📌 নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগে ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম রকিকে ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী মারধর ও র্যাগিংয়ের অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী মানসিক বিপর্যয়ে পড়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগে র্যাগিং ও মারধর অভিযোগের ঘটনা সৃষ্টি করেছে। ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম রকিকে ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী মারধর ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী মানসিক বিপর্যয়ে পড়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নোবিপ্রবির পরিসংখ্যান বিভাগে ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম রকিকে ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী মারধর ও র্যাগিংয়ের অভিযোগ করেছেন।
- 📌 ভুক্তভোগী রকি জানান, রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী তাঁকে শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে সবার সামনে মারধর করেছেন।
- 📌 রকিকে কান ধরে বেঞ্চে এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, হাসি দিতে বাধ্য করা, নোটিশ গ্রুপ থেকে ২০-২৫ দিন বাদ দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
- 📌 ভুক্তভোগী রকি বলেন, ‘আমি মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছি। ডিপার্টমেন্টে যেতেও ভয় লাগে।’
- 📌 রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। এমনটা করা উচিত ছিল না।’
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আরিফুর রহমান বলেছেন, ‘লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সেশনের কথা বলে ডেকে নিয়ে জহিরুল ইসলাম রকিকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। সেশনের সময় ২১তম ব্যাচের সব নারী শিক্ষার্থীকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী রকিকে একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে মারধর করেন। রকি বলেন, ‘আমাকে ডিপার্টমেন্টের মধ্যে আটকে রেখে সবার সামনে মারধর করা হয়েছে। ওই সময় আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। এখনো বিষয়টি মনে পড়লে আতঙ্ক লাগে।’
রকি আরও জানান, এর আগে বিভাগের দেয়ালে নিজের নাম লেখার বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ২০তম ও ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁকে কান ধরে বেঞ্চের ওপর এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, এক হাত উঁচু করে অন্য হাত দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানো এবং বিভিন্ন ধরনের হাসি দিতে বাধ্য করাসহ মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এছাড়াও র্যাগিংয়ের অংশ হিসেবে তাঁকে বিভাগের নোটিশ গ্রুপসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গ্রুপ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন সরিয়ে রাখা হয়েছিল। ফলে সিটি পরীক্ষার সময়সূচি, ক্লাসের দিন-সময় এবং বিভাগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেননি রকি।
ভুক্তভোগী রকি বলেন, ‘আমি কোনো নোটিশ গ্রুপে ছিলাম না। তাই অনুমান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতাম। এমনও হয়েছে, দুই দিন শুধু শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। ডিপার্টমেন্টে এসে জানতে পারি কখন ক্লাস হবে, কখন পরীক্ষা।’
"আমি বর্তমানে মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছি। সবসময় ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে। ডিপার্টমেন্টে যেতেও এখন ভয় লাগে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরকে জানিয়েছি।"
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ২১তম ব্যাচের নারী শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার পর সেশনের মধ্যে রিয়াজ রকিকে চড় মারেন। এ সময় রিয়াজের সহপাঠীরা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি রকিকে আরও জোরে আঘাত করেন। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ডেকে আনেন। এরপর ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে রকি ছাড়া অন্য সবাইকে কক্ষ থেকে চলে যেতে বলা হয়।
রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের ২০ ব্যাচ ও ২১ ব্যাচের মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ঘটনাটি হঠাৎ উত্তেজনার মুহূর্তে ঘটে গেছে। আমিই হাত তুলে ফেলেছি। আমি বুঝতে পারছি, এটা আমার ভুল হয়েছে। এমনটা আমার করা উচিত হয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ.এফ.এম. আরিফুর রহমান জানান, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি তাকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানানোর কথা বলেছি এবং লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি), পরিসংখ্যান বিভাগ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জহিরুল ইসলাম রকি (ভুক্তভোগী), মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী (অভিযুক্ত), এ.এফ.এম. আরিফুর রহমান (বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১তম ব্যাচ, ২০তম ব্যাচ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০-২৫ দিন, ১৯তম ব্যাচ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!