📌 কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একটি পরিবারে মেঘনা নদীর দুর্ভাগ্য ঘটে। মা-মেয়ের বাঁচলেও স্বামী ও তিন সন্তান ডুবে যান। বর্তমানে স্বামী হেলাল উদ্দিনের মরদেহও পাওয়া যায়নি
মেঘনা নদীর তীরে দুর্ভাগ্যের ঘটনা ঘটে। কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একটি পরিবারে স্বামী ও তিন সন্তানের মৃত্যু ঘটে। মা-মেয়ের বাঁচলেও তাদের জীবনও কালো রঙ ধারণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের বৈদ্যেরবাজার এলাকায় মেঘনা নদীতে ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে ট্রলার ডুবে যায়। এই দুর্ঘটনায় স্বামী হেলাল উদ্দিন শিকদার (৫০), ছেলে সজীব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) ও ছোট ছেলে সামিন হোসেন (৫) নিহত হন। তবে মা শিরিনা আক্তার (৪০) ও ছোট মেয়ে লামিয়া আক্তার (৭) বাঁচতে সক্ষম হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেঘনা নদীতে ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে ট্রলার ডুবে যায়, চারজন নিহত হন, স্বামী হেলাল উদ্দিনের মরদেহও পাওয়া যায়নি
- 📌 শিরিনা আক্তার (৪০) ও ছোট মেয়ে লামিয়া আক্তার (৭) বাঁচলেও স্বামী হেলাল উদ্দিন (৫০), ছেলে সজীব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) ও ছোট ছেলে সামিন হোসেন (৫) নিহত হন
- 📌 ১২ আত্মীয়স্বজন ট্রলারে করে বৈদ্যেরবাজার যাচ্ছিলেন, কিন্তু চালক ট্রলারটিকে নদীর মাঝখানে না যাওয়ার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে
- 📌 স্বামী হেলাল উদ্দিন ও ফুফাতো বোন রায়েসা বেগম (৪০) ডুবে যান, তাদের মরদেহও এখনো পাওয়া যায়নি
- 📌 শিরিনা আক্তার বিলাপ করতে বলছেন, ‘মা-মেয়ের খাওয়াদাওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই, স্বামী ও সন্তানদের খোঁজ পাওয়া যায়নি’
📰 বিস্তারিত
মেঘনা নদীর তীরে দুর্ভাগ্যের ঘটনা ঘটে। কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক হেলাল উদ্দিন শিকদার (৫০) ও তার পরিবার গত বৃহস্পতিবার বৈদ্যেরবাজার এলাকায় ট্রলারে করে যাচ্ছিলেন। ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে ট্রলারটি ডুবে যায়। এই দুর্ঘটনায় হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজীব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) ও ছোট ছেলে সামিন হোসেন (৫) নিহত হন। তবে মা শিরিনা আক্তার (৪০) ও ছোট মেয়ে লামিয়া আক্তার (৭) বাঁচতে সক্ষম হন।
শিরিনা আক্তার বিলাপ করতে বলছেন, ‘এহন আমাগো মা-মেয়েরে কে খাওন দিব? হায় রে আল্লাহ, তোমার কি একটু দয়ামায়া অইল না! মা-মেয়ের ভাত খাওনের লাইগা ভিক্ষা ছাড়া কোনো পথ নাই।’ তিনি জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবিতে তিন ছেলে-মেয়ে হারিয়েছেন। স্বামী হেলাল উদ্দিনেরও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শিরিনা আক্তার বলেন, ট্রলারটি মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় নদীর মাঝখানে পৌঁছানোর আগেই ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে ট্রলারটি ডুবে যায়। তিনি ও ছোট মেয়ে লামিয়া আক্তার সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে স্বামী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও ফুফাতো বোন ডুবে যান। তিনি অভিযোগ করেন, আশপাশের লোকজন তাদের কূলে উঠতে সহযোগিতা করেননি।
ঘটনার দুদিন পর শনিবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশের চেষ্টায় সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে হেলাল উদ্দিন ও ফুফাতো বোন রায়েসা বেগম (৪০) এর মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি।
"হিলারে (স্বামী হেলাল উদ্দিন) এহনো খুঁইজ্জা পায় নাই। মনে অয়, হিলায় গইল্লা-পইচ্চা শেষ হয়ে গেছে।"
হেলাল উদ্দিন ও শিরিনা আক্তার আপন খালাতো ভাই-বোন। তারা একই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার আগে তারা ১২ আত্মীয়স্বজন নিয়ে বৈদ্যেরবাজার যাচ্ছিলেন। ট্রলারের চালক আহম্মেদ নবী ট্রলারটিকে নদীর মাঝখানে না যাওয়ার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্রীমদ্দি গ্রাম (কুমিল্লা, হোমনা উপজেলা), বৈদ্যেরবাজার (নারায়ণগঞ্জ), মেঘনা নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিরিনা আক্তার (৪০), হেলাল উদ্দিন শিকদার (৫০), সজীব হোসেন (২৪), সামিয়া আক্তার (১৭), সামিন হোসেন (৫), রায়েসা বেগম (৪০)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ (হেলাল উদ্দিনের বয়স), ৪০ (শিরিনা আক্তারের বয়স), ২৪ (সজীব হোসেনের বয়স), ১৭ (সামিয়া আক্তারের বয়স), ৫ (সামিন হোসেনের বয়স), ১২ (আত্মীয়স্বজন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!