📌 ৮৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা নিজের সিদ্ধান্তের মাশুল গুনছেন। জমিজমা বিক্রি করে চার মেয়েকে অর্থ দিয়েছিলেন, কিন্তু দুই ছেলেকে বঞ্চিত রাখেন। বার্ধক্যে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সন্তানদের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য বাড়ি ফিরেছেন
৮৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা জীবনের শেষ প্রান্তে নিজের সিদ্ধান্তের মাশুল গুনছেন। সম্পদ বিলিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ার পর তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, সন্তানদের বঞ্চিত করে নিজেই ভুল করছিলেন। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরণ গ্রামে বসবাসকারী তিনি নিজের জমিজমা বিক্রি করে চার মেয়েকে অর্থ দিয়েছিলেন, কিন্তু দুই ছেলেকে বঞ্চিত রাখেন। এখন বার্ধক্যে এসে অসুস্থ শরীর নিয়ে সন্তানদের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য বাড়ি ফিরেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৮৫ বছর বয়সী শামসুল হক মোল্লা** নিজের সিদ্ধান্তের মাশুল গুনছেন — সন্তানদের বঞ্চিত করে নিজেই ভুল করছিলেন বলে মনে করেন তিনি।
- 📌 **জমিজমা বিক্রি করে চার মেয়েকে অর্থ দিয়েছিলেন**, কিন্তু দুই ছেলেকে বঞ্চিত রাখেন।
- 📌 **সৌদি আরবে ওমরাহ করার উদ্দেশ্যে যান**, কিন্তু অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন।
- 📌 **সঞ্চিত অর্থ দান, ধার ও হারিয়ে ফেলার কারণে নিঃস্ব হয়ে পড়েন**।
- 📌 **বাড়ি ফিরে আসার পর দাবি করেন**, কোনো মেয়ে তাঁকে বের করে দেননি — নিজের অভিমান ও সংকোচের কারণে ছেলেদের বাড়িতে উঠতে পারেননি।
📰 বিস্তারিত
হাজী শামসুল হক মোল্লা বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরণ গ্রামে বসবাস করতেন। সম্প্রতি বাড়ির পাশের গাছতলায় তাঁর অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের উদ্যোগে তাঁকে দুই ছেলের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
শামসুল হক বলেন, ‘আমি ভুল করেছি। সন্তানদের ঠকিয়েছি, তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করেছি। আমার মতো ভুল যেন আর কোনো বাবা না করেন। সন্তানদের নিঃস্ব করে নিজে খামখেয়ালি করা বোকামি। জীবনের শেষ কটা দিন সন্তানদের নিয়ে, পরিবারের সঙ্গে থাকতে চাই।’
তিনি জানান, প্রায় তিন বছর আগে নিজের জমিজমা বিক্রি করে চার মেয়েকে কিছু অর্থ দিয়েছিলেন। অবশিষ্ট টাকা নিজের কাছে রাখেন। জমি বিক্রির অর্থ থেকে দুই ছেলেকে কিছুই দেননি। পরে নিজের কাছে থাকা অর্থের একটি অংশ নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। তবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওমরাহ সম্পন্ন না করেই দেশে ফিরতে হয় তাঁকে। দেশে ফিরে কখনো মেয়েদের বাড়িতে, কখনো মসজিদ-মাদরাসায় সময় কাটিয়েছেন। নিজের কাছে থাকা টাকা থেকে কাউকে ধার দিয়েছেন, কিছু অর্থ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করেছেন। আবার কিছু টাকা হারিয়েও ফেলেছেন। এভাবে একসময় তাঁর সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে যায়।
তিনি দাবি করেন, কোনো মেয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেননি। বরং নিজের অভিমান ও সংকোচের কারণে ছেলেদের বাড়িতে উঠতে পারেননি তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমাকে রাস্তায় ফেলে যায়নি আমার মেয়ে। মূলত আমি আমার বড় মেয়ে ও ছেলের বাড়িতে ওঠার সাহস পাইনি।’
"আমি ভুল করেছি। সন্তানদের ঠকিয়েছি, তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করেছি। আমার মতো ভুল যেন আর কোনো বাবা না করেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর হিরণ গ্রাম, কোটালীপাড়া উপজেলা, গোপালগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাজী শামসুল হক মোল্লা (৮৫ বছর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৫ বছর বয়স, ৪ নভেম্বর (তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!