📌 আধুনিক ভারতীয় শিল্পকলার বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী ৮৭ বছর বয়সে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেছেন। বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শিল্পী জীবনের স্মৃতি ও মানবমুক্তির চিত্রণে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন
আধুনিক ভারতীয় শিল্পকলার অন্যতম দিগন্তচ্যুত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কলকাতায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ৮৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণকারী এই শিল্পী বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ডহরপাড়া গ্রামের সন্তান ছিলেন। তাঁর জীবন ও শিল্পকর্মের গভীরতা নিয়ে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের স্মৃতি থেকে উঠে এসেছে তাঁর মানবমুক্তির প্রতি অটুট বিশ্বাসের গল্প।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮৭ বছর বয়সে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশের শিল্পী যোগেন চৌধুরী, যিনি আধুনিক ভারতীয় শিল্পকলায় আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- 📌 ১৯৩৯ সালে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ডহরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী যোগেন চৌধুরী ৯ বছর বয়স পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেছিলেন।
- 📌 শিল্পী জীবনের শুরুতে কলকাতায় চলে আসার পর তিনি মানবদেহের অভিব্যক্তি ও সমাজবাস্তবতার চিত্রণে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- 📌 শিল্পীর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার ও থিয়েটার অভিনেতা, যিনি নাটক 'কর্ণকুন্তী'র মঞ্চদৃশ্য তৈরি করেছিলেন।
- 📌 শিল্পী জীবনের স্মৃতি ও শৈশবের কাহিনী নিয়ে মতিউর রহমানের বই 'আকাশভরা সূর্যতারা'তে 'যোগেন চৌধুরী: মানবমুক্তিতে বিশ্বাসী' শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল।
- 📌 শিল্পী শান্তিনিকেতনে গণেশ পাইনের মাধ্যমে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের সাথে পরিচিত হন।
- 📌 শিল্পীর মা ইন্দুমতী চৌধুরী সুন্দর আলপনা ও কাঁথা করতেন, যা তাঁর শৈশবের স্মৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
📰 বিস্তারিত
শিল্পী যোগেন চৌধুরী ১৯৩৯ সালে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ডহরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৯ বছর বয়স পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেছিলেন। গ্রামের পাঠশালায় পড়াশোনা শুরু করার পর ১৯৪৮ সালে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। তাঁর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার এবং থিয়েটার অভিনেতা। তিনি নাটক 'কর্ণকুন্তী'র মঞ্চদৃশ্য তৈরি করেছিলেন এবং অভিনয়ও করতেন। শিল্পীর মা ইন্দুমতী চৌধুরী সুন্দর আলপনা ও কাঁথা করতেন, যা তাঁর শৈশবের স্মৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
শিল্পী জীবনের শুরুতে যোগেন চৌধুরী মানবদেহের অভিব্যক্তি ও সমাজবাস্তবতার চিত্রণে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর স্মরণে ছবি এঁকেছিলেন, যা বাংলাদেশের জন্য তাঁর হৃদয়ের সব ভালোবাসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পী জীবনের স্মৃতি ও শৈশবের কাহিনী নিয়ে মতিউর রহমানের বই 'আকাশভরা সূর্যতারা'তে 'যোগেন চৌধুরী: মানবমুক্তিতে বিশ্বাসী' শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল।
শিল্পী শান্তিনিকেতনে গণেশ পাইনের মাধ্যমে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের সাথে পরিচিত হন। মতিউর রহমানের মতে, শিল্পী জীবনের গল্প শোনার সময় তিনি সত্যিই ফিরে যেতেন তাঁর শৈশবের দূর-অতীতে। শিল্পী তাঁর শৈশবের কথা বলতে বলতে মনে পড়তেন সেই গ্রামের স্মৃতি, যেখানে তিনি বড় হয়ে উঠেছিলেন। তিনি বলতেন, '১৯৩৯ সালে আমার জন্ম। বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ডহরপাড়া গ্রামে। ৯ বছর বয়স পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম।'
শিল্পীর বাসায় গিয়ে মতিউর রহমানের সাথে অত্যন্ত সহজিয়া অন্তরঙ্গতা ছিল। শিল্পী তাঁর শিল্পীজীবনের অতীত ও বর্তমান নিয়ে অনেক কথা বলতেন। তিনি ইফফাত আরার রবীন্দ্রসংগীতের ক্যাসেট শুনে আবেগবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। শিল্পী জীবনের স্মৃতি ও শৈশবের কথা বলতে বলতে তাঁর চোখে জল আসত। তিনি বলতেন, 'আমাদের সেই ডহরপাড়া গ্রামের সবকিছু মনে পড়ে এখনো। সেসব কথা এখনো স্মৃতিতে আসা-যাওয়া করে।'
"আমাদের সেই ডহরপাড়া গ্রামের ছোটবেলার সবকিছু মনে পড়ে এখনো। সেসব কথা এখনো স্মৃতিতে আসা-যাওয়া করে। সবকিছু দেখতে পাই, হুবহু মনে পড়ে। কোথায় রান্নাঘর ছিল তার পেছনে পুকুর ছিল। সেই গ্রামে বড় আয়োজনে দুর্গাপূজা হতো। যাত্রা দেখতে যেতাম। স্কুল পালিয়ে মাছ ধরতাম। সেসব স্মৃতি এখনো বড় বেশি পিছু টানে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, শান্তিনিকেতন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: যোগেন চৌধুরী, মতিউর রহমান, গণেশ পাই, ইফফাত আরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৭ বছর (যোগেন চৌধুরীর বয়স), ৯ বছর (শৈশবের বয়স), ৯১ বছর (বাবার বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!