📌 কক্সবাজারের এফভি কুলসুমা ট্রলারে ছয় দিনের সাগরযাত্রার শেষে জালে ২৬ লাখ টাকার ইলিশ ধরা পড়ে। ২ হাজার ২০০টি ইলিশ বিক্রি করে জেলেরা প্রত্যেকেই পাবেন ৫০ হাজার টাকা। বঙ্গোপসাগরে ইলিশের দেখা পাওয়ার এই মৌসুমে বিরল ঘটনা।
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটা ঘাটে নোঙর করেছে মাছ ধরার ট্রলার এফভি কুলসুমা। ছয় দিনের সাগরযাত্রার পর সোমবার সকালে ফিরে আসার পরই জেলেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন মাছ বের করার কাজে। ট্রলারের জালে ধরা পড়ে ২ হাজার ২০০টি ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ। এই ইলিশের মোট মূল্য ২৬ লাখ টাকা। প্রতিটি ইলিশের ওজন ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজারের এফভি কুলসুমা ট্রলারে ছয় দিনের সাগরযাত্রার শেষে জালে ২৬ লাখ টাকার ইলিশ ধরা পড়ে
- 📌 ২ হাজার ২০০টি ইলিশ বিক্রি করে ট্রলারের ১২ জন জেলেরা প্রত্যেকেই পাবেন ৫০ হাজার টাকা
- 📌 বঙ্গোপসাগরে গত তিন মাস ধরে ইলিশের দেখা পাননি জেলেরা, এই মৌসুমে বিরল ঘটনা
- 📌 মহেশখালীর তাজিয়াকাটা এলাকা থেকে পশ্চিমে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে জাল ফেলে ইলিশ ধরা পড়ে
- 📌 ফিশারিঘাটে ২৭ জন ব্যবসায়ী ইলিশ কিনে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন
- 📌 কক্সবাজারের ৬ হাজার ট্রলারের মধ্যে ৪ হাজার ঘাটেই পড়ে আছে, মাছের অভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মালিক ও জেলেরা
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটা ঘাটে নোঙর করেছে মাছ ধরার ট্রলার এফভি কুলসুমা। গতকাল সোমবার সকাল আটটার দিকে ছয় দিনের সাগরযাত্রা শেষ করে ফিরে আসে ট্রলারটি। জেলেরা দ্রুত মাছ বের করার কাজে ব্যস্ত হন। ট্রলারের জালে ধরা পড়ে ২ হাজার ২০০টি ইলিশসহ পোপা, মাইট্যা, রুপচাঁদাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ। ফিশারিঘাটে পাইকারি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে মাছ নিয়ে যাওয়া হয়।
ফিশারিঘাটে ২৭ জন ব্যবসায়ী এফভি কুলসুমার ২ হাজার ২০০টি ইলিশ কিনে নেন ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। প্রতিটি ইলিশের ওজন ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম। বিক্রির পর মাছগুলো বরফমিশ্রিত কার্টনে ভরে ট্রাকে বোঝাই করা হয়। দুপুরে ঢাকার পথে রওনা দেয় ট্রাকটি। ট্রলারের মালিক আমান উল্লাহ (৫৪) জানান, গত তিন মাস ধরে কক্সবাজারের জেলেরা ইলিশের দেখা পাননি। বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন নিম্নচাপের কারণে সাগরে নামাও সম্ভব হয়নি। তবে গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে কিছু ট্রলারে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে।
মহেশখালীর তাজিয়াকাটা এলাকা থেকে পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের অন্তত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে জাল ফেলে জেলেরা এই ইলিশ ধরে এনেছেন। আমান উল্লাহ বলেন, গভীর সাগরে ইলিশ থাকলেও ছোট ট্রলার নিয়ে ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ইলিশ আহরণ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। ট্রলারের জেলে মো. আলমগীর বলেন, টানা পাঁচ দিন জাল ফেলে ইলিশের নাগাল পাননি। ষষ্ঠ দিন মহেশখালী উপকূলে জাল ফেলে ২ হাজার ২০০টি ইলিশ ধরতে পেরেছেন। জেলেরা জানান, এই ইলিশ বিক্রি থেকে প্রত্যেকেই ৫০ হাজার টাকা পাবেন।
"গত তিন মাস ধরে ইলিশের দেখা পাননি, শেষ মুহূর্তে এসে মাছ পেয়ে খুশি"
ফিশারিঘাটে গতকাল ২৭ জন মাছ ব্যবসায়ীকে পাওয়া গেল, যাঁরা ইলিশ কিনে বরফ দিয়ে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত দুই মাস জেলেরা সাগরে নামতে পারেনি। তবে গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে। এফভি কুলসুমায় সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়েছে।
কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলার ছোটবড় ৬ হাজার ট্রলারের মধ্যে ৪ হাজার ঘাটেই পড়ে আছে। অবশিষ্ট ২ হাজার ট্রলার সাগরে নামলেও ইলিশসহ অন্যান্য মাছ তেমন ধরা পড়ছে না। সাত দিন সময়ে ট্রিপে একটি ট্রলার সাগরে নামলে খরচ হয় ৬-৭ লাখ টাকা। কিন্তু যে পরিমাণ মাছ ধরা পড়ে, তা বিক্রি করে ১ থেকে ৩ লাখ টাকা পাওয়া যায়। লোকসান গুনতে গুনতে বহু মালিক ট্রলার বিক্রি করে দিচ্ছেন। জেলায় জেলের সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি। তাঁরাই সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, বাঁকখালী নদী, নুনিয়াছটা ঘাট, মহেশখালী উপকূল, বঙ্গোপসাগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আমান উল্লাহ (৫৪), মো. আলমগীর, জয়নাল আবেদীন, মো. দেলোয়ার হোসেন, ড. আশরাফুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ লাখ টাকা, ২ হাজার ২০০টি ইলিশ, ৭০০-৯০০ গ্রাম ওজন, ১২ জন জেলে, ৫০ হাজার টাকা, ৬ হাজার ট্রলার, ১ লাখ ২০ হাজার জেলে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!