📌 বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য দলবদল করে নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গঠন করছেন। তবে আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজের মতো তারকা খেলোয়াড় পাওয়ার অভাব তাদের চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে
বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য দলবদলের মৌসুমে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছেন। লা লিগা জয়ের পর এবার ফ্লিকের নজর ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায়। তবে দলের আক্রমণভাগে তারকা খেলোয়াড়দের অভাবের কারণে তাদের সাফল্যের পথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত দুই মৌসুমে লা লিগা জিতলেও বার্সেলোনা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে পারেনি, কারণ তাদের কাছে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ খেলোয়াড়ের অভাব রয়েছে।
- 📌 রবার্ট লেফানডফস্কি, মার্কাস রাশফোর্ড, ফেরান তোরেস, আনসু ফাতি, রোনাল্ড আরাউহো এবং মার্ক টের স্টেগানসহ বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় বার্সেলোনা ছেড়ে চলে গেছেন।
- 📌 ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন ফেরান তোরেস, যিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করেছিলেন।
- 📌 ১১ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে মোনাকোতে চলে গেছেন ‘ভবিষ্যৎ মেসি’ আনসু ফাতি।
- 📌 ৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে অ্যান্থনি গর্ডন এবং ৬০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রিকে দলে ভেড়ানো হয়েছে।
- 📌 ২২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ডান পাশের খেলোয়াড় করিম আদেমায়িকে কেনা হয়েছে।
- 📌 ১০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে গ্যাব্রিয়েল হেসুসকে দলে ভেড়ানো হয়েছে, যিনি চোটের কারণে ফর্ম হারিয়েছিলেন।
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যের মিসর ও তুরস্ক থেকে ডমিনিক লিভাকোভিচ এবং হামজা আবদেলকরিমকে দলে ভিড়ানো হয়েছে।
- 📌 হোয়াও ক্যানসেলোকে পাকাপাকিভাবে দলে ভিড়িয়েছে বার্সেলোনা, যিনি আগের ক্লাব আল হিলালের চুক্তি ছিন্ন করে এসেছেন।
- 📌 ১৮৪ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে বার্সেলোনা ৯০ মিলিয়ন ইউরোর খেলোয়াড় বিক্রি করেছে।
📰 বিস্তারিত
বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের কাছে ভাগ্য ছিলই। তিনি বেকার অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু বার্সেলোনা তাকে পছন্দের কোচ না পেয়ে তাঁকে নিয়োগ দিয়েছিল। ফ্লিক এসে দলের গতিপথ বদলে দিয়েছেন। টানা দুই মৌসুম লা লিগা জিতলেও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে পারেনি বার্সেলোনা। ফ্লিকের লক্ষ্য ছিল পরবর্তী মৌসুমে ইউরোপে রাজত্ব করা। দলবদলের মৌসুম শুরু হওয়ায় তিনি ইউরোপে ভরসা করা যায় এমন খেলোয়াড়দের খুঁজে নিচ্ছেন।
লা লিগায় দলকে নিয়ে চিন্তার তেমন কিছু নেই, কারণ মেসির সঙ্গে অভিজ্ঞতার মিশ্রণে তারা সহজেই টেক্কা দিতে পারবে। তবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য ‘এক্স ফ্যাক্টর’ খেলোয়াড়ের অভাব ছিল। গত মৌসুমে সফলতা পাওয়ার পর আশা ছিল পুরোনো দলটাকে একসঙ্গে রাখা যাবে। কিন্তু ফ্লিকের ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। অভিজ্ঞ থেকে তরুণ, তারকা খেলোয়াড়েরা বার্সেলোনা ছেড়ে অন্য গন্তব্যে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি হয়েছে আক্রমণভাগে।
গত দুই মৌসুম ধরে ভরসার পাত্র হয়ে থাকা রবার্ট লেফানডফস্কি ফ্রিতে আমেরিকায় চলে গেছেন। ধারে আসা মার্কাস রাশফোর্ডও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরে গেছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ফেরান তোরেসও বার্সার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তিনি ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন। একসময়ের ‘ভবিষ্যৎ মেসি’ আনসু ফাতি ১১ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে মোনাকোতে চলে গেছেন। মেসির পর বার্সার ১০ নম্বর জার্সি পাওয়া তারকার এমন বিদায় কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
বার্সেলোনা দলবদলের মৌসুমে নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গঠন করছে। ৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে অ্যান্থনি গর্ডনকে দলে ভেড়ানো হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগে ২৬ ম্যাচে ৬ গোল করে গর্ডন চ্যাম্পিয়নস লিগে ১২ ম্যাচে ১০ গোল করেছিলেন। লিগের থেকে বেশি ইউরোপে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন তিনি। রদ্রিকে ম্যানচেস্টার সিটির থেকে ৬০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে দলে ভেড়ানো হয়েছে। ২৪ বছর বয়সী করিম আদেমায়িকে ২২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে কেনা হয়েছে।
হুলিয়ান আলভারেজের মতো খেলোয়াড় পাওয়ার অভাবের কারণে বার্সেলোনার সাফল্যের পথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রথমে ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আলভারেজ কেনার চেষ্টা করেছিল বার্সেলোনা, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর অফার দিয়েছে। ফলে বার্সেলোনাকে সেই দামের সঙ্গে টেক্কা দিতে হয়েছিল। আলভারেজকে না পেয়ে গ্যাব্রিয়েল হেসুসকে দলে ভেড়ানো হয়েছে। শেষ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের মিসর ও তুরস্ক থেকে ডমিনিক লিভাকোভিচ এবং হামজা আবদেলকরিমকে দলে ভিড়িয়েছে বার্সা। ব্যাকআপ খেলোয়াড় হিসেবে তারা দলে উপকারে আসবেন।
"লা লিগায় দলকে নিয়ে চিন্তার তেমন কিছু নেই, কিন্তু ইউরোপে জেতার জন্য ‘এক্স ফ্যাক্টর’ খেলোয়াড়ের অভাব রয়েছে। সেই ‘এক্স ফ্যাক্টর’টাই যেন বার্সেলোনা এখনো হাতড়ে বেড়াচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বার্সেলোনা, স্পেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হান্সি ফ্লিক, রবার্ট লেফানডফস্কি, ফেরান তোরেস, আনসু ফাতি, অ্যান্থনি গর্ডন, রদ্রি, করিম আদেমায়ি, গ্যাব্রিয়েল হেসুস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ মিলিয়ন ইউরো, ১১ মিলিয়ন ইউরো, ৮০ মিলিয়ন ইউরো, ৬০ মিলিয়ন ইউরো, ২২ মিলিয়ন ইউরো, ১০ মিলিয়ন ইউরো, ২৬ ম্যাচ, ৬ গোল, ১২ ম্যাচ, ১০ গোল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!