📌 ময়মনসিংহে অন্তরঙ্গ ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে নিরঞ্জন ধর (৫৪)কে হত্যা করে শামীম মিয়া (৩৮)। পিবিআই শামীমকে গ্রেফতার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে
ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ী এলাকার স্লুইসগেটে পানিতে ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নিরঞ্জন ধর (৫৪)কে ব্ল্যাকমেইল হুমকিতে হত্যা করেছে শামীম মিয়া (৩৮)। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শামীমকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ হিসেবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহে অন্তরঙ্গ ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে নিরঞ্জন ধর (৫৪)কে হত্যা করে শামীম মিয়া (৩৮)।
- 📌 পিবিআই শামীম মিয়াকে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে, তিনি ময়মনসিংহে আত্মগোপন করছিলেন।
- 📌 নিহত নিরঞ্জন ধর ময়মনসিংহ নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন এবং সোনার দোকানে কাজ করতেন।
- 📌 হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিল ও বঁটি উদ্ধার করা হয়েছে, লাশটি ড্রামে বেঁধে স্লুইসগেটে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 পিবিআই জানায়, শামীমের সাথে নিরঞ্জনের ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল গ্যারেজের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার কারণে।
📰 বিস্তারিত
পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে জানান, শামীম মিয়া (৩৮) নিরঞ্জন ধরকে হত্যা করেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজারের বটতলা এলাকায় শামীমকে তার শ্যালক মাসুদ রানার ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে অবস্থানকালে গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই জানায়, নিরঞ্জন ধর একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে শামীমকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন। শামীমের পরিবারের সদস্যদের জানানোর হুমকি দিয়ে নিরঞ্জন প্রায় দুই লাখ টাকা নেয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিরঞ্জন আবারো টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে তার মুখে কাপড় গুঁজে বঁটি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। নিরঞ্জনের মৃত্যু হয় বলে দাবি পিবিআই। হত্যার পর লাশটি চটের বস্তায় ভরে দুই পাশ বেঁধে একটি নীল রঙের চালের ড্রামে রাখা হয়। শামীম হানিফ মিয়া নামে এক ইজিবাইকচালককে ডেকে ড্রামটি সরিয়ে নেয়ার কথা বলে ইজিবাইকে তোলা হয়। পরদিন রাতে ড্রামটি নিয়ে বেগুনবাড়ী স্লুইসগেটে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহত নিরঞ্জন ধর ময়মনসিংহ নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি নগরের আঠারবাড়ি বিল্ডিং এলাকায় একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন এবং চারটি অটোরিকশা চালাতেন। শামীম নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৃষ্টপুর গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ নগরের গলগণ্ডা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পিবিআই জানায়, শামীমের পরিবারের সদস্যরা বাসায় নিয়মিত না থাকার সুযোগে তিনি প্রায়ই ভাড়া বাসায় নারী নিয়ে আসতেন।
"নিরঞ্জন ধর একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে শামীমকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন এবং ওই ভিডিও প্রকাশ করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করছিলেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শামীম নিরঞ্জনকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ নগর, বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট, গাজীপুর গাছা থানা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শামীম মিয়া (৩৮), নিরঞ্জন ধর (৫৪), পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪ (নিরঞ্জনের বয়স), ৩৮ (শামীমের বয়স), ২৭ সেপ্টেম্বর (গ্রেফতার তারিখ), ২৬ সেপ্টেম্বর (গ্রেফতার তারিখ), ২১ সেপ্টেম্বর (হত্যাকাণ্ডের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!