📌 ঝালকাঠি কাঁঠালিয়ায় এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে মারধর করে ৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। মামলায় ৫-৭ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে বরিশাল মেডিকেলে ভর্তি করা হয়
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে মারধর করে ৫ লাখ টাকা ও মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মামলায় ছয়জন পরিচিত আসামির পাশাপাশি ৫-৭ জন অজ্ঞাতনামা আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ৭টায় কাঁঠালিয়া উপজেলার উত্তর বলতলা এলাকায় এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে মারধর করা হয়; ৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়।
- 📌 ফজলুল হক হাওলাদারকে পেটানো হয় এসএস পাইপ দিয়ে; শাহাদাৎ হাওলাদার রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেন।
- 📌 আহত ব্যক্তিকে প্রথমে আমুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে বরিশাল মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
- 📌 ২৯ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়; বাদী তাওহীদুল ইসলামের অভিযোগ, আসামিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ২ লাখ টাকার ক্ষতি করে।
- 📌 মামলায় অভিযুক্ত সোহেল হাওলাদার অস্বীকার করেন; দাবি, তারা ভয়ে আতঙ্কিত।
📰 বিস্তারিত
২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাঁঠালিয়া উপজেলার উত্তর বলতলা এলাকায় একদল আসামি তাওহীদুল ইসলামের বসতঘরে ঢুকে তার বাবা ফজলুল হক হাওলাদারকে মারধর করে। ঘটনায় ফজলুল হককে এসএস পাইপ দিয়ে পেটানো হয় এবং শাহাদাৎ হাওলাদার রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেন। কোপ ঠেকাতে হাত বাড়ালে তার ডান কবজিতে গুরুতর জখম হয় এবং চারটি রগ কেটে যায়। আসামিরা ঘরের একটি ট্রাঙ্ক থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান এবং বাদীর স্ত্রীর এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। আহত ফজলুল হককে প্রথমে আমুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২:৩০টায় তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়। বাদী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর কাঁঠালিয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলায় ছয়জন পরিচিত আসামির পাশাপাশি ৫-৭ জন অজ্ঞাতনামা আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামিরা জমিজমা নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর বাদীপক্ষের বাগান থেকে সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়। এ সময় বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মামলায় দাবি করা হয়েছে, আসামিরা ঘরের দরজা, ফ্রিজ, ফ্যানসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে।
বাদীপক্ষের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউ কেউ অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু ব্যবসা এবং মাদক ব্যবসায় জড়িত। এ কারণে এলাকায় তাদের প্রভাবশালী চক্র রয়েছে। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল হাওলাদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো হামলা বা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নই। বরং আমরাই তাদের ভয়ে আতঙ্কে রয়েছি।’
"আমরা কোনো হামলা, লুটপাট বা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নই। বরং আমরাই তাদের ভয়ে আতঙ্কে রয়েছি।"
কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছের রায়হান বলেন, ‘আদালতের কাগজ এখনো হাতে পাইনি। কাগজ পেলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলা করার পর থেকে আসামিপক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এমনকি পাশের ভান্ডারিয়া উপজেলায় গিয়েও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাঁঠালিয়া উপজেলা, ঝালকাঠি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফজলুল হক হাওলাদার, তাওহীদুল ইসলাম, সোহেল হাওলাদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ টাকা, ১২ আনা স্বর্ণ, ২ লাখ টাকা ক্ষতি, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২৯ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!