা আবার আমাকে ডাকেন।’ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আনন্দ’র আঞ্চলিক কর্মকর্তা শ্যামল অগাষ্টিন রোজারিও বলেছেন, ‘নিপা আমাদের প্রতিষ্ঠানের একটি প্রকল্পের আওতায় সোলার ও ইলেকট্রনিকস স্থাপনের কাজ করছেন। তাঁর এ উদ্যোগ পাহাড়ের অন্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণার।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা, গাছবান অমৃতপাড়া, দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিপা ত্রিপুরা, খুপেন্দ্র ত্রিপুরা (বাবা), শ্যামল অগাষ্টিন রোজারিও (আনন্দ সংস্থার কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বছর বয়স, ১০০টি সৌর প্যানেল স্থাপন, ৩ মাস প্রশিক্ষণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!