📌 সিঙ্গাপুরের গবেষকরা মানব মস্তিষ্কের নিউরনের আদলে তৈরি কৃত্রিম নিউরন দিয়ে প্রথমবারের মতো একটি জীবন্ত ডেটা সেন্টার উদ্ভাবন করেছেন। এই প্রযুক্তিতে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ নিউরন ব্যবহৃত হয়েছে, যা বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য প্রক্রিয়া ও শিখতে সক্ষম
সিঙ্গাপুরের গবেষকরা মানব মস্তিষ্কের নিউরনের আদলে তৈরি কৃত্রিম নিউরন দিয়ে প্রথমবারের মতো একটি জীবন্ত ডেটা সেন্টার উদ্ভাবন করেছেন। প্রচলিত সিলিকন চিপের পরিবর্তে জীবন্ত কোষ ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি তথ্য প্রক্রিয়াকরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও অস্ট্রেলিয়ার কর্টিক্যাল ল্যাবস যৌথভাবে তৈরি করেছে জীবন্ত নিউরননির্ভর ডেটা সেন্টার
- 📌 প্রতিটি সিএল১ ইউনিটে প্রায় ৮ লাখ মানব নিউরন রয়েছে, পুরো সিস্টেমে রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ নিউরন
- 📌 এই নিউরনগুলো বৈদ্যুতিক সংকেত গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি পরিবেশ পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে
- 📌 কর্টিক্যাল ল্যাবসের বায়োস অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিউরন ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়
- 📌 জীবন্ত নিউরনগুলো সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত জীবিত রাখা সম্ভব হয়েছে
📰 বিস্তারিত
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইয়ং লু লিন স্কুল অব মেডিসিন (এনইউএস মেডিসিন) এবং অস্ট্রেলিয়ার কর্টিক্যাল ল্যাবস যৌথভাবে মানব নিউরনের মাধ্যমে পরিচালিত একটি ডেটা সেন্টার উদ্ভাবন করেছেন। প্রচলিত সিলিকন চিপের পরিবর্তে জীবন্ত কোষ ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি তথ্য প্রক্রিয়াকরণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।
প্রতিটি সিএল১ ইউনিটে প্রায় ৮ লাখ মানব নিউরন স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পুরো সিস্টেমে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ নিউরন ব্যবহৃত হচ্ছে। এই নিউরনগুলো বৈদ্যুতিক সংকেত গ্রহণের পাশাপাশি সেই সংকেতের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। পরে নিউরনের প্রতিক্রিয়াগুলো কম্পিউটারে প্রেরণ করা হয়, যার ফলে জীবন্ত কোষ ও কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হয়েছে।
কর্টিক্যাল ল্যাবসের তৈরি বায়োলজিক্যাল ইন্টেলিজেন্স অপারেটিং সিস্টেম বা বায়োসের মাধ্যমে নিউরন ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। মানব স্টেম সেল থেকে তৈরি এই নিউরনগুলো ক্ষুদ্র ইলেকট্রোডযুক্ত সিলিকন প্ল্যাটফর্মে স্থাপন করা হয়েছে। ইলেকট্রোডের মাধ্যমে নিউরনে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠানো যায় এবং নিউরন থেকে ফিরে আসা সংকেতও ধারণ করা সম্ভব হয়।
"প্রচলিত কম্পিউটারে নির্দিষ্ট কাজের জন্য আগে থেকেই নির্দেশনা ও অ্যালগরিদম তৈরি করতে হয়, কিন্তু জীবন্ত নিউরন পরিবেশ ও তথ্য পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া বদলাতে পারে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নিউরনের স্বাভাবিক শেখার ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।"
জীবন্ত কোষকে কম্পিউটারের অংশ হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল নিউরনগুলোকে জীবিত রাখা। কর্টিক্যাল ল্যাবসের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ পদ্ধতিতে নিউরনগুলোকে জীবিত রাখা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে তারা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিঙ্গাপুর
- 👥 প্রধান প্রতিষ্ঠান: ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর, কর্টিক্যাল ল্যাবস
- 🔢 নিউরনের সংখ্যা: প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ
- 🔢 ইউনিট প্রতি নিউরনের সংখ্যা: প্রায় ৮ লাখ
- 🔢 নিউরনের জীবনকাল: সর্বোচ্চ ছয় মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!