📌 ৩০ বছর বয়সী বীণা আক্তার হাসি (হাসি) ও তার ১৩ ও ৫ বছর বয়সী দুই সন্তানের জীবন কষ্টের মধ্যেও হাসির মুখে হাসি নিয়ে কাটে। ধানমন্ডি লেকের পাশে প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি
৩০ বছর বয়সী বীণা আক্তার হাসি (হাসি) ও তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ হাসান এবং ৫ বছর বয়সী মেয়ে মারিয়াম জান্নাতের জীবন কষ্টের মধ্যেও হাসির মুখে হাসি নিয়ে কাটে। ২৪ অক্টোবর, পূজার ছুটির শেষ দিনের অলস দুপুরে ধানমন্ডি লেকের পাশে তাদের জীবনের একটি মুহূর্ত ধরা পড়ল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩০ বছর বয়সী হাসি** ও তার দুই সন্তান (১৩ ও ৫ বছর) ধানমন্ডির ১১ ও ২৮ নম্বর এলাকায় প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
- 📌 **হাসির মা-বাবা, ভাই-বোনের নাম ও বাড়ির ঠিকানা মনে নেই** — শুধু মনে আছে গ্রামে থাকতেন এবং নৌকা থেকে নেমে রিকশায় বাড়িতে যেতেন।
- 📌 **৭ বছর বয়সে পথ হারিয়ে ফেলেন** — বাড়ি থেকে বেরিয়ে মাকে খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে যান। নাম ভুলে যান এবং ‘হাসি’ নাম পান একজন শিক্ষকের বাড়িতে।
- 📌 **স্বামী বিল্লালের মৃত্যুর পর** (বিদ্যুতায়িত হয়ে) একা পড়েন — ছেলে ৭ বছর, মেয়ে ১.৫ মাস বয়সী ছিল।
- 📌 **করোনা সংক্রমণে কারখানা বন্ধ হলে** কাজ হারান — এরপর ধানমন্ডিতে আসেন পথশিশুদের পড়াশোনা ও খাওয়ানোর আশায়।
- 📌 **৩০০ টাকা খরচে চকবাজারে কিনে** মা ও ছেলে মিলে লুছনি ও মাজুনি বিক্রি শুরু করেন, কিন্তু কোনো দিন বিক্রি হয়নি।
📰 বিস্তারিত
২৪ অক্টোবর, পূজার ছুটির শেষ দিনের অলস দুপুরে ধানমন্ডি লেকের পাশে বসা হাসির জীবনের গল্প শোনা যায়। তিনি ও তার ছেলে-মেয়ে প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে জিনিস বিক্রি করেন। ধানমন্ডির ১১ ও ২৮ নম্বর এলাকায় বেশি যান। লেকের পাশে বসার সময় তিনি জানান, প্রতিদিন একই জায়গায় বসেন না — ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন।
হাসির ছেলে মোহাম্মদ হাসান (১৩) ও মেয়ে মারিয়াম জান্নাত (৫) স্কুলের শিক্ষকদের পড়াশোনা ও খাওয়ানোর জন্য এসেছিলেন। হাসি তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন। তার কোলে ছিল একটি পোষা বিড়ালছানা। হাসি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে কাজ করে বড় হচ্ছি। চার বছর থেকেই হাঁড়িপাতিল মাজা শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত কর্ম করে খাইতেছি। দুনিয়ার খাতা-কলম শেষ হয়ে যাবে, আমার কষ্ট শেষ হবে না।’
হাসির জীবনের গল্প শুনলে মনে হয়, তিনি কষ্টের মধ্যেও জীবনকে হাসির মুখে হাসি দিয়ে কাটাচ্ছেন। তার মা-বাবা, ভাই-বোনের নাম ও বাড়ির ঠিকানা মনে নেই। শুধু মনে আছে, গ্রামে থাকতেন এবং নৌকা থেকে নেমে রিকশায় বাড়িতে যেতেন। বাবা আরেকটি বিয়ে করার পর মা তাঁদের নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। চার বছর বয়সী হাসিকে একটি পরিবারে কাজে দেন। একদিন মাকে খুঁজতে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন। নাম ভুলে যান এবং একজন শিক্ষকের বাড়িতে ‘হাসি’ নাম পান।
কিশোরী বয়স পর্যন্ত ওই শিক্ষকের বাড়িতে ছিলেন। তারপর আশ্রয় পান কামরাঙ্গীরচরে এক নারীর বাসায়। সংসার শুরু হয়, কিন্তু স্বামী বিল্লালের মৃত্যুতে (বিদ্যুতায়িত হয়ে) একা পড়েন। স্বামীর মৃত্যুর সময় ছেলের বয়স ছিল ৭ বছর, আর মেয়ের ১.৫ মাস। বিয়ের পর তাঁকে বাইরে কাজ করতে হয়নি, কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলের কাছে মেয়েকে রেখে বাসাবাড়িতে কাজে যেতেন। ছেলে দুধের শিশুটিকে সামলাতে পারত না। পরে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কাজে যাওয়া শুরু করেন, কিন্তু মেয়ে যখন-তখন প্রস্রাব করে দিত বলে তাঁকে কাজে রাখেনি কেউ।
এই সময়ে হাসি প্রতিবেশীদের সঙ্গে ধানমন্ডি আসতেন সাহায্য পাওয়ার আশায়। একসময় শিশু হকারদের দেখে লুছনি বিক্রি শুরু করেন। চকবাজারে ৩০০ টাকা খরচে লুছনি ও মাজুনি কিনে মা ও ছেলে মিলে ঘুরে ঘুরে বিক্রি শুরু করেন। তবে আড়াই ঘণ্টা থাকাকালীন কোনো জিনিস বিক্রি হয়নি। করোনা সংক্রমণের সময় কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে কাজ হারান। এরপর ধানমন্ডিতে আসেন পথশিশুদের পড়াশোনা ও খাওয়ানোর আশায়।
"দুনিয়ার খাতা-কলম শেষ হয়ে যাবে, আমার কষ্ট শেষ হবে না। এত পরিমাণে কষ্ট করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ধানমন্ডি লেক, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বীণা আক্তার হাসি (৩০), মোহাম্মদ হাসান (১৩), মারিয়াম জান্নাত (৫)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ অক্টোবর, ১১ ও ২৮ নম্বর, ৩০ বছর, ১৩ বছর, ৫ বছর, ৭ বছর, ৩০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!