📌 বাংলাদেশে শকুনের সংখ্যা দ্রুত কমছে। কামারখন্দের ১০৪ বছর বয়সী জসিম উদ্দিনের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, শকুন মৃত প্রাণীর চারপাশে ঘোরে এবং তাদের বাসা বাঁধে বিশাল গাছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ আনোয়ারুল হক জানান, বিশ্বে ১৮ প্রজাতির শকুন থাকলেও বাংলাদেশে মাত্র ৫ প্রজাতি বর্তমান। শকুনকে বাঁচাতে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শনিবার পালিত হয় আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস
গ্রাম বাংলার রূপকথা থেকে শুরু করে প্রাচীন বিশ্বাসের একটি অংশ ছিল শকুনের সাথে জড়িত। দাদি-নানিরা বলতেন, ‘মরার হগুন উড়ত্যাছে-গোয়াল ঘরে ধুমা দে’ — শকুনের উপস্থিতি মৃত্যুর পূর্বাভাস দেয়। এই বিশ্বাসের কারণে বউ-ছেলে-মেয়েরা গোয়ালের গরু রক্ষায় মাটির পাত্রে তুষের আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া দিত। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই অন্ধ বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে, আর শকুনও বিলুপ্তির পথে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কামারখন্দের ১০৪ বছর বয়সী জসিম উদ্দিনের স্মৃতিচারণে শকুন মৃত প্রাণীর চারপাশে ঘোরে এবং বাসা বাঁধে বিশাল গাছে যেমন বট, পাকুড়, ডুমুর
- 📌 শকুনের মাথা, গলা ও ঘাড়ে কোনো পালক নেই এবং তারা প্রশস্ত ডানায় ভর করে আকাশের উচ্চতায় উড়ে বেড়ায়
- 📌 বিশ্বে ১৮ প্রজাতির শকুন থাকলেও বাংলাদেশে বর্তমানে মাত্র ৫ প্রজাতি — বাংলা শকুন, সরুর ঠোঁটিশকুন, রাজশকুন, কালোশকুন, হিমালয়ান শকুন
- 📌 ডাঃ লিন্ডসে’র গবেষণায় প্রমাণিত, শকুন মৃতদেহ খেয়ে পরিবেশ রক্ষা করে এবং রোগ সংক্রমণ রোধে ভূমিকা রাখে
- 📌 শকুনকে বাঁচাতে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শনিবার পালিত হয় আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস
📰 বিস্তারিত
শকুনের উপস্থিতি প্রাচীনকাল থেকে মানুষের জীবনে একটি বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে। কামারখন্দ উপজেলার বয়োবৃদ্ধ জসিম উদ্দিন (১০৪) বলেন, শকুন অসুস্থ বা মৃত প্রাণীর চারিদিকে শিকারী পাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে অপেক্ষা করে। এদের চক্রাকার ঘোরা স্বভাব রয়েছে এবং কোনো শকুন মাটিতে নামলে অন্যরা তাকে অনুসরণ করে হামলা করে। এদের বাসা সাধারণত বট, পাকুড় বা ডুমুর গাছের কোটরে পড়ে, যেখানে তারা ১ থেকে ৩টি সাদা বা ফ্যাকাসে ডিম পাড়ে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ এ কে এম আনোয়ারুল হক জানান, বিশ্বে প্রায় ১৮ প্রজাতির শকুন দেখা যায়, কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে মাত্র ৫ প্রজাতির শকুন বাস করে। এগুলো হলো বাংলা শকুন, সরুর ঠোঁটিশকুন, রাজশকুন, কালোশকুন এবং হিমালয়ান শকুন। এছাড়াও, হিমালয়ান শকুন এবং ইউরেশীয় শকুন অতিথি পাখি হিসেবে বাংলাদেশে আসে। শকুনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো রোগাক্রান্ত মৃত প্রাণী খেয়ে পরিবেশকে পরিষ্কার রাখা।
মেডিসিন গবেষক ডাঃ লিন্ডসে’র গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, শকুন মৃতদেহ খেয়ে অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা এবং খুরারোগের সংক্রমণ থেকে জীবকুলকে রক্ষা করে। তবে বাংলাদেশে শকুনের সংখ্যা দ্রুত কমছে। ডাইক্লোফেনাকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং মানুষের অত্যাচারই এর প্রধান কারণ। গ্রাম বাংলায় শকুনকে হত্যা করা একটি সাধারণ ঘটনা। কেউ ঢিল ছুড়ে, কেউ দড়ির ফাঁদ তৈরি করে বেঁধে রাখে, আবার কেউ পা ভেঙে দেয় বা পিটিয়ে হত্যা করে।
"শকুনই একমাত্র প্রাণী, যা রোগাক্রান্ত মৃত প্রাণি খেয়ে হজম করতে পারে। মানুষের পক্ষে যাকিছু ক্ষতিকর সেসব আবর্জনাই খেয়েই তারা পরিবেশকে পরিছন্ন রাখে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কামারখন্দ উপজেলা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জসিম উদ্দিন (১০৪), ডাঃ এ কে এম আনোয়ারুল হক, ডাঃ লিন্ডসে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৪ বছর বয়স, ১৮ প্রজাতি (বিশ্বে), ৫ প্রজাতি (বাংলাদেশে), ১-৩টি ডিম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!