📌 চলনবিলের চাটমোহর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন অমৃতকুণ্ডা হাটে প্রতি রোববার ৫০০ ব্যবসায়ীর দোকান বসে। ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্য ধরে রেখে এখানে কাঁচা পাট, গবাদিপশু, মাছ, মসলা, কাঠের আসবাবপত্র ও বাঁশের কারিগরি পণ্য বিক্রি হয়। স্থানীয় কৃষিজীবীদের অর্থনীতির এক বড় চাকা ঘোরে এই ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র
চলনবিলের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র চাটমোহর রেলবাজার হাটে প্রতি রোববার রীতিমতো বেচাকেনার রমরমা শুরু হয়। ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্য ধরে রেখে এই হাটে ৫০০ ব্যবসায়ীর অস্থায়ী দোকান বসে। ভোরবেলায় হাটের চৌহদ্দিতে পা রাখলে কানে ভেসে আসে হাজারো মানুষের ব্যস্ত কোলাহল। বাতাসে তাজা শাকসবজি, কাঁচা পাটের মিষ্টি সুবাস এবং গরম জিলাপির ঘ্রাণ মিশে থাকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রতি রোববার ৫০০ ব্যবসায়ীর অস্থায়ী দোকান বসে চলনবিলের চাটমোহর রেলবাজার হাটে
- 📌 ব্রিটিশ আমলে ১৯১৫-১৬ সালে ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রেললাইনের সঙ্গে জড়িত হয়ে গড়ে ওঠে এই ঐতিহ্যবাহী হাট
- 📌 বার্ষিক ইজারা থেকে আয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা
- 📌 কাঁচা পাট, গবাদিপশু, মাছ, মসলা, কাঠের আসবাবপত্র ও বাঁশের কারিগরি পণ্য বিক্রির কেন্দ্রবিন্দু
- 📌 ৪৫ বছর ব্যবসা করে আসা কাঠের কারিগর বিশ্বনাথ মুরারি বলেন, ‘মানুষের রুচি বদলেছে, কিন্তু ঐতিহ্য টিকে আছে’
📰 বিস্তারিত
চলনবিল অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ গ্রামীণ বাণিজ্যকেন্দ্র চাটমোহর রেলবাজার হাট (অমৃতকুণ্ডা) প্রতি রোববারই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এই হাটের ইতিহাস শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে ১৯১৫-১৬ সালে ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ ব্রডগেজ রেললাইনের চালু হওয়ার পর। স্থানীয়রা জানান, সময়ের পরিক্রমায় পাশের অমৃতকুণ্ডা হাটের সঙ্গে এটি একীভূত হয়ে আজকের এই বিশাল বাজারে রূপ নিয়েছে।
হাটের চৌহদ্দিতে ভোর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা শুরু হয়। কৃষকের ঘর থেকে ভ্যানে করে আনা বিশাল কাঁচা পাটের স্তূপ, ধানের সবুজ চারা, তাজা আখ, গবাদিপশুর বাজার এবং নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের পসরা সাজানো থাকে। গবাদিপশুর অংশটি বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। সারি সারি কালো মহিষ, দেশি গাভি ও ষাঁড় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন ব্যাপারীরা। চলনবিল অঞ্চলের কৃষিজীবী ও খামারিদের অর্থনীতির এক বড় চাকা ঘোরে এই গবাদিপশুর বাজারকে কেন্দ্র করেই।
বিক্রেতাদের মধ্যে একজন প্রবীণ বিশ্বনাথ বলেন, ‘আমি একাত্তর সালের আগে থেকেই এই হাটে আসি। এত বছর ধরে এই হাটের বহুরূপ দেখেছি।’ অন্যদিকে, লবণ বিক্রেতা আনিস বলেন, ‘আমার বাপ-দাদাও এই হাটে লবণ বেচতেন। চলনবিলের ভরা বর্ষায় দক্ষিণাঞ্চল থেকে মহাজনি নৌকায় আসত পাটের বস্তায় লালচে মোটা লবণ।’
"আমি মোটামুটি হারিকেন ধরার বয়স থেকেই এই হাটে আসি। এত বছর ধরে এই হাটের বহুরূপ দেখলাম।"
হাটের আরেক অংশে কাঠের আসবাবপত্রের বিশাল পসরা সাজানো থাকে। কাঠের কারিগর বিশ্বনাথ মুরারি বলেন, ‘৪৫ বছর ধরে এই হাটে ব্যবসা করছি। সময়ের সঙ্গে মানুষের রুচি আর চাহিদায় কিছুটা বদল এসেছে, কিন্তু পুরোনো এই হাটের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।’
বর্ষার পানি নামলে এই হাটে খলসুনি, ধুন্দি, বিত্তি আর খাদুনের বিশাল বাজার বসে। স্থানীয় কারিগরদের পৈতৃক পেশা হিসেবে এই কুটিরশিল্প বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। বাঁশের তৈরি মাছ ধরার সরঞ্জামের কারিগর নিমাই দাস বলেন, ‘অভিজ্ঞতার এই কাজ ছাইড়া অন্য কিছু করবার পারি না। এখন বাঁশ আর সুতলির দামের কারণে সংসার চালানো কঠিন, তবু চলনবিলে পানি নামলে এর কদর বাড়ে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাটমোহর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন অমৃতকুণ্ডা হাট, চলনবিল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশ্বনাথ, আনিস, বিশ্বনাথ মুরারি, নিমাই দাস, কৃষিজীবী ও খামারিরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ ব্যবসায়ী, ১৫ লাখ টাকা বার্ষিক আয়, ৪৫ বছর ব্যবসা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!