📌 এশিয়া ফাউন্ডেশন ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের যৌথ প্রকল্পে ৯০ হাজার এমএসএমই উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল হুমকি মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তারা সাইবার হাইজিনের গুরুত্ব তুলে ধরেন
বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের সাথে সাথে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এশিয়া ফাউন্ডেশন ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘এপ্যাক সাইবার সিকিউরিটি ফান্ড’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৯০ হাজার এমএসএমই উদ্যোক্তাকে সাইবার হাইজিন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় আজ বুধবার অনুষ্ঠিত ‘সাইবাররেডি: সেলিব্রেটিং দ্য জার্নি অব সাইবার-সেফ এমএসএমই’ শীর্ষক সমাপনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৯০ হাজার এমএসএমই উদ্যোক্তাকে** সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- 📌 **সাইবার হামলা ও প্রতারণা** ছোট ব্যবসার আয় কমাতে পারে, গ্রাহক সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে এবং ব্যবসা বন্ধের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
- 📌 **গুগল ডট ওআরজি** আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে এই প্রকল্পে, যা স্থানীয় অংশীদার সাজেদা ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত।
- 📌 **ক্ষুদ্রঋণ কর্মীদের প্রশিক্ষক হিসেবে ব্যবহার** করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য করা হয়েছে।
- 📌 **বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মো. খাইরুল আনাম** ও **এশিয়া ফাউন্ডেশনের নাদিয়া সুব্রামানিয়াম** সহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
📰 বিস্তারিত
ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সাথে সাথে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান (এমএসএমই) সাইবার হুমকির মুখে পড়ছে। এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ **কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ** বলেন, ডিজিটাল জগতেও প্রতারণা ও শোষণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, বাস্তব জীবনের মতো ডিজিটাল জগতেও নিরাপত্তা চর্চা অবশ্যই প্রয়োজন।
এশিয়া ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল ইকোনমি প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ পরিচালক **অ্যান্থিয়া মুলাকালা** বলেন, সাইবার হাইজিন মানুষের জীবিকা রক্ষা, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বাংলাদেশে প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সাইবার হাইজিন হলো সাইবার হুমকি থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, নেটওয়ার্ক ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদ রাখার নিয়ম ও কার্যপদ্ধতি মেনে চলার চর্চা।
সাজেদা ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ পরিচালক **মো. নোমানুজ্জামান** ও এশিয়া ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক **ইজলাল হোসেন** জানান, ক্ষুদ্রঋণ কর্মীদের প্রশিক্ষক হিসেবে ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য করা হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের আগে থেকেই আস্থা ও বোঝাপড়া থাকায় প্রশিক্ষণের জ্ঞান সহজে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে **ইনস্পিরা অ্যাডভাইজরি অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুনতাসির তাহমিদ চৌধুরী** বলেন, সাইবার অপরাধ এখন বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট ব্যবসার জন্যও বড় হুমকি। তিনি সচেতনতা, কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতার জরুরি উল্লেখ করেন।
সাজেদা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি সিইও **ফজলুল হক** বলেন, অনেক উদ্যোক্তা পাসওয়ার্ড, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়াই ডিজিটাল সেবা নিচ্ছেন। তিনি প্রতারকেরা নিয়মিত কৌশল বদলানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, সাইবার নিরাপত্তা চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।
"বাস্তব জীবনের মতো ডিজিটাল জগতেও প্রতারণা ও শোষণ থেকে সুরক্ষা প্রয়োজন। সাইবার নিরাপত্তাকে শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।"
"সাইবার হাইজিন মানুষের জীবিকা রক্ষা, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়ানোয় ভূমিকা রাখে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, অ্যান্থিয়া মুলাকালা, মুনতাসির তাহমিদ চৌধুরী, ফজলুল হক, মো. খাইরুল আনাম, নাদিয়া সুব্রামানিয়াম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ হাজার (প্রশিক্ষিত এমএসএমই উদ্যোক্তা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!