📌 সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের মনোযোগকে ধীরে ধীরে একই ধরনের কনটেন্টে আটকে রাখে, যা ফিল্টার বাবল বা 'পছন্দের বুদ্বুদ' সৃষ্টি করে। গবেষণা দেখায়, তরুণরা মানসম্মত কনটেন্ট চায়, কিন্তু অ্যালগরিদম বেশি গুরুত্ব দেয় ভিডিওর লাইক ও শেয়ারের সংখ্যা। নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে কী কী পদক্ষেপ নিতে হয়?
রাত ১১টা থেকে শুরু করে ঘুমের আগ পর্যন্ত ফোনে ডুবে যাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাবিহা (ছদ্মনাম) রাত ১১টা বেলায় ‘আর একটা রিল দেখেই ঘুমাব’ বলে ফোন হাতে নিয়েছিলেন, কিন্তু ঘড়িতে দেখে পেলেন রাত ১টা। দুই ঘণ্টা কীভাবে কেটে গেলো, তারই বোঝা পড়েননি তিনি। এই ঘটনার পেছনে কাজ করছে সুপারিশ ব্যবস্থা বা রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম। এই অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীর স্ক্রলিং প্যাটার্ন, ভিডিও দেখার সময়, লাইক ও শেয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরামর্শ দেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাত ১১টা থেকে শুরু করে রাত ১টা পর্যন্ত ফোনে ডুবে যাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা — এই সময়ে অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের মনোযোগকে নিয়ন্ত্রণ করে
- 📌 অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীর স্ক্রলিং প্যাটার্ন, ভিডিও দেখার সময়, লাইক ও শেয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরামর্শ দেয়
- 📌 গবেষণা অনুযায়ী, তরুণ ব্যবহারকারীরা মানসম্মত কনটেন্ট চান, কিন্তু অ্যালগরিদম বেশি গুরুত্ব দেয় ভিডিওর লাইক ও শেয়ারের সংখ্যা
- 📌 ফিল্টার বাবল বা 'পছন্দের বুদ্বুদ' সৃষ্টি হয় যখন ব্যবহারকারীর ফিড ধীরে ধীরে একই ধরনের কনটেন্টে ভরে ওঠে
- 📌 নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে 'অপছন্দের ভিডিওতে ‘আগ্রহী নই’ বেছে নেওয়া, নতুন বিষয় খুঁজে দেখা এবং অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণের সুবিধা ব্যবহার করা' প্রয়োজন
📰 বিস্তারিত
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের মনোযোগকে ধীরে ধীরে একই ধরনের কনটেন্টে আটকে রাখে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীরা যে কনটেন্ট দেখতে চান এবং যে কনটেন্ট তাদের জন্য উপযুক্ত, তা প্রায়ই একই নয়। অ্যালগরিদম মূলত ভিডিওর লাইক ও শেয়ারের সংখ্যা পরিমাপ করে সিদ্ধান্ত নেয়, যা ব্যবহারকারীদের সত্যিকারের পছন্দের সাথে মিলে যায় না। ফলে ফিডে একই ধরনের কনটেন্টের প্রবাহ তৈরি হয়, যা ফিল্টার বাবল বা 'পছন্দের বুদ্বুদ' নামে পরিচিত। এই অবস্থায় ব্যবহারকারীরা নতুন তথ্য বা ভিন্নমত পেতে পারেন না, কারণ অ্যালগরিদম শুধু তাদেরকে যা দেখায়, তা-ই দেখতে হয়।
২০২৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ ব্যবহারকারীরা মানসম্মত কনটেন্ট চান। কিন্তু অ্যালগরিদমের মূল্যায়ন পদ্ধতি ভিন্ন। তারা মূলত কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বা সাড়া ফেলার ক্ষমতা পরিমাপ করে। ফলে ব্যবহারকারীরা যে কনটেন্ট দেখতে চান, তা প্রায়ই অ্যালগরিদমের সুপারিশের সাথে মিলে যায় না। এই ফারাকটাই ব্যবহারকারীদের মনোযোগকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদেরকে একই ধরনের কনটেন্টে আটকে রাখে।
নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে কী কী পদক্ষেপ নিতে হয়? প্রথমত, অপছন্দের ভিডিওতে ‘আগ্রহী নই’ বেছে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, মাঝেমধ্যে ইচ্ছা করে নতুন বিষয় খুঁজে দেখা। তৃতীয়ত, অ্যাপে অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণের সুবিধা থাকলে তা ব্যবহার করা। এই পদক্ষেপগুলো ব্যবহারকারীদের ফিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তাদের মনোযোগকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করতে পারে।
"আপনি যা সত্যিই চান আর যে কনটেন্টে নিজের অজান্তে আটকে যান—এ দুটো সব সময় এক নয়। আর ‘যন্ত্র’ সেই ফারাকটাই সব সময় বোঝে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম (অ্যালগরিদমের প্রভাব)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাবিহা (ছদ্মনাম), তরুণ ব্যবহারকারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১টা, ১টা (ঘণ্টা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!