📌 বান্দরবানের পাহাড়ি মেয়ে ফুলকলি ত্রিপুরা গোলরক্ষক হিসেবে জাতীয় দলের স্বপ্ন দেখছেন। স্কুলের শারীরিক শিক্ষক ও জাতীয় দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমার অনুপ্রেরণায় তিনি একা একাই কৌশল শিখছেন এবং জেলা থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত পৌঁছানোর লক্ষ্যে লড়াই করছেন
বান্দরবানের পাহাড়ি উপত্যকায় বেড়ে ওঠা ফুলকলি ত্রিপুরা একদিন জাতীয় দলের গোলরক্ষক হতে চায়। শহরের মেয়েদের মতো পেশাদার প্রশিক্ষণ না পেলেও তিনি নিজের লড়াকু মনোভাবের মাধ্যমে ফুটবলের পথে অগ্রসর হচ্ছেন। বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী প্রতিদিন বিকেলে বাঁশের গোলপোস্ট দিয়ে নিজের কৌশল বিকশিত করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফুলকলি ত্রিপুরা গোলরক্ষক হিসেবে জাতীয় দলের স্বপ্ন দেখছেন
- 📌 শিক্ষক চৌনি মারমার পরামর্শে তিনি গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন, কারণ শিক্ষক বলেছিলেন তার হাত দুটো অনেক লম্বা
- 📌 জাতীয় দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমার ভিডিও দেখে তিনি একা একাই ডাইভ ও বল ধরার কৌশল শিখেছেন
- 📌 তার লক্ষ্য: জেলা দল থেকে শুরু করে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভাগীয় পর্যায়ে অংশ নেয়া, বিকেএসপি এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলা
- 📌 ফুলকলি বলেছেন, ‘রুপনা চাকমাই আমার মতো পাহাড়ের মেয়ে, তিনি যদি পারেন, আমি কেন পারব না?’
📰 বিস্তারিত
ফুলকলি ত্রিপুরার ফুটবলের পথে শুরু হয় স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে। কিন্তু তার প্রকৃত প্রতিভা প্রকাশ পায় যখন তিনি উপজেলা পর্যায়ের ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সেখানে তিনি দেখেন, অন্যরা বল জালে জড়িয়ে গোল করতে ব্যস্ত থাকলে তার আনন্দ আসে দারুণ শট ঠেকিয়ে গোল বাঁচানোর মাঝে। তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন শিক্ষক চৌনি মারমা তাকে বলেন, ‘তোমার হাত দুটো অনেক লম্বা, গোলকিপার হিসেবে তোমাকে দারুণ মানাবে’। সেই কথা থেকে তিনি স্ট্রাইকারের ভূমিকা ছেড়ে গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে শুরু করেন।
কোনো পেশাদার কোচ না থাকলেও তিনি থেমে থাকেননি। স্কুলের শারীরিক শিক্ষক এবং জাতীয় দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমার ভিডিও দেখে তিনি একা একাই ডাইভ দেওয়া ও বল ধরার কৌশল আয়ত্ত করেছেন। ফুলকলি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘রুপনা দিদিও তো আমার মতো পাহাড়ের মেয়ে। তিনি যদি জাতীয় দলের গোলবার সামলাতে পারেন, আমি কেন পারব না?’
বর্তমানে তার চোখ সুদূর প্রসারিত। প্রথমে জেলা দলে সুযোগ পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি লড়াই করছেন। তার পরের লক্ষ্য হলো ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভাগীয় পর্যায়ে নিজের মেধার প্রমাণ দেওয়া। তার পরের লক্ষ্য হলো বিকেএসপি এবং সর্বশেষ লাল-সবুজ জার্সিতে জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। কোটি মানুষের সামনে জাতীয় সংগীতের সময় গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করার সেই সোনালী দিনের অপেক্ষায় তিনি দিন গুনছেন।
"রুপনা দিদিও তো আমার মতো পাহাড়ের মেয়ে। তিনি যদি জাতীয় দলের গোলবার সামলাতে পারেন, আমি কেন পারব না?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা, কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফুলকলি ত্রিপুরা, শিক্ষক চৌনি মারমা, রুপনা চাকমা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৩ (৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!