📌 দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পর পা দিয়ে লেখা শিখে জিপিএ-৫ পেয়েছেন চট্টগ্রামের রফিকুল ইসলাম। তিনি মাধ্যমিকেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন
দুর্ঘটনায় দুই হাত হারানোর পর পা দিয়ে লেখা শিখে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন চট্টগ্রামের রফিকুল ইসলাম। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এই ফলাফল অর্জন করেছেন। এছাড়াও মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রফিকুল ইসলাম** দুর্ঘটনায় ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর দুই হাত হারান। এরপর মুখ দিয়ে লিখে প্রাথমিক পরীক্ষা দেন, পরে পা দিয়ে লেখা শিখেন।
- 📌 **পা দিয়ে লেখা** শিখে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।
- 📌 **চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সাবরগ্রামের** বাসিন্দা রফিকুল, বাবা-মা দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
- 📌 **আইসিডিডিআরবির** জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী ও একজন শিক্ষক তার পড়াশোনার খরচ বহন ও কোচিং দেন।
- 📌 **২০ কিলোমিটার দূরত্বের** কলেজে যাতায়াতের সমস্যা ও অর্থের অভাবের কারণে নিয়মিত ক্লাস করতে পারতেন না।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের পূর্ব হাসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (২২) দুর্ঘটনায় দুই হাত হারানোর পর পা দিয়ে লেখা শিখে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এই ফলাফল অর্জন করেছেন।
২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণে রফিকুলের দুই হাত কেটে ফেলতে হয়। দুর্ঘটনার পর তিনি প্রথমে মুখ দিয়ে লিখে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়েছিলেন। পরে পা দিয়ে লেখা শিখে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠেন। উপজেলার হাজী টিএসি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পান। এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।
রফিকুলের এইচএসসির ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিনি ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রসায়ন ও জীববিজ্ঞানে ‘এ’ প্লাস পেয়েছেন। বাকি বিষয়গুলোয় পেয়েছেন ‘এ’ গ্রেড। তিনি এলাকায় ‘রাব্বি’ নামে পরিচিত। বাবা বজলুর রহমান জাহাজভাঙা শ্রমিক এবং মা রোজি আক্তার দিনমজুরের কাজ করেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
রফিকুলের বাবা বজলুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর দুই বছরের বেশি সময় ছেলেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তাঁকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে বাড়িঘরসহ সব সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এরপর শ্বশুরবাড়িতে একটি ঘরে থেকে দিনমজুরের কাজ করতেন। রফিকুলের পড়াশোনাসহ যাবতীয় খরচ বহন করছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী। এসএসসি পরীক্ষার পর প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে তিনি সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন।
"কলেজে যাতায়াতেই অনেক সময় চলে যেত। ফলে নিয়মিত ক্লাস করতে পারিনি। অনলাইনে ক্লাস করে এবং ইউটিউব ঘেঁটে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলাম"
রফিকুলের বাবা বলেন, ভাটিয়ারী থেকে কলেজের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। প্রতিদিন যাতায়াতে প্রায় ১০০ টাকা খরচ হতো। পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন করা কঠিন ছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চান। নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, আপাতত তাঁর লক্ষ্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। এ জন্য অনলাইনে বিভিন্ন কোর্স করছেন। পাশাপাশি ইউটিউবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিমূলক ভিডিও দেখছেন। ভবিষ্যতে সফল হয়ে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হওয়া মানুষদের সহযোগিতা করতে চান তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সাবরগ্রাম, ভাটিয়ারী ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রফিকুল ইসলাম (রাব্বি), বজলুর রহমান, রোজি আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫ (উচ্চমাধ্যমিক), ২০১৬ (দুর্ঘটনা), ২০ কিলোমিটার (দূরত্ব), ১০০ টাকা (যাতায়াত খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!