📌 বান্দরবানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের আনুষ্ঠানিক শুরু। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনের উৎসবে রথযাত্রা, ফানুস বাতি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে
বান্দরবানের পাহাড়ি পল্লিগুলোতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের আনন্দময় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ তিন দিনের এই উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা এবং হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা শহরের রাজার মাঠে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসব উদ্বোধন করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৫ অক্টোবর** সন্ধ্যায় বান্দরবানের রাজার মাঠে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
- 📌 **২৬ অক্টোবর** সকাল থেকে জেলার বৌদ্ধবিহারে অনুষ্ঠিত হবে ছোয়াইং দান, বুদ্ধপূজা ও সমবেত প্রার্থনা। বিকেলে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ময়ূর আকৃতির সুসজ্জিত রথ প্রদক্ষিণ করবে।
- 📌 রথযাত্রার শেষে রথটি **সাঙ্গু নদীতে** বিসর্জন দেওয়া হবে। সন্ধ্যায় ফানুস বাতি উত্তোলন ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের আয়োজন রয়েছে।
- 📌 প্রবারণা পূর্ণিমা মারমা সম্প্রদায়ের কাছে ‘ওয়াগ্যেই পোয়ে’ নামে পরিচিত। এটি বর্ষাবাস শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমায় উদ্যাপিত হয়।
- 📌 উৎসবের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বজগতের সব প্রাণীর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন এবং সম্প্রীতি ও অহিংসার বার্তা বহন করে।
📰 বিস্তারিত
বান্দরবানের পাহাড়ি পল্লিগুলোতে প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসবের আনন্দময় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ তিন দিনের এই উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা এবং হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা শহরের রাজার মাঠে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসব উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অনুষ্ঠানের পর স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমা মারমা সম্প্রদায়ের কাছে ‘ওয়াগ্যেই পোয়ে’ বা ‘ওয়াগ্যোই পোয়ে’ নামে পরিচিত। তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমায় এই উৎসব উদ্যাপিত হয়। এ সময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিহারে বিহারে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন এবং বিশ্বজগতের সব প্রাণীর শান্তি, মঙ্গল ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে অনুষ্ঠিত হবে ছোয়াইং দান, বুদ্ধপূজা ও সমবেত প্রার্থনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা, যেখানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেবেন। রথযাত্রা দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও সমাগম ঘটবে। এবারের উৎসবে ময়ূর আকৃতির একটি সুসজ্জিত রথ বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। রথযাত্রার শেষে রথটি সাঙ্গু নদীতে বিসর্জন দেওয়ার ঐতিহ্যবাহী আয়োজন রয়েছে।
সন্ধ্যায় আকাশে ফানুস বাতি উত্তোলন, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। প্রবারণা পূর্ণিমা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও অহিংসার বার্তাও বহন করে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করার পাশাপাশি সব প্রাণীর সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন। প্রতি বছর পূর্ণিমা তিথিতে উদ্যাপিত এই উৎসব বান্দরবানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
"প্রবারণা পূর্ণিমা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও অহিংসার বার্তাও বহন করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বান্দরবান জেলা শহর, রাজার মাঠ, সাঙ্গু নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ অক্টোবর (উদ্বোধন), ২৬ অক্টোবর (রথযাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!