📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চার শিক্ষার্থী মাত্র চার মাসের প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। তারা বিশ্বের শীর্ষ ৪০ দলের মধ্যে একটি দল গঠন করেছে এবং ১১-১৪ অক্টোবর আটলান্টা হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার মূল পর্ব।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে চার শিক্ষার্থী মাত্র চার মাসের প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) আয়োজিত ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কমপিটিশন ২০২৬’-এর মূল পর্বে তারা বিশ্বের শীর্ষ ৪০ দলের মধ্যে একটি দল গঠন করে অংশ নেবেন। প্রতিযোগিতার মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার একটি হোটেলে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়েটের চার শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে মর্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে বিশ্বের শীর্ষ ৪০ দলের মধ্যে
- 📌 দলের সদস্য: খন্দকার ফাহাদ আলম, সুমাইয়া বিনতে মান্নান, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও স্বরূপ চন্দ্র মোদক
- 📌 সহযোগী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন: সানিউল হক, রূপম পোদ্দার, আমীর হামজা মাহমুদ ও মো. সাইজউদ্দিন ফরহাদ
- 📌 দলের উপদেষ্টা: চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক জি এম সাদিকুল ইসলাম
- 📌 প্রতিযোগিতায় প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা পরীক্ষার জন্য মোট ৭০ শতাংশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে
- 📌 ৪০টি দলের মধ্যে মাত্র ছয়টি দল এসিআই কংক্রিট কনভেনশনে স্লাইড প্রেজেন্টেশনের সুযোগ পাবে
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের দল এ প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে অংশ নেয়। এর মধ্যে সেরা ৪০ দলে জায়গা করে নিয়েছে চুয়েটের দলটি। দলের চার সদস্য হলেন পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার ফাহাদ আলম, সুমাইয়া বিনতে মান্নান, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও স্বরূপ চন্দ্র মোদক। তাদের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সানিউল হক, রূপম পোদ্দার ও আমীর হামজা মাহমুদ এবং তৃতীয় বর্ষের মো. সাইজউদ্দিন ফরহাদ। সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না, বরং তারা দেশে থেকেই চার শিক্ষার্থীকে সহায়তা করবেন।
দলের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার চুয়েট শাখার অনুষদ উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম। নির্বাচিত ৪০টি দলের মধ্যে মাত্র ছয়টি দল এসিআই কংক্রিট কনভেনশনে স্লাইড প্রেজেন্টেশনের সুযোগ পাবে। এতে নিজ নিজ এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টারের কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে হবে। টিম চুয়েটসি ওই ছয়টি দলের একটি। প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তারা এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার চুয়েট এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করবে।
মর্টার তৈরির প্রতিযোগিতায় সিমেন্ট, বালু ও পানি মিশিয়ে তৈরি ঘন মিশ্রণকে মর্টার বলে। প্রতিযোগিতায় সিমেন্ট, বালু, পানি, অ্যাডমিক্সচার ও সম্পূরক সিমেন্ট উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে মর্টার তৈরি করা হয়। এরপর এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ প্রবাহক্ষমতা এবং ২০ শতাংশ স্থিতিশীলতার জন্য নির্ধারিত। দলের সদস্যরা জানান, প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিভিন্ন অনুপাতে উপকরণ মিশিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব ও খরচ কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
"দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে আমরা এই যাত্রা শুরু করেছিলাম। শুরুতে আমরা একেবারেই দিশেহারা ছিলাম। তবে সময়, দিকনির্দেশনা ও নিরন্তর প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে নিজেদের পথ খুঁজে পেয়েছি। প্রতিযোগিতায় আমরা কোন স্থান অর্জন করব, তা জানি না। তবে চুয়েট ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এই পর্যায়ে অংশ নিতে পারাটাই আমাদের জন্য বড় অর্জন।"
— সুমাইয়া বিনতে মান্নান, দলের সদস্য
দলের উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার প্রতিষ্ঠার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছয়টি পুরস্কার পেয়েছে চুয়েট। তবে সেগুলো ছিল অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতা। এবার সরাসরি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। শিক্ষার্থীরা এবারও ভালো সাফল্য অর্জন করবেন বলে আশা করছেন তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য (আটলান্টা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার ফাহাদ আলম, সুমাইয়া বিনতে মান্নান, জি এম সাদিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ (দল), ১১-১৪ (অক্টোবর), ৫০ (প্রবাহক্ষমতা শতাংশ), ২০ (স্থিতিশীলতা শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!