📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে একটি ব্যবসায়ীর উপর যুবদল নেতা মো. আল আমিন বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং বিবস্ত্র করে। ভুক্তভোগী রুবেল হোসেনের দাবি, হামলাকারীরা তাকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেল এবং বোমা ফাটানোর হুমকি দিল। আল আমিন মারধর স্বীকার করলেও টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে একটি ব্যবসায়ীকে মারধর করে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন (৪১) জানান, পাওনা টাকা চাওয়ায় ডাকলে তাঁকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেল এবং বিবস্ত্রও করা হয়। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের দৃশ্য ধরা পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে যুবদল নেতা মো. আল আমিন বিশ্বাস ও তার ২০ থেকে ২৫ জন সহযোগী ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনকে মারধর করে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং বিবস্ত্র করে
- 📌 রুবেলের দাবি, হামলাকারীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে এবং বোমা ফাটানোর হুমকি দিয়েছে
- 📌 সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আল আমিন বিশ্বাস হামলাকারীদের মারধরের নির্দেশ দিচ্ছিলেন এবং রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে
- 📌 আল আমিন বিশ্বাস মারধর স্বীকার করলেও টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন
- 📌 গোমস্তাপুর থানায় ২৬ অক্টোবর মামলা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি
📰 বিস্তারিত
গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া বাজারে সিনেমা হলসংলগ্ন মশিউর রহমানের ডেকোরেটরের দোকানে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রুবেল হোসেনকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান করা ব্যক্তিরা তাঁকে গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে আল আমিন বিশ্বাস, তাঁর ভাই মো. মোমিন হোসেন ও মো. নুরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে রুবেলকে মারধর করেন। রুবেলের দাবি, হামলাকারীদের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় তাঁর।
রুবেলের কথায়, মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলা চেপে ধরা হয়। এ সময় তাঁর পকেটে থাকা আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত রুবেলকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের রুবেলকে মারধর করতে দেখা যায়। ফুটেজে আল আমিন বিশ্বাসের উপস্থিতিও রয়েছে। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। আরেকটি দৃশ্যে রুবেলের বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।
রুবেল হোসেন বলেন, ‘হামলার পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁর ভাই প্রকাশ্যে আমার বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আরও তিনজনকে তাঁর লোকজন দিয়ে একইভাবে মারধর করা হয়েছে। তাঁরা ভয়ে মুখ খুলছেন না, এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। আমার মতো আর কেউ যেন এমন হামলার শিকার না হন, সে জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’
"হামলার পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁর ভাই প্রকাশ্যে আমার বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাস বলেন, ‘টেলিভিশন কেনার সুবাদে রুবেল আমার কাছে আড়াই হাজার টাকা পেতেন। ওই টাকা নিয়ে ১৬ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে হেলিপ্যাড এলাকায় কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় গোমস্তাপুর সিনেমা হলের সামনে তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে টাকা দেওয়ার বিষয়ে মীমাংসার জন্য বসি। কিন্তু সেখানেও রুবেল উচ্চবাচ্য করেন। তখন আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে। তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার ঘটনা সত্য নয়।’
আল আমিন আরও বলেন, ‘তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের কাছে আমি আগে থেকেই সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পেতাম। সেই টাকা তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর ভাই তাঁকে টাকা দেননি, সেটা আমার জানা ছিল না। রুবেল টাকা পাবেন, এটা ঠিক। কিন্তু তিনি আমাকে যখন-তখন অসম্মানজনক কথা বলেছেন। সে কারণেই আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে।’
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক বলেন, মারধরের ঘটনায় ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোমস্তাপুর উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আল আমিন বিশ্বাস, মো. রুবেল হোসেন, মো. মোমিন হোসেন, মো. নুরুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: আড়াই লাখ টাকা, ২০ থেকে ২৫ জন, ৪১ বছর, ৬ হাজার টাকা, ২ হাজার ৫০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!