📌 চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট সেতু সংস্কারে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও দেওয়ানহাট ওভারপাস। সেতুর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করতে গেলে প্রয়োজনীয় স্থান না থাকায় নতুন নির্মাণ সম্ভব নয়। ফলে পুরোনো সেতুকে শক্তিশালীকরণের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে
চট্টগ্রাম মহানগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম দেওয়ানহাট সেতু সংস্কারের উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও দেওয়ানহাট ওভারপাসের কারণে। প্রায় অর্ধশতাব্দী পুরোনো এই সেতুটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৫০ মিটার হলেও রেলওয়ের নির্ধারিত উচ্চতা অনুযায়ী নতুন সেতু নির্মাণ করতে গেলে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬০ মিটারে উন্নীত করতে হতো। কিন্তু বিদ্যমান অবকাঠামোগুলোর কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেওয়ানহাট সেতুর বর্তমান দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার, উচ্চতা সাড়ে পাঁচ মিটার
- 📌 রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী নতুন সেতুর উচ্চতা হতে হবে অন্তত সাড়ে আট মিটার
- 📌 নতুন সেতু নির্মাণ করতে হলে দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে ১৬০ মিটারে উন্নীত করতে হতো
- 📌 দেওয়ানহাট ওভারপাস ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে প্রয়োজনীয় স্থান সংকুলান সম্ভব নয়
- 📌 দৈনিক প্রায় ৭৫ হাজার যানবাহন ব্যবহার করে ৬০ ফুট প্রশস্ত এই সেতু
📰 বিস্তারিত
১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে নির্মিত দেওয়ানহাট সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এখন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। নির্মাণকালে সেতুর উচ্চতা ছিল ছয় মিটার হলেও দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে তা কমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ মিটারে। সেতুটির দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করতে গেলে প্রয়োজনীয় স্থান না থাকায় প্রচলিত নকশায় নতুন সেতু নির্মাণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানান আনিসুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে দেওয়ানহাট সেতুকে যুক্ত করা হলে এই জটিলতা তৈরি হতো না। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরোনো সেতুকে শক্তিশালীকরণের (রেট্রোফিটিং) বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেতুটির কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে উপরিভাগে ফাটল, কংক্রিট খসে পড়া, রডের ক্ষয় এবং ডেকের নিচে রড বেরিয়ে আসার মতো সমস্যা।
উল্লেখ্য, দেওয়ানহাট ওভারপাস চালু হয় ২০১৩ সালে। পরে ওই ওভারপাসের ওপর দিয়ে নির্মিত হয় শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়ক নামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, যা ২০২৪ সালের আগস্টে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি টাইগারপাসে না এনে দেওয়ানহাট ওভারপাসের দক্ষিণ পাশে শেখ মুজিব সড়কের প্রশস্ত অংশে শেষ করার প্রস্তাব দিয়েছিল বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু নকশায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
"সেতুর উত্তর পাশে রয়েছে দেওয়ানহাট ওভারপাস। এর ওপর দিয়ে চলে গেছে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ফলে নতুন সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় দৈর্ঘ্য বাড়ানোর মতো জায়গা নেই। এ অবস্থায় প্রচলিত নকশায় নতুন সেতু নির্মাণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম মহানগর, দেওয়ানহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনিসুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সেতুর দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার থেকে ১৬০ মিটারে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!