📌 উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞানে ফেলের আশঙ্কায় ১৬ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থী মনে করতেন জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুই দশক পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন যে একটি পরীক্ষার ফল জীবনের মাপকাঠি নয়
১৬ বছর বয়সে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞানে ফেলের আশঙ্কায় মনে হয়েছিল জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই শিক্ষার্থীই কি না বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। তার অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, একটি পরীক্ষার ফল কখনোই মানুষের পুরো জীবনের মাপকাঠি হতে পারে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ বছর বয়সে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞানে ফেলের আশঙ্কায় শিক্ষার্থী মনে করতেন জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে।
- 📌 ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৪ ফল প্রকাশের দিন পর্যন্ত তিনি চুপিচুপি পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রের নম্বর হিসাব করতেন, কিন্তু পাস নম্বর পেতে পারছিলেন না।
- 📌 দুই দশক পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে একটি পরীক্ষার ফল জীবনের সফলতা নির্ধারণ করে না।
- 📌 নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিতে পাবলিক পরীক্ষার ফল ছিল শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠি।
- 📌 ফেলের ভয়ে শিক্ষার্থী মনে করতেন পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হবে এবং প্রতিবেশীদের চোখে ছোট হয়ে যাবেন।
📰 বিস্তারিত
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞানে ফেলের আশঙ্কায় মনে হয়েছিল জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে। মা–বাবার প্রত্যাশা, পরিবারের সম্মান আর প্রতিবেশীদের চোখে ছোট হয়ে যাওয়ার ভয় এমনভাবে চেপে বসেছিল যে জীবনের ছোট ছোট আনন্দও একসময় ম্লান হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেদিন সত্যিই ফেল হয়েছিল। কিন্তু জীবন থেমে থাকেনি।
২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই পেটের ভেতরটা খামচে ধরত। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম, আলিফ লায়লার মতো কোনো দৈত্য-দানবের সাহায্য ছাড়া এবার পাস করা সম্ভব নয়। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলিতে পাবলিক পরীক্ষার ফল ছিল বিরাট এক বিষয়। পঞ্চম শ্রেণি থেকে শুরু করে প্রতিটি পরীক্ষার আগে-পরে শুনতে হতো, ‘এই পরীক্ষার ফলের ওপরই তোমার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে’।
ফল প্রকাশের তারিখ ছিল ২৭ সেপ্টেম্বর। দিন যত ঘনিয়ে আসছিল, তত বাড়ছিল উদ্বেগ। রাতে ঘুম ভেঙে বাথরুমে গিয়ে পদার্থবিজ্ঞানের দুই পত্রের প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখতাম। যোগ-বিয়োগ করে হিসাব করতাম। দিনের বেলাতেও চুপিচুপি একই কাজ করতাম। কিন্তু কোনোভাবেই দুই পত্র মিলিয়ে পাস নম্বরে পৌঁছাতে পারছিলাম না। নব্বইয়ের দশকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না। শিক্ষিত সন্তানই ছিল দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে বড় আশ্রয়। নিজেরা খেয়ে না খেয়ে, পুরোনো বা ছেঁড়া জামা পরে মা–বাবা সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতেন। বিনিময়ে সন্তানের কাছ থেকে প্রত্যাশা করতেন ভালো ফল।
ফেল করার ভয়ে পালাতে চেয়েছিলাম। শৈশবে একবার ঢাকা আসার পথে ফরিদগঞ্জ লঞ্চঘাটে হারিয়ে গিয়েছিলাম। ওই দিনগুলোতে বারবার মনে হতো, সেবার মা–বাবা যদি আমাকে আর খুঁজে না পেতেন, তাহলে হয়তো ভালোই হতো! ভাবতাম, আশপাশের মানুষ কী বলবে? বাবা পরদিন অফিসে গিয়ে সহকর্মীদের কী বলবেন? মা প্রতিবেশীদের মুখোমুখি হবেন কীভাবে? পরিবারের মধ্যে প্রথম ফেল করা শিক্ষার্থী হতে যাচ্ছি আমি। আমার রাগী বাবার সামাজিক সম্মানও কি এতে ক্ষুণ্ন হবে না?
"আমার জীবনের লক্ষ্য রচনায় যা-ই লিখি না কেন, জীবনের আসল লক্ষ্য ছিল মা–বাবাকে খুশি করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: একজন শিক্ষার্থী (১৬ বছর বয়সে)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ (সেপ্টেম্বর), ১৬ (বয়স), ২৫ (সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!