📌 নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম বন্ধে স্থানীয় সাংস্কৃতিক চর্চা সম্পূর্ণ থমকে পড়েছে। স্থানীয় শিল্পীরা সরকারি সহযোগিতার অভাব ও অর্থব্যয়ের অদৃশ্যতার অভিযোগ তুলেছেন
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা একসময় ছিল সাংস্কৃতিক উর্বরতা ও ঐতিহ্যের কেন্দ্র। জারি, সারি, ধামাইল, ভাটিয়ালি, পদ্মপুরাণ পাঠ, পালাগান ও গেটুগানের মতো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো এখানে মুখর ছিল। কিন্তু বর্তমানে শিল্পকলা একাডেমির দীর্ঘদিনের তালাবদ্ধ অবস্থা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বন্ধের কারণে স্থানীয় সাংস্কৃতিক চর্চা সম্পূর্ণ থমকে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোহনগঞ্জের শিল্পকলা একাডেমি ২০১০ সাল থেকে কার্যক্রম বন্ধে রয়েছে, যার ফলে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন সম্পূর্ণ স্তিমিত হয়ে পড়েছে
- 📌 ১৯৯০-এর দশকে মোহনগঞ্জে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের যাত্রা শুরু হয় 'শিল্পকলা পরিষদ' নামে, পরে এটি শিল্পকলা একাডেমিতে রূপ নেয়
- 📌 ওস্তাদ গৌরাঙ্গ আদিত্য, হরিপদ সরকার, অমল সরকার, গোপাল সরকার, অমলেন্দু শর্মা ও রুকুনুজ্জামানসহ স্থানীয় শিল্পীদের অবদানে গড়ে উঠেছিল স্থানীয় শিল্পী প্রজন্ম
- 📌 ২০১৮-১৯ সালে শিল্পকলা একাডেমি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সরকারি সহযোগিতার অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি
- 📌 স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরদারির অভাবে একাডেমির বাদ্যযন্ত্র ও সাংস্কৃতিক উপকরণ হারিয়ে গেছে
- 📌 ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সূর্যমুখী থিয়েটার শিল্পকলা একাডেমির কক্ষ ছেড়ে চলে গেছে, যার ফলে কোনো সংগঠন সেখানে কার্যক্রম চালাতে পারছে না
📰 বিস্তারিত
মোহনগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি একসময় ছিল স্থানীয় সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৮০-এর দশকে 'শিল্পকলা পরিষদ' নামে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি পরবর্তীকালে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে রূপান্তরিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন এর সভাপতি এবং স্থানীয় একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করা হতো। নব্বইয়ের দশকে এই একাডেমি স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। নাটক, আবৃত্তি, নৃত্য, গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় শিল্পীরা পাশাপাশি শিশু-কিশোরদেরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা যেত।
ওস্তাদ গৌরাঙ্গ আদিত্য, হরিপদ সরকার, অমল সরকার, গোপাল সরকার, অমলেন্দু শর্মা, রুকুনুজ্জামান ও আরিফাসহ স্থানীয় শিল্পীদের অবদানে গড়ে উঠেছিল স্থানীয় শিল্পী প্রজন্ম। তাদের হাত ধরে গান, বাঁশি, তবলা ও হারমোনিয়াম শেখানোর প্রচেষ্টা সফল হয়। তবে ২০১০ সালের দিকে একাডেমির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
২০১৮-১৯ সালে আবারও শিল্পকলা একাডেমি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে ওস্তাদ অমল সরকারকে আহ্বায়ক করা হয়। শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রমও শুরু হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়নি। ওস্তাদ অমল সরকার বলেন, 'আমরা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এলাকায় সাড়া পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় উদ্যোগটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।'
একাডেমির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরদারির অভাবে সেসব বাদ্যযন্ত্র ও সাংস্কৃতিক উপকরণ হারিয়ে গেছে। কিছু বাদ্যযন্ত্র বিভিন্ন শিল্পীর বাড়িতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনের পর ব্যয়ের লিখিত হিসাব ও প্রমাণাদি পাওয়া যায় না।
"মাত্র কয়েক বছর আগেও মোহনগঞ্জ শিল্প-সংস্কৃতিতে অত্যন্ত উর্বর ছিল। অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীর চর্চায় শহরটি মুখর থাকত। সময়ের ব্যবধানে সেই পরিবেশ হারিয়ে গেছে। তরুণদের মধ্যে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে তাদের মানসিক বিকাশ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে।"
— কবি ও সাংস্কৃতিক সংগঠক রইস মনরম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোহনগঞ্জ উপজেলা, নেত্রকোনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওস্তাদ অমল সরকার, কবি রইস মনরম, গোপাল সরকার, আরিফুল ইসলাম পিয়াস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০১০ (কার্যক্রম বন্ধের বছর), ২০১৮-১৯ (পুনরায় চালু করার উদ্যোগ), ৫ (আগস্ট ২০২৪)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!