📌 অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেছে এবং তিনজন আসামিকে পলাতক ঘোষণা করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে
ঢাকার একটি আদালতে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজন আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা বিচারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুত হয়েছে। আজ রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশিট গ্রহণ করেছেন। এতে তিনজন আসামিকে পলাতক ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আনিসুল হকসহ চারজন দুর্নীতির মামলায় বিচারের জন্য প্রস্তুত
- 📌 তিনজন আসামি পলাতক — তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
- 📌 আনিসুল হকের স্বনামে ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে
- 📌 বৈধ আয় থেকে ১৭২ কোটি টাকার অসংগতি পাওয়া গেছে
- 📌 ২৩টি ব্যাংক হিসাব থেকে ৭৩৭ কোটি টাকার লেনদেন সন্দেহজনক
📰 বিস্তারিত
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম প্রথম আলোকে জানান, মামলাটি এখন বিচারের জন্য প্রস্তুত। আদালতে আনিসুল হককে কারাগার থেকে হাজির করা হয়। অন্য তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। চার্জশিট গ্রহণ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছে আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হক, ভাগনে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে দেখা যায়, আনিসুল হকের বৈধ আয় থেকে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে নিট গ্রহণযোগ্য আয় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও, আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদ পাওয়া গেছে।
জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়াও, জেবুন্নেছা বেগমের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার এবং ১৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার রয়েছে।
তদন্তে আনিসুল হক ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাব থেকে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাব থেকে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
"মামলাটি এখন বিচারের জন্য প্রস্তুত। আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়েছে। অন্যরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনিসুল হক, জেবুন্নেছা বেগম হক, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইকবাল, মীর আহমেদ আলী সালাম, মো. জাহাঙ্গীর আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন আসামি, ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা সম্পদ, ১৭২ কোটি টাকা অসংগতি, ৭৩৭ কোটি টাকা লেনদেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!