📌 যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, টেস্টোস্টেরন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মস্তিষ্কের 'হিপোক্যাম্পাস' অঞ্চলে নতুন স্নায়ুকোষের টিকে থাকার হার বাড়ায়। বিশেষ করে, ১৬ থেকে ৩০ দিনের সময়কালে হরমোনের প্রভাব সর্বাধিক দেখা যায়। তবে গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর করা হয়েছে, মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রযোজ্যতা নিশ্চিত নয়
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মস্তিষ্কে নতুন স্নায়ুকোষের টিকে থাকার প্রক্রিয়ায় পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আবিষ্কার করেছেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, মস্তিষ্কের 'হিপোক্যাম্পাস' অঞ্চলে নতুন স্নায়ুকোষের টিকে থাকার হার টেস্টোস্টেরনের উপস্থিতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। বিশেষ করে, কোষের বিকাশের পরবর্তী পর্যায়ে (১৬ থেকে ৩০ দিন) এই হরমোনের প্রভাব সর্বাধিক পরিলক্ষিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, টেস্টোস্টেরন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ইঁদুরের মস্তিষ্কে নতুন স্নায়ুকোষের টিকে থাকার হার বাড়ায়, বিশেষ করে হিপোক্যাম্পাসের 'ডেন্টেট গাইরাস' অঞ্চলে।
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, টেস্টোস্টেরন ৩০ দিন ধরে দেওয়া ইঁদুরদের ডেন্টেট গাইরাসে নতুন কোষের টিকে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 প্রথম ১৫ দিনের তুলনায়, শেষ ১৬ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে টেস্টোস্টেরন দেওয়া ইঁদুরদের কোষের টিকে থাকার হার বেশি বেড়েছে।
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, টেস্টোস্টেরন নতুন স্নায়ুকোষের সংখ্যা বাড়ায় না, বরং সেগুলোকে দীর্ঘদিন টিকে রাখতে সাহায্য করে।
- 📌 গবেষণা ইঁদুরের ওপর করা হয়েছে, মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রযোজ্যতা নিশ্চিত নয়। টেস্টোস্টেরন মানুষের স্মৃতিশক্তি বা স্নায়ুক্ষয়ী রোগ প্রতিরোধে সরাসরি ভূমিকা রাখার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ইঁদুরের ওপর একটি পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, টেস্টোস্টেরন নতুন স্নায়ুকোষের টিকে থাকার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ইঁদুরদের অণ্ডকোষ অপসারণ করা হয়, যাতে শরীরের নিজস্ব টেস্টোস্টেরনের প্রভাব বাদ দিয়ে হরমোনের একক প্রভাব পরীক্ষা করা যায়। গবেষকরা ইঁদুরদের তিনটি দলে ভাগ করে, একদলকে টানা ৩০ দিন, অন্য দুই দলকে প্রথম ১৫ দিন বা শেষ ১৫ দিন টেস্টোস্টেরন দেওয়া হয়। ফলাফলে দেখা যায়, টেস্টোস্টেরন ৩০ দিন ধরে দেওয়া ইঁদুরদের ডেন্টেট গাইরাসে নতুন কোষের টিকে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গবেষকদের নজরে আসে যে, কোষের বিকাশের পরবর্তী পর্যায়ে (১৬ থেকে ৩০ দিন) টেস্টোস্টেরনের প্রভাব সর্বাধিক। গবেষণায় আরও দেখা যায়, টেস্টোস্টেরন নতুন স্নায়ুকোষের সংখ্যা বাড়ায় না, বরং সেগুলোকে দীর্ঘদিন টিকে রাখতে সাহায্য করে। তবে গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর করা হয়েছে, মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রযোজ্যতা নিশ্চিত নয়।
গবেষণার মূল গুরুত্ব এর সম্ভাব্য ভবিষ্যতে। নতুন স্নায়ুকোষের টিকে থাকার প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে বোঝা গেলে ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তি হ্রাস বা স্নায়ুক্ষয়ী রোগ নিয়ে গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার যোগসূত্র থাকলেও, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়াই তার সরাসরি কারণ, এমন সিদ্ধান্তে এখনও পৌঁছানো যায়নি।
"টেস্টোস্টেরন নতুন স্নায়ুকোষের সংখ্যা বাড়ায় না, বরং সেগুলোকে দীর্ঘদিন টিকে রাখতে সাহায্য করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা (Journal Reference: Tatum W. Hamilton)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ দিন, ১৫ দিন, ১৬ থেকে ৩০ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!