📌 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নির্মাণাধীন আইসিটি ট্রেনিং সেন্টারে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থে চলমান প্রকল্পে স্থায়িত্বহীন সামগ্রী ব্যবহার করলে ভবনের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বে প্রশ্ন উঠতে পারে
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নির্মাণাধীন আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টারে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, সরকারি অর্থায়নে চলমান এই প্রকল্পে স্থায়িত্বহীন ইট, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণকাজের শুরু থেকেই স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২ কোটি টাকা বরাদ্দে নির্মাণাধীন আইসিটি সেন্টারে** স্থানীয়রা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
- 📌 **থার্ড ক্লাসের ইট, অসংগত মিশ্রণে সিমেন্ট ও নিম্নমানের বালু** ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
- 📌 **বাথরুমের সোকপিটের গভীরতা মাত্র ৭-৮ ফুট** — যা মানদণ্ডের চেয়ে অনেক কম।
- 📌 **নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী** প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকার করেছেন।
- 📌 **ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থ্রি স্টার ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন** ২০ লাখ টাকা বরাদ্দে ২২ লাখ টাকা খরচ করেছে।
- 📌 **কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতায় ইডিসিএফের অর্থায়নে** প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, কিন্তু নির্মাণস্থলে কোনো সাইনবোর্ড নেই।
📰 বিস্তারিত
সুন্দরগঞ্জে নির্মাণাধীন আইসিটি সেন্টারে স্থানীয়রা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয় পান ব্যবসায়ী মো. ফিরোজ মিয়া জানান, গতকাল ৩ নম্বর ইট দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। স্থানীয়দের বাধার পরেও আজ আবার ওই ইট দিয়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’
স্থানীয় আরেক ব্যক্তি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রকল্পের প্রকৃতি, বরাদ্দের পরিমাণ বা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম কেউ জানেন না। নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী নিজের এলাকার লোকজনকে কাজে নিয়েছেন এবং নির্মাণ সামগ্রী নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রকৌশলী অনিয়ম আড়াল করতে চেষ্টা করছেন।
নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মো. নুরুন্নবী মিয়া (লিমন) প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জানাতে অস্বীকার করেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন। প্রকল্পের বরাদ্দ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কাজের সময়সীমা ও কারিগরি বিষয় সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থ্রি স্টার ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. আবদুল মান্নান সরকার জানান, তিনি মাত্র ম্যানপাওয়ারের ঠিকাদারি করেছেন। তাঁর বরাদ্দ ছিল ২০ লাখ টাকা, কিন্তু খরচ হয়েছে ২২ লাখ টাকা। তিনি বলেন, ‘আমি আর কিছুই জানি না।’
অর্থদাতা কোরিয়ান প্রতিনিধি মো. সাজ্জাদ হোসাইন জানান, ‘কাজে অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজের প্রতিটি ধাপ দেখছি।’ তবে প্রকল্পের বরাদ্দ, কাজের সময়সীমা বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
"এখানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে। তার মধ্যে গতকাল ৩ নম্বর ইট দিয়ে কাজ হচ্ছিল। পরে লোকজন এসে বাধা দেয়। তবুও আজকে আবার ওই ৩ নম্বর ইট দিয়ে কাজ করা হয়েছে।"
"এই প্রকল্পের প্রকৃতি, বরাদ্দের পরিমাণ বা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম কেউ জানেন না। নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী নিজের এলাকার লোকজনকে কাজে নিয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ফিরোজ মিয়া, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. নুরুন্নবী মিয়া (লিমন), মো. আবদুল মান্নান সরকার, মো. সাজ্জাদ হোসাইন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ কোটি টাকা (বরাদ্দ), ৩ নম্বর ইট, ২০ লাখ টাকা (বরাদ্দ), ২২ লাখ টাকা (খরচ), ২ লাখ টাকা (লোকসান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!