📌 কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে শনিবার দুপুরে দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। হাবিবুর রহমানের দোকান থেকে ১৮ লাখ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় জমি মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে কমলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, হামলাকারীরা দোকান থেকে ১৮ লাখ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ অক্টোবর দুপুরে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশে কমলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জমি বিরোধের জেরে দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে
- 📌 হাবিবুর রহমানের দোকান থেকে ১৮ লাখ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি হয়
- 📌 রুবেল মিয়া দাবি করেন, মুর্শিদ মিয়া ও কনক মিয়া দলবল নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে ভাঙচুর চালায়
- 📌 মুর্শিদ মিয়া জমির ক্রয়সূত্রে মালিক বলে দাবি করে, রুবেল মিয়া আদালতের ভুয়া রায় দেখিয়ে দোকান ভাড়া দিয়েছেন
- 📌 পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, অপরাধীদের শনাক্তের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় জমি মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শনিবার দুপুরে কমলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুবেল মিয়া ও মুর্শিদ মিয়ার মধ্যে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এর মধ্যে শনিবার দুপুরে একদল লোক ওই এলাকায় গিয়ে কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাবীবুর রহমান, যিনি জমির মালিক রুবেল মিয়ার কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন, বলেন, শনিবার দুপুরে একদল লোক তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় দোকান থেকে নগদ ১৮ লাখ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মুর্শিদ মিয়া, কনক মিয়াসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত।
রুবেল মিয়া জমির মালিকানা নিয়ে বলেন, ‘জমিটি আমি নানাবাড়ির সম্পত্তি হিসেবে পেয়েছি। জমির কাগজপত্র আমাদের নামেই রয়েছে। মুর্শিদ মিয়ার সঙ্গে এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। শনিবার দুপুরে মুর্শিদ মিয়া ও কনক মিয়া দলবল নিয়ে এসে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান।’
অপরদিকে, মুর্শিদ মিয়া জমির মালিকানা নিয়ে দাবি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি জমিটির ক্রয়সূত্রে মালিক। প্রায় দুই বছর আগেও এখানকার দোকানপাটের ভাড়া তুলেছি। রুবেল মিয়া আদালতের ভুয়া রায় দেখিয়ে একদল লোককে প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়েছেন। পরে আমি জমিটি কনক মিয়ার কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।’ কনক মিয়াও জমিটি বৈধভাবে কেনার দাবি করে বলেন, ‘আমি মুর্শিদ মিয়ার কাছ থেকে জমিটি কিনেছি। এ সংক্রান্ত কাগজপত্রও সঠিক রয়েছে। জমি দখল করতে গেলে মালিকপক্ষের লোকজন আমাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়।’
খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যতটুকু জানতে পেরেছি, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। তবে যেকোনো ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কাম্য নয়। অপরাধীদের শনাক্ত করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
"জমিটি আমি নানাবাড়ির সম্পত্তি হিসেবে পেয়েছি। জমির কাগজপত্র আমাদের নামেই রয়েছে। মুর্শিদ মিয়ার সঙ্গে এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।" — রুবেল মিয়া
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কমলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা, ভৈরব উপজেলা, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুবেল মিয়া, মুর্শিদ মিয়া, কনক মিয়া, হাবিবুর রহমান, মো. মাহবুবুর রহমান (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ লাখ টাকা (চুরি), ৩ অক্টোবর (ঘটনার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!