📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দফা মারপিট: ছাত্রলীগ ট্যাগে আনাস ও মাহমুদুল গ্রেফতার—রাকসু জিএস আম্মারের ভূমিকায় প্রশ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দফা মারপিট: ছাত্রলীগ ট্যাগে আনাস ও মাহমুদুল গ্রেফতার—রাকসু জিএস আম্মারের ভূমিকায় প্রশ্ন

📷 ছবি: দেশজোগ

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 বিবিসি বাংলা ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 বিবিসি বাংলা প্রতিবেদক সজল দাস। সংস্কৃত বিভাগের নারী শিক্ষার্থীর প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান থেকে শুরু। তিন দফা মারপিট—প্রক্টর অফিস, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, অ্যাম্বুলেন্স। ভুক্তভোগী: আনাস আহাম্মেদ ও মাহমুদুল হাসন—ইতিহাস বিভাগ ২০১৭-১৮। রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার—লাঠি হাতে ভাইরাল ভিডিও। রাকসু তথ্য সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব আহত। প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান: খারাপ দৃষ্টান্ত, ১০ কর্মদিবসে তদন্ত। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেফতার। পুলিশ মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান। ট্যাগিং রাজনীতি প্রশ্ন।

প্রক্টর অফিসে প্রথম দফায় মারধরের পর লাইব্রেরিতে ঢুকেও রেহাই মেলেনি। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়েও দেওয়া হয় আরেক দফা পিটুনি। শেষমেষ ছাত্রলীগ পরিচয়ে দুইজনকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। বিবিসি বাংলার সজল দাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নেতাদের এই কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী আনাস আহাম্মেদ ও মাহমুদুল হাসনকে মঙ্গলবার 'সন্ত্রাস বিরোধী আইনে' গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রাকসু সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন—ঘটনার সময় লাঠি হাতে তাঁর অবস্থান ও উত্তেজিত বক্তব্যের একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • ভুক্তভোগী: আনাস আহাম্মেদ ও মাহমুদুল হাসন—রাবির ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী; ছাত্রলীগ পরিচয়ে গ্রেফতার।
  • মূল ঘটনা: সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান—তার বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ; এই ঘটনার সূত্র ধরে তিন দফা মারপিট।
  • প্রথম দফা: সোমবার দুপুরে প্রক্টর দপ্তরে—রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার আনাসকে 'ছাত্রলীগ কর্মী' দাবি করে মারধর।
  • দ্বিতীয় দফা: দুপুরের পর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাঠকক্ষে—আনাস ও সঙ্গীদের আশ্রয় নেওয়ার পরও মারধর; প্রক্টরিয়াল টিম থামাতে ব্যর্থ।
  • তৃতীয় দফা: আহত মাহমুদুল হাসনকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় টেনে নামিয়ে মারধর—প্রক্টরিয়াল বডির সামনে।
  • রাকসু জিএস: সালাউদ্দিন আম্মার—লাঠি হাতে উপস্থিতি, উত্তেজিত বক্তব্য, ভাইরাল ভিডিও; অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
  • রাকসু তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক: বি এম নাজমুস সাকিব—আহত হয়েছেন বলে দাবি।
  • প্রক্টর: ড. মাহবুবুর রহমান—ঘটনাকে 'খারাপ দৃষ্টান্ত' বলেছেন; তদন্ত কমিটি ১০ কর্মদিবসে প্রতিবেদন দেবে।
  • আদালত: মঙ্গলবার 'সন্ত্রাস বিরোধী আইনে' গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ।
  • পুলিশ: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান—অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন।
  • প্রশ্ন: প্রশাসনিক পদক্ষেপের বদলে 'ট্যাগিং রাজনীতি'—ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে মারধরের সংস্কৃতি ফিরছে কিনা।

ঘটনার সূত্রপাত: প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান অভিযুক্তদের নিয়ে একটি সভায় বসলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আনাস আহাম্মেদ ও হাসিবসহ কয়েকজন উপস্থিত হয়ে প্রক্টরের সঙ্গে তর্কে জড়ান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন।

এর জের ধরে সোমবার দুপুরে প্রক্টর দপ্তরে পুনরায় সভা ডাকা হয়। যেখানে উপস্থিত হয়ে আনাস আহাম্মেদকে নিষিদ্ধ ঘোষিত 'ছাত্রলীগ কর্মী' হিসেবে দাবি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। এ সময় প্রক্টরের দপ্তরেই আনাসকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে প্রক্টরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িক শান্ত হলে শিক্ষার্থীরা কার্যালয় ত্যাগ করেন।

তিন দফা মারপিট: প্রক্টর অফিস, লাইব্রেরি, অ্যাম্বুলেন্স

দুপুরের পরে আনাস আহাম্মেদ এবং তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ছাত্র সংসদ ভবনে হামলার অভিযোগ তোলেন রাকসু নেতারা। যে ঘটনায় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। এর পরপরই রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ধাওয়া করলে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাঠকক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেন আনাস আহাম্মেদ এবং তার সঙ্গীরা।

এসময় লাইব্রেরির ভেতরেই আনাস ও তার সঙ্গীদের মারধর শুরু করেন সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম ও সেখানে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও থামানো যায়নি। এমনকি আহত শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসনকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ও প্রক্টরিয়াল বডির সামনে তাকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের ভূমিকা

এই ঘটনায় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দীন আম্মারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ঘটনার সময় লাঠি হাতে তাঁর অবস্থান, উত্তেজিত বক্তব্য এবং মারপিটের একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেওয়ার পরও ছাত্র সংসদের নেতারা অযাচিত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

যদিও এই অভিযোগ সঠিক নয় বলে মত রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দীন আম্মারের। তিনি বলছেন—বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি ছাত্র সংসদকেও এই ঘটনা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। 'শিক্ষার্থীর তো আমার এখানেও অভিযোগ আসছে। আমি সবসময় আপডেট রাখছিলাম—আমার এজিএস ফুল টাইম ছিলেন। রাকসু অযাচিত হস্তক্ষেপ করার তো সুযোগ নাই—এটা তো কোনো পলিটিকাল অরগানাইজেশন না—শিক্ষার্থীদের সমস্যা তো আমাকে দেখতে হবে,' বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি। আম্মার দাবি করেছেন—গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল ফোনের তথ্য ও ছবি যাচাই করে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

'ট্যাগিং রাজনীতি' ফিরছে কিনা?

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ট্যাগিং নতুন নয়। অতীতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল কিংবা ছাত্রশিবির ট্যাগ দিয়ে মারধর, আবাসিক হল থেকে বের করে দেওয়া কিংবা পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সংঘাত ও মারপিটের ঘটনায় দুইজনকে ছাত্রলীগ পরিচয়ে গ্রেফতারের পর—বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবারও 'রাজনৈতিক ট্যাগ' দেওয়ার সংস্কৃতি ফিরছে কিনা এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এক শিক্ষার্থী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন—'ক্যাম্পাসে হলে থাকতে অনেক শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে যেতে হয়েছে কিংবা অনেক সময় ছাত্রলীগ করে এমন বন্ধুর সঙ্গে ছবিও থাকতে পারে। তাই বলে তাকে আপনি ট্যাগ দিয়ে মারধর করবেন—এই সংস্কৃতি তো আগে ছিল।' অন্য এক শিক্ষার্থী বলেছেন—'ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থানে আছে। দখল পাল্টা দখলের রাজনীতিতে কখন যে কী হয়—এমন একটা শঙ্কা সবসময়ই আমাদের মধ্যে রয়েছে।'

প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান: 'খারাপ দৃষ্টান্ত'

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি পরিদর্শনের পাশাপাশি তদন্ত কমিটি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান। ঘটনাটিকে 'খারাপ দৃষ্টান্ত' হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন—আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে কোনো সংঘাতের ঘটনা না ঘটলেও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান।

'আমি সবসময় আপডেট রাখছিলাম—আমার এজিএস ফুল টাইম ছিলেন। রাকসু অযাচিত হস্তক্ষেপ করার তো সুযোগ নাই—এটা তো কোনো পলিটিকাল অরগানাইজেশন না—শিক্ষার্থীদের সমস্যা তো আমাকে দেখতে হবে।'—সালাউদ্দিন আম্মার, রাকসু সাধারণ সম্পাদক, বিবিসি বাংলাকে
যাচাই অবস্থা: ✓ যাচাইকৃত (নির্ভরতা স্কোর: 80%)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖