📌 লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আলো ছড়িয়েছে আর্জেন্টিনা জার্সির সাফল্য। ২০০৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের হয়ে খেলেছেন তিনি। অভিষেক থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ জয়—মেসির জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ১০ মুহূর্ত তুলে ধরা হলো
লিওনেল মেসির নাম মানেই ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। অভিষেক থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ জয় পর্যন্ত মেসির জীবনে রয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। অবসর নেওয়ার আগে তাঁর আর্জেন্টিনা জার্সির সেরা ১০ মুহূর্ত ফিরে দেখা যাক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০৪ সালের ২৯ জুন আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে অভিষেক ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৭-০ গোলে জয়ী হয়
- 📌 ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলের মূল দলে অভিষেক ঘটে মেসির
- 📌 ২০০৬ সালের ১ মার্চ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন মেসি
- 📌 ২০১১ কোপা আমেরিকায় উরুগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে পরাজয়ের পর সমর্থকদের কাছ থেকে অপমানিত হন মেসি
- 📌 ২০১২ সালের ৯ জুন নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন মেসি
- 📌 ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে খেলেন মেসি; টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জয় করেন
- 📌 ২০১৬ সালে চিলির বিপক্ষে কোপা আমেরিকা ফাইনালে পরাজয়ের পর অবসরের ঘোষণা দেন মেসি
- 📌 ২০২১ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় শিরোপা জয় করেন মেসি
- 📌 ২০২২ বিশ্বকাপে সাত গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জয় করান মেসি
- 📌 ২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোড়ালির চোটে মাঠ ছাড়েন মেসি; তবে তাঁর দল জয়ী হয়
- 📌 ২০২৬ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সেও আট গোল করেন মেসি; বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২১
📰 বিস্তারিত
লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নাম দুটি ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের হয়ে খেলেছেন তিনি। তাঁর অভিষেক থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ জয় পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। অবসর নেওয়ার আগে মেসির আর্জেন্টিনা জার্সির সেরা ১০ মুহূর্ত নিয়ে আলোচনা করা হলো।
২০০৪ সালের ২৯ জুন আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-২০ দলের ম্যাচে অভিষেক হয় মেসির। সেদিন আর্জেন্টিনা ৭-০ গোলে জয়ী হয়। এরপর পরের বছর অর্থাৎ ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলের মূল দলে অভিষেক ঘটে তাঁর।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসির প্রথম গোল আসে ২০০৬ সালের ১ মার্চ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে হেরে যায়।
২০১১ কোপা আমেরিকায় উরুগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে পরাজয়ের পর মেসি সমর্থকদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হন। সান্তা ফেতে তাঁকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করা হয়। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘সান্তা ফেতে আমাকে কত কিছুই না বলা হয়েছিল।’
২০১২ সালের ৯ জুন নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মেসি হ্যাটট্রিক করেন। আর্জেন্টিনা ৪-৩ গোলে জয়ী হয়। এর মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে এক ম্যাচে তিন গোল করা পঞ্চম আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় হন মেসি।
‘এটাই শেষ। জাতীয় দলের হয়ে আর নয়।’
২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে খেলেন মেসি। যদিও অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে পরাজিত হয় আর্জেন্টিনা। তবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জয় করেন তিনি।
২০১৬ সালে চিলির বিপক্ষে কোপা আমেরিকা ফাইনালে টাইব্রেকারে পরাজয়ের পর অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। তিনি বলেছিলেন, ‘চারটি ফাইনাল, এটা আমার জন্য নয়। দুর্ভাগ্যবশত, আমি চেষ্টা করেছি।’ তবে ভক্তদের ভালোবাসায় পুনরায় জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করেন তিনি।
২০২১ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় শিরোপা জয় করেন মেসি। পুরো টুর্নামেন্টে চার গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্ট করে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয় করেন তিনি।
২০২২ বিশ্বকাপ ছিল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। সৌদি আরবের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জয় করে আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে সাত গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করেন মেসি। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে জোড়া গোল করেন তিনি।
২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোড়ালির চোটে মাঠ ছাড়েন মেসি। বেঞ্চে বসে কাঁদছিলেন তিনি। তবে তাঁর দল জয়ী হয়। লাউতারো মার্তিনেজের গোলে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে জয়ী হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সেও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেন মেসি। প্রতিটি ম্যাচ খেলেন এবং করেন আট গোল। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২১-এ, যা তাঁকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বিভিন্ন ম্যাচ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লিওনেল মেসি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি মুহূর্ত, ২১টি বিশ্বকাপ গোল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!