📌 স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব এবং সবার ক্ষেত্রে স্তন অপসারণের প্রয়োজন হয় না। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেছেন, বাংলাদেশে প্রতি লাখ নারীর মধ্যে ২০-২২ জন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। সচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে রোগের জটিলতা কমে যায়
স্তন ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পরও মৃত্যু নয় — প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব এবং অনেক ক্ষেত্রে স্তন অপসারণের প্রয়োজন হয় না। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের ডিন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাসুদ করিম। তিনি ‘বিশ্বমানের ক্যানসার-চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই কথা বলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বাংলাদেশে প্রতি লাখ নারীর মধ্যে ২০-২২ জন** স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন — এখন এটি অন্যতম প্রধান ক্যানসার রোগ।
- 📌 **প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে নিরাময় সম্ভব** এবং অনেক ক্ষেত্রে স্তন অপসারণের প্রয়োজন হয় না — আক্রান্ত অংশটুকু অপসারণ করে স্তন সংরক্ষণ করা যায়।
- 📌 **স্তনে পিণ্ড, নিপল থেকে রক্তপাত, ত্বকের পরিবর্তন** — এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
- 📌 **বাংলাদেশে আধুনিক চিকিৎসা সুযোগ রয়েছে** — অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি থেকে শুরু করে টার্গেটেড থেরাপি পর্যন্ত সকল পদ্ধতি দেশেই পাওয়া যায়।
- 📌 **লজ্জা বা কুসংস্কার কারণে চিকিৎসা দেরি** হলে রোগের পর্যায় বাড়ে — অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হয় না।
📰 বিস্তারিত
‘পিংক অক্টোবর’ উপলক্ষে প্রথম আলো ও এসকেএফের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ডা. মাসুদ করিম বলেছেন, অতীতে নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার বেশি দেখা যেত, কিন্তু বর্তমানে স্তন ক্যানসার অন্যতম প্রধান রোগে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বংশগত বা জিনগত প্রবণতা ছাড়াও শারীরিক ও প্রজননসংক্রান্ত কারণগুলি এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, স্তনে চাকা বা দলা, নিপল থেকে রক্তপাত, ত্বক দেবে যাওয়া বা কমলার খোসার মতো পরিবর্তন, বা বগলে চাকা দেখা দিলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ডা. মাসুদ করিম সতর্ক করেছেন, স্তনে ব্যথা না থাকলেও ক্যানসারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। লজ্জা বা কুসংস্কারের কারণে অনেক নারী চিকিৎসা নিতে দেরি করেন, যা রোগের জটিলতায় অবদান রাখে।
স্তন ক্যানসার শনাক্তের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, রোগনির্ণয় করতে রোগীর পূর্ববর্তী মেডিক্যাল রিপোর্ট, শারীরিক পরীক্ষা এবং ইমেজিং টেস্ট (আলট্রাসনোগ্রাফি, ম্যামোগ্রাফি, এমআরআই) করা হয়। কোর নিডল বায়োপসি এবং রিসেপ্টর পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসারের ধরন নির্ধারণ করা হয়।
স্তন অপসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, রোগের পর্যায় ও রোগীর অবস্থা বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে স্তন সংরক্ষণ করা সম্ভব। অস্ত্রোপচারের আগে কেমোথেরাপি দিয়ে টিউমারের আকার কমানো হয়। ডা. মাসুদ করিম বলেন, বাংলাদেশে আধুনিক চিকিৎসা সুযোগ রয়েছে — সার্জন, রেডিওলজিস্ট, অনকোলজিস্টসহ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।
"স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অপেক্ষা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হতে পারে লজ্জা বা কুসংস্কারের কারণে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাসুদ করিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রতি লাখ নারীর মধ্যে ২০-২২ জন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!