📌 কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বসবাসকারী স্বপ্না আক্তার ২৫ বছর ধরে চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারের খরচ মেটাচ্ছেন। কিন্তু ঋণ, ভাঙা টিনের ঘর এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সংগ্রাম এখনো অব্যাহত। সরকারি সহায়তা ছাড়া তার জীবনে স্বস্তি আসেনি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার পশ্চিমপাড়া মহল্লায় বসবাসকারী স্বপ্না আক্তার ২৫ বছর ধরে চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া মানুষের ভিড়ের মধ্যেই নিজের সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দারিদ্র্য, ঋণ এবং ভাঙা টিনের ঘরে থাকার কষ্টের বাস্তবতা তাকে প্রতিদিনই মনে করিয়ে দেয় যে, তার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৫ বছর ধরে চায়ের দোকান চালিয়ে** সংসার চালাচ্ছেন স্বপ্না আক্তার, যিনি কটিয়াদী পৌরসভার পশ্চিমপাড়া মহল্লার বাসিন্দা
- 📌 **প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ টাকা চা বিক্রি** হলেও খরচ বাদ দিয়ে মাত্র ৫০০ টাকা লাভ হয়, যা ঋণ ও সংসারের খরচ মেটাতে যথেষ্ট নয়
- 📌 **স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর** ১৩ বছর বয়সে বিয়ে হওয়া স্বপ্নার হাতে পড়ে সংসারের দায়িত্ব, সন্তানদের বিদেশ পাঠানোর জন্য ধারদেনা নিতে হয়
- 📌 **সন্তানদের মধ্যে** মেয়ে লুচি আক্তার বিএ অনার্সে পড়াশোনা করছেন, কিন্তু ছেলে রুবেল (২৫) ও সাদ্দাম (২০) বিদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসেন
- 📌 **স্বপ্না কখনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পাননি**, তারপরও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি
📰 বিস্তারিত
স্বপ্না আক্তারের জীবন কষ্টের গল্প। শৈশবেই মা তাকে রেখে যান, সৎমায়ের কাছে বেড়ে ওঠেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঝাকালিয়া গ্রামের অহিদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ের সাত-আট বছর পর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হন স্বপ্না। কটিয়াদী বাজারের মুকুল সিনেমা হলের সামনে চায়ের দোকান খোলেন তিনি। সেই থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চায়ের দোকানেই কাটে তার সময়।
স্বপ্নার সংসারে রয়েছে স্বামী অহিদ মিয়া ও তিন সন্তান — এক মেয়ে ও দুই ছেলে। মেয়ে লুচি আক্তার বিএ অনার্সে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ছেলে রুবেল (২৫) ও সাদ্দাম (২০)কে ধারদেনা করে বিদেশ পাঠানোর পর সেখানে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসতে হয়। প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা চা বিক্রি হয়, কিন্তু খরচ বাদ দিয়ে মাত্র ৫০০ টাকা লাভ হয়। এই সামান্য আয় দিয়ে খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ঋণের চাপ এবং সংসারের অন্যান্য ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।
দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চা বিক্রি করে সংসারের হাল ধরে রাখলেও নিজের থাকার ঘরটি মেরামত করতে পারেননি স্বপ্না। ভাঙাচোরা টিনের ঘরই তার পরিবারের আশ্রয়স্থল। বৃষ্টি হলে কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ায় সেই ঘরে থাকতে কতটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা সহজেই অনুমেয়। স্বপ্না বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে সংসার চালালেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পাননি তিনি। অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে করতে জীবনের বড় একটি সময় পার হয়ে গেছে।
"দীর্ঘদিনের জমে থাকা কষ্ট আর হতাশার কথা তুলে ধরেন স্বপ্না। আমাদের বসবাস করার জন্য ভাঙা টিনের ঘরটি মেরামত করার সামর্থ্যও নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কটিয়াদী পৌরসভার পশ্চিমপাড়া মহল্লা, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বপ্না আক্তার, লুচি আক্তার, রুবেল (২৫), সাদ্দাম (২০), মো. অহিদ মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বছর (চায়ের দোকান চালানো), ১৩ বছর (বয়স), ১ হাজার ২০০ টাকা (দৈনিক আয়), ৫০০ টাকা (লাভ), ২৫ বছর (রুবেল), ২০ বছর (সাদ্দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!