📌 রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ পেয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান জেডটিই। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন ও ঘুষের অভিযোগে আলোচিত এই প্রতিষ্ঠানের হাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দেওয়ার পিছনে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির প্রশ্ন উঠছে
রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ পেয়েছে চীনা টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেডটিই। গত ২৬ অক্টোবর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘প্রকিউরমেন্ট অব ফোর-জি অন ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড’ প্রকল্পের আওতায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় টেলিটকের ২৫টি স্থানে ফোর-জি সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং ঘুষের অভিযোগের ইতিহাস থাকায় প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬ অক্টোবর থেকে টেলিটকের ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান জেডটিই।
- 📌 প্রকল্পের আওতায় ২৫টি স্থানে ফোর-জি সেবা চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।
- 📌 জেডটিইর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং ঘুষের অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে।
- 📌 ২০১৭ সালে মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জেডটিই ২০১০-২০১৬ সালের মধ্যে ইরানে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের মার্কিন উৎসের পণ্য অবৈধভাবে পাঠিয়েছিল।
- 📌 এই ঘটনায় জেডটিইর বিরুদ্ধে প্রায় ১১৯ কোটি ডলারের জরিমানা করা হয়।
- 📌 ২০১৮ সালে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জেডটিইর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
- 📌 ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলিতে টেলিযোগাযোগ চুক্তি পেতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে জেডটিইর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
📰 বিস্তারিত
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী জেডটিইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাও জুনইয়ংয়ের হাতে কার্যাদেশের নোটিশ তুলে দেন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড চালুর মাধ্যমে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক গুরুতর অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১৭ সালে মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জেডটিই ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ইরানে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের মার্কিন উৎসের পণ্য অবৈধভাবে পাঠিয়েছিল। এই ঘটনায় জেডটিইর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত আর্থিক শাস্তির পরিমাণ প্রায় ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছায়। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের বিবরণে ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় অবৈধভাবে সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি শুধু রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ভঙ্গই করেনি, তদন্তের সময় তথ্য গোপন এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নথি আড়াল করার চেষ্টাও করেছিল।
২০১৮ সালে মার্কিন প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পেছনে ছিল আগের সমঝোতার শর্ত মানা নিয়ে নতুন অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানে অবৈধ পণ্য সরবরাহে জড়িত কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জেডটিই ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিল। অভিযোগ ছিল, শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মীকে বোনাস দেওয়া হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর মার্কিন প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরশীল জেডটিইর ব্যবসা বড় ধরনের সংকটে পড়ে। পরে নতুন সমঝোতা, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ এবং তদারকির শর্তে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
"৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড চালুর মাধ্যমে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (টেলিটক), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (জেডটিইর নিষেধাজ্ঞা ও অভিযোগ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুরুল মাবুদ চৌধুরী (টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক), মাও জুনইয়ং (জেডটিইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা), ফকির মাহবুব আনাম (ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ অক্টোবর (কার্যাদেশ দেওয়ার তারিখ), ২৫টি (স্থান), ৭০০ মেগাহার্টজ (ব্যান্ড), ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার (অবৈধ পণ্য রপ্তানি), ১১৯ কোটি ডলার (জরিমানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!