📌 নরসিংদীর শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে তলিয়ে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করার চেষ্টায় ঝাঁপিয়ে পড়েন সৌরভ মিয়া (১৮)। পরদিন তার লাশ উদ্ধার হয়। সৌরভের পরিবার ও বন্ধুদের মতে, তিনি নিজের জীবন ঝুঁকিয়ে অন্যের বাঁচাতে গিয়েছিলেন
নরসিংদীর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিলেন সৌরভ মিয়া (১৮)। তখনই নদীতে গোসল করতে নামা পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করার চেষ্টায় তিনি নিজের জীবন ঝুঁকিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে তার লাশ উদ্ধার হয়। সৌরভের পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, তিনি পরোপকারের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে তলিয়ে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করার চেষ্টায় ঝাঁপিয়ে পড়েন সৌরভ মিয়া (১৮)। পরদিন তার লাশ উদ্ধার হয় ১৯ ঘণ্টা পর।
- 📌 সৌরভের সঙ্গে ছিলেন মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, সৌরভ ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ শুনে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দুজনকে উদ্ধার করেন। তারপর বাকিদের উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে বলেছিলেন, ‘পানি নিচের দিকে টানছে’।
- 📌 সৌরভের পরিবার জানায়, তিনি এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও কাজের জন্য পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন। বাড়িতে দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি।
- 📌 শীতলক্ষ্যায় তলিয়ে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করা গেলেও বাকি তিনজনের মধ্যে সৌরভসহ দুজনের লাশ শনিবার উদ্ধার হয়। শান্ত মিয়া নামের এক তরুণ এখনো নিখোঁজ।
- 📌 সৌরভের চাচা লিয়াকত আলী বলেন, ‘অভাব থাকায় সংসারে সহযোগিতা করার জন্য পড়ালেখা ছেড়ে কাজে নেমেছিল সৌরভ। সেই ছেলেকে আমরা হারালাম।’
📰 বিস্তারিত
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিলেন সৌরভ মিয়া। তখনই নদীতে গোসল করতে নামা পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করার চেষ্টায় তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন। সৌরভের সঙ্গে ছিলেন মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ শুনে সৌরভসহ তাঁরা তিনজন দৌড়ে গিয়ে দেখেন, নদীতে হাবুডুবু খাচ্ছেন পাঁচজন। সৌরভ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দুজনকে পাড়ে নিয়ে আসেন। বাকিদের উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, ‘পানি নিচের দিকে টানছে’। এরপর আর ওঠেননি।
সৌরভের পরিবার জানায়, তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামের মো. মজনু মিয়ার ছেলে। স্থানীয় পাড়াতলা শিকদার আবদুল মান্নান উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় একটি সারের দোকানে কাজ নেওয়ায় পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। সৌরভের পরিবার বলছেন, তিনি দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। বড় ভাই হযরত আলী প্রবাসী। এক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছেন। বাবা মজনু মিয়া পেশায় কৃষক আর মা গৃহিণী।
সৌরভের চাচা লিয়াকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নদীর পাড়ে আমাদের মুরগির ফার্ম আছে। বিকেলে সেখানে দাঁড়িয়ে দুজনের সঙ্গে কথা বলছিল সৌরভ। তখন কয়েকজনকে নদীতে হাবুডুবু খেতে দেখে তাদের বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভাব থাকায় সংসারে সহযোগিতা করার জন্য পড়ালেখা ছেড়ে কাজে নেমেছিল সৌরভ। সেই ছেলেকে আমরা হারালাম। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।’
"বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে সৌরভসহ তাঁরা তিনজন দৌড়ে সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, কয়েকজন নদীতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। এরপর সৌরভ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দুজনকে পাড়ে নিয়ে আসেন। বাকিদের উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে বলেছিলেন, ‘পানি নিচের দিকে টানছে’। এর পরই একবার ডুব দিয়ে আর ওঠেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শীতলক্ষ্যা নদী, লাখপুর গ্রাম, নরসিংদী, শিবপুর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৌরভ মিয়া (১৮), মাহফুজুর রহমান, লিয়াকত আলী, মো. মজনু মিয়া, হযরত আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ ঘণ্টা (লাশ উদ্ধার পর্যন্ত সময়), ১৮ বছর (সৌরভের বয়স), ১০ কিলোমিটার (লাশ উদ্ধার স্থান থেকে ঘটনাস্থল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!