📌 প্যারিসের ডিওর ফল ২০২৬ শোতে মডেলদের কাজল স্টাইল দেখে বাঙালি সাজেও কাজলের ব্যবহার বদলেছে। ছড়িয়ে থাকা কাজল থেকে রাইনস্টোন, জোড়া ডানা, রঙিন কাজল ও গ্লিটারের ব্যবহার পর্যন্ত পাঁচটি স্টাইল নিয়ে আলোচনা করা হলো
প্যারিসের সর্বশেষ ফ্যাশন শোতে প্রদর্শিত কাজল স্টাইলগুলো বাঙালি সাজে নতুন মাত্রা যোগ করছে। ডিওর ফল ২০২৬ শোতে মডেলদের চোখের সাজ দেখে বুঝা যায়, কাজলের ব্যবহার আর শুধু সরল রেখা থেকে বেশি। পাঁচটি ভিন্ন স্টাইল নিয়ে এবার আলোচনা করা হলো সেই সাজের গল্প।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ছড়িয়ে থাকা কাজল: চোখের ওপরে কাজল টেনে হালকা করে ছড়িয়ে দিলে তৈরি হয় ধোঁয়াটে আবহ, যা স্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভাবকে স্টাইল হিসেবে ব্যবহার করে
- 📌 রাইনস্টোনের রেওয়াজ: কাজলের রেখার পাশে ছোট ছোট পাথর বা রাইনস্টোন বসালে চোখের সাজে আসে অলংকারের মেজাজ, তবে বেশি পাথর দিলে চোখের স্বাভাবিক রেখা আড়াল হতে পারে
- 📌 জোড়া ডানার কাজল: চোখের নিচের কাজল রেখা বাইরের কোণ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া এবং তার ওপর আরেকটি রেখা টানলে তৈরি হয় ডাবল-উইং স্টাইল, যা জ্যামিতিক সৌন্দর্য যোগ করে
- 📌 রঙিন কাজল: নীল, সবুজ বা বেগুনি রঙের কাজল চোখের সাজকে মুহূর্তে উজ্জ্বল করে তুলতে পারে, পোশাকের বিপরীত রঙের কাজল ব্যবহার করলে আরও আকর্ষণীয় হয়
- 📌 গ্লিটারের ঝিলিক: কাজলের রেখায় বা চোখের পাতার মাঝখানে গ্লিটার যোগ করলে দিনের সাজে হালকা উজ্জ্বলতা এবং সন্ধ্যার সাজে পুরো সাজের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়
📰 বিস্তারিত
প্যারিসের ‘ডিওর ফল ২০২৬’ শোতে মডেলদের চোখের ওপরে কাজল দেওয়ার নতুন কৌশলগুলো বাঙালি সাজে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। এখানে কাজলের নিখুঁত সরলরেখা ছাড়াও ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া বা ভাঙাগড়া সাজের খেলা দেখা যাচ্ছে। বাঙালি সাজেও কাজলের ব্যবহার বদলে গেছে — শুধু চোখের নিচে বা পাপড়ির গোড়ায় টানা রেখা নয়, বরং পাঁচটি ভিন্ন স্টাইল এখন জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
প্রথমত, ছড়িয়ে থাকা কাজল স্টাইলটি চোখের ওপরে ও নিচে কাজল টেনে সেটিকে হালকা করে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। এই স্টাইলটি নরম, খানিকটা এলোমেলো আবহ তৈরি করে, যা চোখের চারপাশে ধোঁয়াটে এক আভা ফেলে। বিশেষ করে চোখের বাইরের কোণে কাজল একটু বেশি ঘষে দিলে চোখের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ছড়িয়ে থাকা কাজলের সামান্য এলোমেলো ভাবই সাজকে সম্পূর্ণ করে তোলে।
দ্বিতীয়ত, রাইনস্টোনের রেওয়াজ স্টাইলটিতে কাজলের কালো রেখার পাশে ছোট ছোট পাথর বা রাইনস্টোন বসানো হয়। এতে চোখের সাজে আসে অলংকারের মেজাজ। তবে কাজলের রেখাকে দৃশ্যমান রাখতে ছোট ছোট ঝিলিমিলি পাথর যোগ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বেশি পাথর দিলে চোখের স্বাভাবিক রেখা আড়াল হয়ে যেতে পারে।
তৃতীয় স্টাইল হলো জোড়া ডানার কাজল। এখানে চোখের নিচের কাজল রেখা বাইরের কোণ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার ওপর আরেকটি রেখা টানলে তৈরি হয় ডাবল-উইং। এই স্টাইলটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর জ্যামিতিক সৌন্দর্য। দুটি রেখার মাঝখানের ফাঁকা জায়গাও সাজের অংশ হয়ে দাঁড়ায়, ফলে চোখ শুধু গাঢ় দেখায় না, বরং চোখের আকৃতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরু ও পরিপাটি রেখা রাখলে সাজে আসে তীক্ষ্ণতা, আবার রেখা খানিকটা মোটা করলে চোখের অভিব্যক্তি হয়ে ওঠে আরও দৃঢ়।
চতুর্থ স্টাইল হলো রঙিন কাজল। বর্তমানে নীল, সবুজ, বেগুনি বা অন্য কোনো গাঢ় রঙের কাজল বেশ জনপ্রিয়। পুরো চোখ ঘিরে রঙিন কাজল টানার বদলে শুধু ওপরের পাপড়ির গোড়ায় বা বাইরের কোণে ব্যবহার করলেও সেটা যথেষ্ট নজরকাড়া হয়। রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পোশাকের সঙ্গে মিল রাখা প্রয়োজন নেই — বরং পোশাকের বিপরীত রঙের কাজল চোখের সাজকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।
শেষ স্টাইল হলো গ্লিটারের ঝিলিক। কাজলের পরিচিত কালো রেখার সঙ্গে একটু গ্লিটার যোগ করলে চোখের সাজ বদলে যায়। এখানে চোখজুড়ে না দিয়ে কাজলরেখার ওপর, চোখের পাতার মাঝখানে কিংবা বাইরের কোণে ব্যবহার করা হয় গ্লিটার। দিনের সাজে অল্প গ্লিটার চোখকে উজ্জ্বল করে আর সন্ধ্যার সাজে একটু বেশি গ্লিটার হয়ে উঠতে পারে পুরো সাজের কেন্দ্রবিন্দু। কালো কাজলের সঙ্গে রুপালি বা সোনালি গ্লিটার সহজে মানিয়ে যায়, আবার নীল, সবুজ কিংবা অন্য কোনো রঙের গ্লিটার ব্যবহার করলে সাজটি হয়ে উঠতে পারে আরও পরিপূর্ণ। কাজল আর গ্লিটারের এই বৈপরীত্যেই তৈরি হয় চোখের সাজের মূল আকর্ষণ।
"চোখের ওপরে কাজল টেনে সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে চোখের সাজে কাজলের নিখুঁত রেখার পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে এ রকম ইচ্ছাকৃত অসম্পূর্ণতা ও ভাঙাগড়ার খেলা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্যারিস (ডিওর ফল ২০২৬ শো)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মডেলদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫টি ভিন্ন কাজল স্টাইল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!