📌 মহাশূন্যে লেখালেখির জন্য নভোচারীদের ব্যবহৃত বিশেষ কলম 'ফিশার স্পেস পেন' ১৯৬৮ সালে তৈরি হয়। এই কলমের কালি অভিকর্ষহীন অবস্থায়ও কাজ করে এবং নাসার সব মানববাহী মিশনে ব্যবহৃত হয়
মহাকাশে লেখালেখির জন্য নভোচারীদের ব্যবহৃত বিশেষ কলম 'ফিশার স্পেস পেন' মহাশূন্য গবেষণার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এই কলমের উদ্ভাবন হয়েছিল ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে, যখন নভোচারীদের জন্য সাধারণ কলম বা পেনসিল ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অভিকর্ষহীন অবস্থায় কালি কাজ না করা বা পেনসিলের গ্রাফাইট যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে এমন আশঙ্কা ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৬৮ সালে নাসার জন্য তৈরি হয় 'ফিশার স্পেস পেন' — মহাকাশে লেখার প্রথম সফল কলম
- 📌 কলমটির কালি থিক্সোট্রপিক প্রকৃতির — অভিকর্ষহীন অবস্থায়ও সঠিকভাবে কাজ করে
- 📌 ৮০টি মডেল রয়েছে স্পেস পেন — সামরিক বাহিনী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও তেলশ্রমিকদের মধ্যে জনপ্রিয়
- 📌 নাসা ৪০০টি কলম কিনে ৬ ডলার প্রতি প্রতিটি কলমে ভেলক্রো জড়িয়ে দেয়
- 📌 কলমটির উদ্ভাবক পল ফিশার — তার ছেলে কেরি ফিশার জানান, নামটি খেলনার মতো শোনায়
📰 বিস্তারিত
মহাকাশে লেখালেখির জন্য বিশেষ কলমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন ফিশার পেন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা পল ফিশার। তিনি আগে থেকেই প্রেশারাইজড কলম নিয়ে কাজ করছিলেন। নাসার নভোচারীদের জন্য একটি কলমের প্রয়োজন ছিল, যা অভিকর্ষহীন অবস্থায়ও কাজ করতে পারে। পল ফিশার তার ছেলে কেরি ফিশার জানান, বলপয়েন্টের কালি শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি একটি সিল করা কার্টিজ নিয়ে কাজ করেছিলেন। কার্টিজের ওপরে নাইট্রোজেন গ্যাস কালিকে পিস্টনের দিকে ঠেলে দিত। তবে অতিরিক্ত চাপের কারণে কালি বের হতো।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য পল ফিশার কালিতে রেজিন যোগ করেন। ফলে কালি থিক্সোট্রপিক রূপ নেয় — কলমের ডগার বলের ঘর্ষণে কালি তরল হয়। তিনি কলমটির নাম দেন ‘এজি সেভেন’। নাসা পরীক্ষা করে দেখে যে, কলমটি সব অবস্থায় কাজ করে। নাসা এই কলমকে ‘স্পেস পেন’ নামে পরিচিতি দেয়। মহাকাশে পাঠানোর পর কলমটির নাম রাখা হয় ‘ফিশার স্পেস পেন’।
অ্যাপোলো সেভেনের মিশন কমান্ডার ওয়াল্টার শিরা কলমটির ওজনহীনতা প্রদর্শন করেছিলেন। এই কলমটি এখনও মহাকাশ জাদুঘরে এবং নিউইয়র্কের আধুনিক শিল্প জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। নাসার প্রতিটি মানববাহী মিশনে এই কলমগুলো ব্যবহৃত হয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বর্তমানে ডজন ডজন কলম রয়েছে।
নাসা ১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্রেন্ডশিপ সেভেনের ফ্লাইটে নভোচারী জন গ্লেনকে নোটপ্যাড এবং পেনসিল দেওয়া হয়েছিল। সহজে ব্যবহারের জন্য তাঁর হাঁটুতে যুক্ত ছিল বিশেষ প্যাড। শূন্যতায় পেনসিল ভেসে যাওয়া রোধ করতে এটি নাইলন কর্ড দিয়ে প্যাডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে নাসা অ্যাপোলো সেভেন মিশনের জন্য প্রতিটি কলমে ভেলক্রো জড়িয়ে দেয়। ফলে নভোচারীরা কলমটি সহজে স্যুট বা দেয়ালে যুক্ত করতে পারেন।
"বাবা ভেবেছিলেন, নামটি খেলনার মতো শোনায়। তবে তাঁর বাবা সঠিক ছিলেন।"
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয় দেশই মহাকাশযানে পেনসিল ব্যবহার করেছিল। নাসার দ্বিতীয় মানব মহাকাশ কর্মসূচি প্রজেক্ট জেমিনির শুরু থেকে কমান্ড মডিউলের দেয়ালে প্রত্যাহারযোগ্য সুতার সঙ্গে পেনসিল যুক্ত ছিল। নভোচারীরা মিশন রিপোর্ট লেখার পাশাপাশি পোস্ট মিশন বিশ্লেষণের সময় এই কলম ব্যবহার করতেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (আধুনিক শিল্প জাদুঘর), মহাকাশ জাদুঘর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পল ফিশার, কেরি ফিশার, ওয়াল্টার শিরা, জন গ্লেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০টি মডেল, ৪০০টি কলম, ৬ ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!