📌 ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে জমি বিরোধের জেরে হত্যা মামলায় আসামি হয়ে এক মাস বাড়ি ছাড়া থাকা পরিবার ফিরে পায় লুটপাটের ঘর। জানালা ভাঙা, দরজায় নতুন তালা লাগানো এবং মূল্যবান মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। আসামিরা মালামাল লুটের দায় অস্বীকার করলেও ভুক্তভোগীরা বিচারের দাবি জানালেন
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধ শাহেদ আলী (৬৭) হত্যা মামলায় আসামি হয়ে এক মাস বাড়ি ছাড়া থাকা পরিবার শুক্রবার ফিরে পায় লুটপাটের ঘর। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে বাড়িতে ফিরে তারা দেখেন, ঘরের জানালা ভাঙা এবং দরজায় অন্য তালা লাগানো। ভেতরে প্রবেশ করে তারা দেখেন ধান-চাল, টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটের চিহ্ন। স্থানীয় খন্দকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে জমি বিরোধের জেরে বৃদ্ধ শাহেদ আলী (৬৭) হত্যা মামলায় আসামি পরিবার এক মাস বাড়ি ছাড়া থাকা অবস্থায় ফিরে পায় লুটপাটের ঘর
- 📌 ঘরের জানালা ভাঙা, দরজায় নতুন তালা লাগানো এবং ধান-চাল, টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে
- 📌 আসামিরা মালামাল লুটের দায় অস্বীকার করলেও ভুক্তভোগীরা বিচারের দাবি জানালেন
- 📌 মামলায় আসামি মেহের বানু বলেছেন, ‘আমরা কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—তা বুঝতে পারছি না’
- 📌 নিহত শাহেদ আলীর পরিবার মালামাল লুটের দায় অস্বীকার করে বলেছে, ‘আমাদের কোনো লোভ নেই’
📰 বিস্তারিত
গত ১ সেপ্টেম্বর জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় আহত বৃদ্ধ শাহেদ আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে রফিকুল ইসলাম আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। আসামিরা হলেন—মো. বাবুল হোসেন, রহমত আলী, দুলাল মিয়া, মঞ্জুরুল ইসলাম, হৃদয়, মেহেদী, আরশাদ আলী ও মেহের বানু। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে বাকিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা প্রায় এক মাস বাড়ির বাইরে ছিলেন।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে ফিরে তারা দেখেন, ঘরের জানালা ভাঙা এবং দরজায় অন্য তালা লাগানো। ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন মালামাল নেই। এমনকি বাড়ির খড়ের পালা ও চারটি গরুও খোয়া যাওয়ার অভিযোগ করেন তাঁরা। আসামি মেহের বানু বলেন, ‘আমরা খুব কষ্টের মধ্যে আছি। মামলা হওয়ার পর বাড়িতে থাকতে পারিনি। এখন বাড়িতে এসে দেখি ঘরের এই অবস্থা। আমরা কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—তা বুঝতে পারছি না।’
মেহের বানুর মেয়ে সুফিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী বিদেশে থাকেন। ঘরে থাকা তাঁর গয়না, টাকাপয়সা ও ধান লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। ভুক্তভোগী আরশাদ আলীও ঘর থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ করে সঠিক বিচার দাবি করেন।
তবে ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহত শাহেদ আলীর পরিবারের সদস্য ও মামলার বাদীপক্ষের রোকেয়া খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমরা শোকের মধ্যে আছি। অন্যের ঘরবাড়ির মালামালের প্রতি আমাদের কোনো লোভ নেই। যেদিন স্বামীকে মারছে, সেদিন বাড়িতে কত মানুষই তো আইছে। বাইরের কেউ কিছু নিয়ে থাকলে সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’
রোকেয়া খাতুনের ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিজেরাই বাবার মৃত্যুর শোক সামলাতে পারছি না। কেন আমরা অন্যের ঘরের জিনিস নিতে যাব? বাইরে থেকে কেউ নিয়ে গেলে সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই।’
"আমরা কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—তা বুঝতে পারছি না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা, খন্দকপাড়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহের বানু, সুফিয়া, আরশাদ আলী, রোকেয়া খাতুন, রফিকুল ইসলাম, শাহেদ আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৭ বছর বয়সী শাহেদ আলী, ১ সেপ্টেম্বর, ১১ টা বেলা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!