📌 বিজ্ঞানীরা নতুন গবেষণায় জানিয়েছেন, পৃথিবীর পানি তার নিজস্ব পাথুরে কাঁচামাল থেকে তৈরি হয়েছিল। নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, পৃথিবীর শিলা ও হাইড্রোজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শত শত মহাসাগরের পানি তৈরি হয়েছিল
বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তর পেয়েছে নতুন গবেষণা। পৃথিবীর পানি কোথা থেকে এসেছে তা নিয়ে বিতর্ক চলছিল। কিন্তু নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, পৃথিবীর পানি তার নিজস্ব পাথুরে কাঁচামাল থেকে তৈরি হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর শিলা ও হাইড্রোজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শত শত মহাসাগরের পানি তৈরি হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, পৃথিবীর পানি তার নিজস্ব পাথুরে কাঁচামাল থেকে তৈরি হয়েছিল, বাইরের কোনো উৎসের প্রয়োজন ছিল না
- 📌 প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর উত্তপ্ত বায়ুমণ্ডলে আয়রন অক্সাইড ও হাইড্রোজেনের বিক্রিয়ায় পানি ও লোহা তৈরি হয়েছিল
- 📌 পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উত্তপ্ত শিলায় ৮০ শতাংশ আয়রন অক্সাইড ধাতব লোহায় রূপান্তরিত হয় এবং পানি তৈরি হয়
- 📌 বিজ্ঞানী জ্যাকারি শার্পের নেতৃত্বে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, শত শত মহাসাগরের সমপরিমাণ পানি এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছিল
- 📌 এই আবিষ্কার গ্রহ গঠনের নতুন ধারণা ‘পেবল অ্যাক্রিশন’কে সমর্থন করে, যা পৃথিবীর পানি বাইরের উৎস থেকে আসার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের বিতর্কের উত্তর পেয়েছে নতুন গবেষণা। পৃথিবীর পানি কোথা থেকে এসেছে তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ ছিল। কেউ কেউ মনে করতেন, পানি বাইরের উৎস থেকে এসেছে, যেমন গ্রহাণু বা ধূমকেতু। কিন্তু নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, পৃথিবীর পানি তার নিজস্ব পাথুরে কাঁচামাল থেকে তৈরি হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর শিলা ও হাইড্রোজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শত শত মহাসাগরের পানি তৈরি হয়েছিল।
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর উত্তপ্ত বায়ুমণ্ডলে আয়রন অক্সাইড ও হাইড্রোজেনের বিক্রিয়ায় পানি ও লোহা তৈরি হয়েছিল। বিজ্ঞানী জ্যাকারি শার্পের নেতৃত্বে গবেষণায় দেখা গেছে, শিলার নমুনা ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উত্তপ্ত করে হাইড্রোজেনের প্রবাহে রাখলে, ৮০ শতাংশ আয়রন অক্সাইড ধাতব লোহায় রূপান্তরিত হয় এবং পানি তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় শত শত মহাসাগরের সমপরিমাণ পানি তৈরি হয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা পরীক্ষায় হিলিয়ামের প্রবাহে রাখা শিলায় কোনো বিক্রিয়া ঘটেনি, যা প্রমাণ করে যে, উত্তপ্ত হাইড্রোজেন বায়ুমণ্ডলই মূল চাবিকাঠি ছিল। বিজ্ঞানী জ্যাকারি শার্প বলেছেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম যে রিডাকশন পরীক্ষায় লোহা ও পানি তৈরি হবে, তবে কতটা দ্রুত ও কী পরিমাণে হবে, তা জানার উপায় ছিল না। আমাদের গবেষণার হিসাব থেকে দেখা গেছে, এ প্রক্রিয়ায় শত শত মহাসাগরের সমপরিমাণ পানি তৈরি হয়েছিল।’
এই আবিষ্কার গ্রহ গঠনের নতুন ধারণা ‘পেবল অ্যাক্রিশন’কে সমর্থন করে, যা পৃথিবীর পানি বাইরের উৎস থেকে আসার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই আবিষ্কার দূরবর্তী গ্রহে প্রাণের সন্ধানে বড় প্রভাব ফেলবে।
"আমরা আশা করেছিলাম যে রিডাকশন পরীক্ষায় লোহা ও পানি তৈরি হবে, তবে কতটা দ্রুত ও কী পরিমাণে হবে, তা জানার উপায় ছিল না। আমাদের গবেষণার হিসাব থেকে দেখা গেছে, এ প্রক্রিয়ায় শত শত মহাসাগরের সমপরিমাণ পানি তৈরি হয়েছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পৃথিবী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানী জ্যাকারি শার্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫০ কোটি বছর, ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৮০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!