📌 গাজার যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত বইগুলো থেকে বাঁচে শিশুদের জন্য নতুন জীবন। ১২ হাজার বই বের করে আনে মোহাম্মদ সাদ, আর ৩ হাজার বই সংগ্রহ করে ওমার হামাদ। বইগুলো শিশুদের শিক্ষা ও মানসিক শান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়াচ্ছে
গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশে বইগুলো শিশুদের জন্য নতুন আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দশ বছর বয়সী আয়া আল-শাওয়া গাজার একটি স্কুলে পড়াশোনা করছেন। তিনি একটি বই পেয়েছেন যা তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠেছে। এই বইটি আগে একটি ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা হয়েছিল। বইটি ধুলো-মাটি থেকে সাফ করা, পাতা সংরক্ষণ করা এবং মেরামত করা হয়। এরপর এটি আয়ার হাতে চলে আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজায় ৯৮% স্কুল ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত, যার ফলে ৭০০,০০০ শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত
- 📌 মোহাম্মদ সাদ ১৬ বার বসতি পরিবর্তন করে ১২,০০০ বই বের করে আনে ধ্বংসস্তূপ থেকে
- 📌 ওমার হামাদ ও তার দল ৩,০০০ বই সংগ্রহ করে, যার মধ্যে ১৯৫৬ সালের ‘প্যালেস্টাইন ক্যাটাস্ট্রফি’ বইটি ছিল
- 📌 বইগুলো শিশুদের জন্য ৫ থেকে ১৫ শেকেলের (১.৬৩ থেকে ৪.৮৯ ডলার) দামে বিক্রি হচ্ছে
- 📌 মোহাম্মদ সাদ বলেছেন, ‘আমি তাদের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাঁচিয়েছি এবং আগুন থেকে বাঁচিয়েছি, কিন্তু বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে পারছি না’
📰 বিস্তারিত
গাজার যুদ্ধে বইগুলো একটি অদ্ভুত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যুদ্ধের শুরু থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে, গাজার প্রায় ৭০০,০০০ শিশু নিয়মিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় প্রায় ৯৮% স্কুল ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বইগুলো শিশুদের শিক্ষা ও মানসিক শান্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোহাম্মদ সাদ, ৫৪ বছর বয়সী একজন বইপ্রেমী, গাজার বেইত লাহিয়া থেকে। তিনি ৩৫ বছর ধরে বই সংগ্রহ করছিলেন এবং তার লাইব্রেরিতে ৫০,০০০ থেকে ১০০,০০০ টি বই ছিল। ২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর তার লাইব্রেরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সাদ ১৬ বার বসতি পরিবর্তন করে বেইত লাহিয়া ফিরে আসেন এবং তার বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে বইগুলো বের করে আনেন। তিনি বলেছেন, “আমি তাদের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাঁচিয়েছি এবং আগুন থেকে বাঁচিয়েছি, কিন্তু বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে পারছি না।”
সাদ বের করে আনেন ১২,০০০ টি বই এবং দের এল-বালাহে একটি টেন্ট লাইব্রেরি স্থাপন করেন, যার নাম ‘আথার’। এই লাইব্রেরিতে শিশুদের জন্য বইগুলো সস্তা দামে বিক্রি হচ্ছে। বইগুলো শিশুদের জন্য একটি আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা যুদ্ধের কারণে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে, ওমার হামাদ, ৩০ বছর বয়সী একজন বসতিবিদ, গাজার বেইত হানোন থেকে। তিনি গাজার উত্তরাঞ্চল ও গাজা শহরের ধ্বংসপ্রাপ্ত লাইব্রেরি থেকে বইগুলো সংগ্রহ করছেন। তার দল বর্তমানে ৩,০০০ টি বই সংগ্রহ করেছে। এই বইগুলোতে রয়েছে ১৯৫৬ সালের ‘প্যালেস্টাইন ক্যাটাস্ট্রফি’ বইটি, যা গাজার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপ থেকে পাওয়া গিয়েছিল।
"আমি তাদের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাঁচিয়েছি এবং আগুন থেকে বাঁচিয়েছি, কিন্তু বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে পারছি না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা উপত্যকা (বেইত লাহিয়া, দের এল-বালাহ, বেইত হানোন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ সাদ (৫৪), ওমার হামাদ (৩০), আয়া আল-শাওয়া (১০)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০০,০০০ (শিশু), ৯৮% (স্কুল ভবন), ১২,০০০ (বই), ৩,০০০ (বই), ৫-১৫ শেকেল (বইয়ের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!