📌 ইসরায়েলের পশ্চিম তীরে প্যালেস্টাইনিদের জীবন ধ্বংসের পেছনে একটি পরিকল্পিত ‘বিলুপ্তির প্রকল্প’ কাজ করছে। বি’ত্সেলেমের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসতি স্থাপন, সহিংসতা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও গতিশীলতার বাধা প্যালেস্টাইনিদের সমাজ ধ্বংসের লক্ষ্যে কাজ করছে
পশ্চিম তীরের বসতিপ্রাপ্ত এলাকায় ইসরায়েলের প্যালেস্টাইনিদের জীবন ধ্বংসের পেছনে একটি পরিকল্পিত ও সিস্টেমেটিক নীতি কাজ করছে। আল জাজীরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক ও বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ড প্যালেস্টাইনিদের জীবন অসম্ভব করে তুলছে। গত সেপ্টেম্বরে আল-মুগায়ির এলাকায় সামরিক অভিযানে দুই প্যালেস্টাইনী তরুণ নিহত হন। এর কয়েক দিন পর মাসাফের ইয়াত্তার খিরবেত আল-তাব্বান গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিটি বাড়ি ধ্বংস করে, যার ফলে ৭০ জনের মধ্যে ৩০ জন শিশুসহ প্রায় ৭০ জন মানুষ বাড়ি-ঘরহীন হয়ে পড়েন। কুসরা এলাকায় বসতিপ্রাপ্তরা তিনটি পরিবারকে তাদের বাড়িতে আটকিয়ে রেখেছে, তাদের জল ও বিদ্যুৎ সরিয়ে দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বি’ত্সেলেমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ড প্যালেস্টাইনিদের জীবন ধ্বংসের একটি ‘বিলুপ্তির প্রকল্প’ — এটি একটি ‘অপরাধবাদের নীতি’ এবং ‘বসতি-উপনিবেশবাদী যুক্তি’ দ্বারা চালিত।
- 📌 ২০১৭ সালের ‘ডিসিসিভ প্লান’ (Bezalel Smotrich কর্তৃক রচিত) প্যালেস্টাইনিদের তিনটি বিকল্প দিয়েছে: ইহুদি অধিকারের স্বীকৃতি, দেশ ত্যাগ বা সহিংসতা ভোগ করা।
- 📌 ২০২২ সালের পর থেকে ইসরায়েলের ফার-রাইট সরকারের শাসনকালে এই নীতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, বিশেষত গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে।
- 📌 ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল ৯২৫টি শারীরিক বাধা স্থাপন করেছে, যা ইউনাইটেড নেশনসের রেকর্ডে ২০ বছরে সর্বোচ্চ।
- 📌 বি’ত্সেলেমের প্রতিবেদনে ২০০০ জনেরও বেশি প্যালেস্টাইনিদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করে বলা হয়েছে, এই কর্মকাণ্ডের পাঁচটি সংযুক্ত ফ্রন্ট রয়েছে: সহিংসতা, গতিশীলতার বাধা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামাজিক-রাজনৈতিক ধ্বংস এবং জাতিগত শুদ্ধিকরণ।
📰 বিস্তারিত
বি’ত্সেলেমের নতুন প্রতিবেদন ‘দ্য এলিমিনেশন প্রোজেক্ট’-এ বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ড প্যালেস্টাইনিদের জীবন অসম্ভব করে তুলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এটি একটি তাত্ক্ষণিক সংকট নয়, নিরাপত্তা লঙ্ঘনের একটি সংগঠিত তালিকা নয়। বরং এটি ইসরায়েলের ‘অপরাধবাদের নীতি’-এর একটি ত্বরিত ও স্পষ্ট পর্যায়, যা বসতি-উপনিবেশবাদী যুক্তি দ্বারা চালিত — বসতি স্থাপনকারীদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত ও তাদের সমাজ ধ্বংস করে।”
প্রতিবেদনে প্যালেস্টাইনিদের ২০০০-এরও বেশি সাক্ষ্য সংগ্রহ করে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ড প্যালেস্টাইনিদের জীবন ধ্বংসের একটি ‘বিশদ নীতি’। প্রতিবেদনে পাঁচটি সংযুক্ত ফ্রন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে:
- সহিংসতা ও ভীতির মাধ্যমে প্যালেস্টাইনিদের জীবন অসম্ভব করা;
- গতিশীলতার বাধা, যেমন রাস্তা বন্ধ, চেকপয়েন্ট স্থাপন;
- অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যেমন জল, বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক সুবিধা সরিয়ে দেওয়া;
- সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা;
- জাতিগত শুদ্ধিকরণ ও ভূমি দখল।
বি’ত্সেলেমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নীতি ২০১৭ সালের ‘ডিসিসিভ প্লান’-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনাটি ইসরায়েলের তৎকালীন মন্ত্রী Bezalel Smotrich কর্তৃক রচিত হয়েছিল। তিনি প্যালেস্টাইনিদের তিনটি বিকল্প দিয়েছিলেন: ইহুদি অধিকারের স্বীকৃতি, দেশ ত্যাগ বা সহিংসতা ভোগ করা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নীতি দীর্ঘদিন ধরে চলছে, কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে এটি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, বিশেষত গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে।
পশ্চিম তীরের প্রায় ৩৫ লক্ষ প্যালেস্টাইনী এই নীতির শিকার। তাদের দৈনন্দিন জীবনে রাস্তা বন্ধ, ভূমি অপহরণ ও বাড়ি ধ্বংসের কারণে তাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। দুরা এলাকার চালক Yusef Kashur বলেছেন, “চেকপয়েন্ট ও বাধাগুলি আমার কাজকে এক ধরনের ‘যাতনা’ করে তুলেছে। আমি দীর্ঘ সময় ধরে যাতায়াত করতে বাধ্য হন, যা আমার পরিবারের জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট আয় করতে দেয় না।”
"এটি একটি তাত্ক্ষণিক সংকট নয়, নিরাপত্তা লঙ্ঘনের একটি সংগঠিত তালিকা নয়। বরং এটি ইসরায়েলের ‘অপরাধবাদের নীতি’-এর একটি ত্বরিত ও স্পষ্ট পর্যায়, যা বসতি-উপনিবেশবাদী যুক্তি দ্বারা চালিত — বসতি স্থাপনকারীদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত ও তাদের সমাজ ধ্বংস করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পশ্চিম তীর, বসতিপ্রাপ্ত এলাকা (বিশেষত আল-মুগায়ির, মাসাফের ইয়াত্তা, কুসরা, দুরা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: Yusef Kashur (চালক), Bezalel Smotrich (ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ জন (বাড়ি-ঘরহীন), ৩০ জন (শিশু), ৯২৫টি (চেকপয়েন্ট), ২০০০+ (প্যালেস্টাইনী সাক্ষ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!