📌 কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের ১৫টি পরিবার প্রায় দেড়শ বছর ধরে নৌকা তৈরির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। বর্ষাকালে নৌকার ব্যাপক চাহিদা থাকায় কারিগররা বছরের কয়েক মাস তুলনামূলক সচ্ছল থাকেন।
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের মানুষের জীবনে নৌকা তৈরির ঐতিহ্য প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো। ভোরের আলোয় শুরু হওয়া হাতুড়ির শব্দ আর কাঠের কাজের মধ্য দিয়ে গ্রামটি পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘নৌকার গ্রাম’ হিসেবে। গ্রামের ১৫টি পরিবার বংশানুক্রমে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডুমুরিয়া গ্রামের ১৫টি পরিবার প্রায় দেড়শ বছর ধরে নৌকা তৈরির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে
- 📌 একজন কারিগরের ছোট নৌকা তৈরিতে প্রায় এক দিন সময় লাগে
- 📌 একটি নৌকা তৈরিতে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ১০ হাজার টাকা
- 📌 নৌকা বিক্রি করে বছরের কয়েক মাস তুলনামূলক সচ্ছল থাকেন কারিগরেরা
- 📌 গ্রামের নারী ও শিশুরাও নৌকা তৈরির কাজে সহযোগিতা করেন
- 📌 ডিগলা, কোষা ও পাতাইল্লাকোষাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা তৈরি করেন কারিগরেরা
📰 বিস্তারিত
ডুমুরিয়া গ্রামের অবস্থান হোমনা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে। মেঘনা, গোমতী ও তিতাস নদীর কারণে এ অঞ্চলে নৌকার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। আধুনিক রাস্তাঘাট থাকলেও স্থানীয় মানুষ খালবিল, পুকুর ও জলাশয়ে চলাচল, মাছ ধরা, মাছ পরিবহন এবং গরু-ছাগল পালনের কাজেও নৌকা ব্যবহার করেন।
গ্রামের কারিগর অমরিকা চন্দ্র সরকার (৭৫) জানান, প্রায় দেড়শ বছর আগে মনমোহন চন্দ্র সরকার নামের এক ব্যক্তি এই গ্রামে নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেন। পরে গ্রামের অন্যান্য পরিবার তাঁর কাছ থেকে কাজটি শেখে। সেই থেকে বংশানুক্রমে এই ঐতিহ্য টিকে আছে। কারিগর সাধন চন্দ্র সরকার (৭০) তাঁর ছেলে জয়পাল চন্দ্র সরকার, গোপাল সরকার ও লিটন সরকারকে এই কাজ শিখিয়েছেন। সাধন চন্দ্র নিজেও তাঁর বাবা রজনী চন্দ্র সরকারের কাছ থেকে কাজটি শিখেছিলেন।
একটি নৌকা তৈরিতে ব্যবহৃত হয় রেইনট্রি, কড়ই, চাম্বুল ও মেহগনি কাঠসহ বিভিন্ন ধরনের কাঠ। কাঠ সংগ্রহ করা হয় বরিশাল থেকে। দাউদকান্দির গৌরীপুর, বাতাকান্দি, দাউদকান্দি সদর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের বাজারের মাধ্যমে কাঠ আসে ডুমুরিয়ায়। কাঠ সংগ্রহের পর রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর নৌকার ধরন অনুযায়ী কাঠ কেটে বিভিন্ন অংশ তৈরি করা হয়।
নৌকা তৈরির কাজে স্বামী রাজ কৃষ্ণা সরকারকে সহযোগিতা করেন স্ত্রী শেফালী রানী সরকার। তিনি সংসারের কাজ শেষ করে নৌকায় গাব-আটা মেশানো উপকরণ দেওয়া, রং ও আলকাতরা দেওয়ার কাজে সাহায্য করেন। পাশাপাশি স্বামীকে কাজের ফাঁকে খাবার ও চা-বিস্কুটও দেন।
"বর্ষা এলেই ডুমুরিয়ায় নৌকা তৈরির ব্যস্ততা বেড়ে যায়। নৌকা তৈরির এই মৌসুম থেকে আয় করে অনেকেই বছরের কয়েক মাস তুলনামূলক সচ্ছলভাবে চলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ডুমুরিয়া গ্রাম, হোমনা উপজেলা, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অমরিকা চন্দ্র সরকার, সাধন চন্দ্র সরকার, জয়পাল চন্দ্র সরকার, গোপাল সরকার, লিটন সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫টি পরিবার, ১৫০ বছর, ৭৫ বছর, ৭০ বছর, ৩ কিলোমিটার, সাড়ে ৩ হাজার টাকা, সাড়ে ১০ হাজার টাকা, সাড়ে ৪ হাজার টাকা, সাড়ে ১২ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!