📌 অ্যানথ্রোপিকের নিরাপত্তা গবেষক ইভান হাবিঙ্গার দাবি করেছেন, এআই আগামী দশ বছরে মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে ১০ শতাংশেরও বেশি সম্ভাবনা। তিনি বলেছেন, বর্তমান মডেলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, সুপারইন্টেলিজেন্সের বিকাশের গতি এটিকে মানবজাতির জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করে এমন সংস্থাগুলোর মধ্যে অ্যানথ্রোপিক অন্যতম। এই সংস্থার একজন শীর্ষ নিরাপত্তা গবেষক ইভান হাবিঙ্গার সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, এআই এত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে যে আগামী দশ বছরের মধ্যে এটি মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে ১০ শতাংশেরও বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এক্স-হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলেছেন, বর্তমান মডেলগুলোর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি এখন কম হলেও, এই প্রযুক্তি শিগগিরই এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইভান হাবিঙ্গার দাবি করেছেন, এআই আগামী দশ বছরে মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে ১০ শতাংশেরও বেশি সম্ভাবনা।
- 📌 তিনি বলেছেন, বর্তমান মডেলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, সুপারইন্টেলিজেন্সের বিকাশের গতি এটিকে মানবজাতির জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
- 📌 জেকব কক্সন (অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক) লিখেছেন, কোনো কোম্পানিই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না এবং এআই শিগগিরই অতিমানবীয় সিস্টেমে পরিণত হবে যা হ্যাকিং, বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং ক্ষমতা অর্জনে সক্ষম হবে।
- 📌 ডেম ওয়েন্ডি (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে জাতিসংঘের পরামর্শদাতা) বিবিসিকে বলেছেন, তিনি এই সতর্কবার্তাগুলো দেখে হতবাক হয়েছেন এবং বিনিয়োগকারীদের অনুরোধ করেছেন যে, তারা এ ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করেন।
- 📌 অ্যানথ্রোপিক তাদের সর্বশেষ মডেলটি যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট (এআইএসআই)-এর কাছে প্রকাশ করেনি, যা ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
📰 বিস্তারিত
ইভান হাবিঙ্গার তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান মডেলগুলোর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি এখন কম হলেও, তিনি উদ্বিগ্ন যে এই প্রযুক্তি শিগগিরই এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেছেন, "আমরা সত্যিই আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে এআই মানুষের প্রজাতি-বিলুপ্তির ঝুঁকি তৈরি করছে।" তবে তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি যে ভবিষ্যতে এআই কীভাবে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে।
এই সতর্কবার্তা আসছে একের পর এক মন্তব্যের ধারাবাহিকে, যেখানে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে, জেকব কক্সন (অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক) লিখেছেন, "কোনো কোম্পানিই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। এগুলো শিগগিরই এমন অতিমানবীয় সিস্টেমে পরিণত হবে যা যেকোনো কিছু হ্যাক করতে, রাতারাতি যেকোনো ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এবং প্রকৃত ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জন করতে পারবে।" কক্সন আগে ওপেনএআই-তে কাজ করেছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে জাতিসংঘকে পরামর্শ দেওয়া কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেম ওয়েন্ডি বিবিসিকে বলেছেন, তিনি সামাজিক মাধ্যমে হাবিঙ্গার এবং কক্সনের পোস্ট দেখে "হতবাক" হয়েছেন। তিনি বলেন, "এর কিছু অংশ জনসংযোগ এবং বিপণনের জন্যও হতে পারে, কারণ অ্যানথ্রোপিক এবং ওপেনএআই শেয়ার বাজারে তাদের বহু প্রতীক্ষিত আত্মপ্রকাশের জন্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।" তবে তিনি আরও বলেন, "কেউ এমন কথা বলতে চাইবে কেন? আমি বিনিয়োগকারীদের কাছে অনুরোধ করব, যদি এটাই তাদের মূল্যবোধ হয়, তবে তারা যেন এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করেন।"
এই পদত্যাগের ফলে ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন চিফ সেক্রেটারি এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোন্স প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, সরকারগুলোকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে এবং সুপার ইন্টেলিজেন্সের উন্নতির উপর ভিত্তি করে একটি নতুন বহুজাতিক চুক্তি প্রণয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, "সরকারগুলো যদি এই সতর্কবার্তাগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে না নেয় এবং এর মোকাবিলায় এগিয়ে না আসে, তবে উন্নয়নের গতি এমন হতে পারে যে, এটি আমাদের জন্য কোনো সমস্যা কি না, তা খতিয়ে দেখার আগেই আমরা সমস্যায় পড়ে যাব।"
"সমস্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য (অ্যানথ্রোপিক, এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইভান হাবিঙ্গার, জেকব কক্সন, ডেম ওয়েন্ডি, ড্যারেন জোন্স
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ শতাংশ, ১০ মিলিয়নেরও বেশি বার (পোস্টের ভিডিও)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!