📌 সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছে, কিন্তু মেয়াদপূর্তির আগে এফডিআর ভেঙে টাকা তুললে মুনাফা পাবেন না। ৭৫ হাজার গ্রাহকের আবেদন থেকে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এফডিআরধারীদের জন্য ‘হেয়ার কাট’-এর মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় আমানতকারীদের মধ্যে স্বস্তির সঞ্চার হলেও, মেয়াদপূর্তির আগে এফডিআর ভেঙে টাকা তুললে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি ‘হেয়ার কাট’-এর মতো আর্থিক ক্ষতির সৃষ্টি করছে। একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় মুনাফা ছাড়াই মূল টাকা ফেরত পাওয়ার শর্তটি আমানতকারীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া আমানত ফেরতের আবেদনে ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন, যার মোট চাহিদা ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
- 📌 সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেয়েছে আমানত ফেরতের জন্য।
- 📌 মেয়াদপূর্তির আগে এফডিআর ভেঙে টাকা তুললে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না, মূল টাকা ছাড়া আর কিছু পাবেন না।
- 📌 কুমিল্লার এক গ্রাহক জানান, তার ২৩ লাখ টাকার এফডিআর ভাঙতে গিয়ে ব্যাংক মাত্র ২২ লাখ টাকা অনুমোদন করেছে।
- 📌 সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এফডিআরধারীরা মূল টাকা তুলতে পারবেন, কিন্তু মুনাফা ছাড়া।
📰 বিস্তারিত
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে আমানতকারীদের মধ্যে স্বস্তির সঞ্চার হলেও, মুনাফা ছাড়াই মূল টাকা ফেরত পাওয়ার শর্তটি আমানতকারীদের জন্য একটি বড় আর্থিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাংকগুলোর তারল্যসংকটের কারণে আমানতকারীদের টাকা ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তা ছিল।
১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানত ফেরতের আবেদন নেওয়া শুরু হয়। ছয় দিনের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন, যার মোট চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে। গতকাল সোমবার থেকে আমানতকারীদের চলতি ও স্থায়ী আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে আমানতকারীরা ভালোভাবেই আমানতের টাকা তুলতে পেরেছেন। গতকাল আমানতকারীদের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে শেষ বেলা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা নিয়েছেন গ্রাহকেরা।
কিন্তু এফডিআরধারীদের জন্য বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। মেয়াদপূর্তির আগে এফডিআর ভেঙে টাকা তুললে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ একজন গ্রাহক যে হারে মুনাফার প্রত্যাশায় দীর্ঘমেয়াদি আমানত করেছিলেন, মেয়াদপূর্তির আগে পুরো অর্থ তুলে নিলে সেই প্রত্যাশিত মুনাফা আর পাওয়া যাবে না। ফলে মূল আমানত ফেরত পাওয়ার বিনিময়ে ভবিষ্যৎ মুনাফা ত্যাগ করতে হচ্ছে, যা আমানতকারীর দৃষ্টিতে একধরনের আর্থিক ছাড় বা ‘হেয়ার কাট’-এর মতো প্রভাব তৈরি করছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার গ্রাহক অবসরপ্রাপ্ত মাহবুব রাব্বানী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই ব্যাংকে আমার মোট ৫২ লাখ টাকার ১২টি এফডিআর রয়েছে। চাকরিজীবন শেষে যে পেনশন পেয়েছিলাম, তার পুরো টাকাই আমি এই ব্যাংকে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রেখেছিলাম। সেখান থেকে আমি ৬টি এফডিআরের বিপরীতে ২৩ লাখ টাকার এফডিআর ভাঙাতে আবেদন করেছিলাম। আমার মুনাফাসহ পাওয়ার কথা ছিল ২৮ লাখ টাকা। আজ ব্যাংকে গেলে আমাকে জানানো হয়েছে, ২২ লাখ টাকা অনুমোদন হয়েছে। যেখানে আমি রেখেছিলাম ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ মূল টাকা থেকেও কম দিতে চাইছে।’
"মেয়াদপূর্তির আগে এফডিআর ভেঙে আমানত তুলে নিতে চাইলে আমানতকারীকের মুনাফা ছাড়াই মূল টাকা নিতে হবে। তবে তিনি যদি বিশেষ প্রয়োজনে এফডিআরের পুরো টাকা না তুলে অর্ধেক বা যেকোনো অংশ তুলে নেন, তাহলে বাকি টাকা মুনাফাসহ নতুন করে এফডিআর করে রাখতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তিনি পুরো মুনাফাই পাবেন।"
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, মেয়াদপূর্তির আগে এফডিআর ভেঙে আমানত তুলে নিতে চাইলে আমানতকারীকের মুনাফা ছাড়াই মূল টাকা নিতে হবে। তবে তিনি যদি বিশেষ প্রয়োজনে এফডিআরের পুরো টাকা না তুলে অর্ধেক বা যেকোনো অংশ তুলে নেন, তাহলে বাকি টাকা মুনাফাসহ নতুন করে এফডিআর করে রাখতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তিনি পুরো মুনাফাই পাবেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা (গ্রাহক), চট্টগ্রাম (বন্দর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহবুব রাব্বানী (গ্রাহক), আবেদুর রহমান সিকদার (সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২ লাখ টাকা (মাহবুব রাব্বানীর মোট এফডিআর), ১২টি এফডিআর, ২৩ লাখ টাকা (ভাঙানো এফডিআর), ২২ লাখ টাকা (অনুমোদিত টাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!